https://newsbdc.com/national/mvruttoobh
ভবিষ্যতের সব নির্বাচন মানসম্মত করাই ইসির লক্ষ্য: সিইসি
শুধু একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন নয়, ভবিষ্যতের প্রতিটি নির্বাচনে একই মান বজায় রাখার টেকসই সংস্কৃতি গড়ে তোলাই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা ধরে রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও উন্নত নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করবে কমিশন। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও এ মান বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
নভেম্বরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে নভেম্বরের মধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান সিইসি। তাঁর মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হলেও প্রার্থীদের পেছনে রাজনৈতিক দলের সমর্থন থাকতে পারে। তাই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
ষষ্ঠ দিনেও মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে দুষ্কৃতিকারী ও শ্রমিকদের সংঘর্ষ ৯ মিনিট আগে
তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। নির্বাচনে জালিয়াতি হলে প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে ওঠে না।
ইউপি নির্বাচনে সিসি ক্যামেরা ও কঠোর নজরদারি
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে জানিয়ে সিইসি বলেন, আইনগতভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ এবং আদালতের নির্দেশনার আওতায় থাকা ইউনিয়ন পরিষদগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রতি ধাপে প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার ইউপিতে নির্বাচন হতে পারে।
ইউপি নির্বাচনে সহিংসতাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের শরীরে ক্যামেরা ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।
আরও পড়ুন
রাজধানীর কল্যাণপুরে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৪ যাত্রী নি/হত ১৮ মিনিট আগে
সিইসি বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং অনিয়মের ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
চাপমুক্ত পরিবেশে কাজ করছে কমিশন
নির্বাচন কমিশনের ওপর কোনো পক্ষের চাপ নেই বলে দাবি করেন সিইসি। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রার্থীদের সহযোগিতাও জরুরি।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পোস্টাল ভোটিং এবং প্রবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণির ভোটারের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ তৈরিকে কমিশনের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
আরও পড়ুন
গাজীপুরে খুলেছে বেশির ভাগ কারখানা, সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ২১ মিনিট আগে
ভোটার তালিকা হালনাগাদে নতুন তথ্য
নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনাকে অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন সিইসি। তিনি বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে প্রায় ৭৭ হাজার কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ কার্যক্রমে প্রায় ১০ লাখ নারী ভোটারকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ২১ লাখের বেশি মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্ভুল ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা মানুষের আস্থা ফেরানোর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাংবাদিক ও অভিযোগ প্রতিকারব্যবস্থা
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে সিইসি বলেন, সাংবাদিকেরা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তবে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে নীতিমালা অনুসরণ করে পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র কমিশন থেকে এবং স্থানীয় পর্যায়ের সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে প্রেস ক্লাবের সঙ্গে আলোচনা করে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।
আরও পড়ুন
দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা পোশাকখাত ধ্বংসের চেষ্টা করছে, মত বিশ্লেষকদের ২৪ মিনিট আগে
স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনী অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। কালো টাকা ব্যবহার, ভোট কেনা কিংবা আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান সিইসি।
১০ মাস থেকে এক বছরে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন
দেশের সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সম্পন্ন করতে ১০ মাস থেকে এক বছর সময় লাগতে পারে বলে জানান সিইসি। প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর পৌরসভা নির্বাচন আয়োজনের কথা ভাবছে কমিশন।
নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণে এসএসসি পরীক্ষাসহ অন্যান্য পরীক্ষা এবং বর্ষা মৌসুমে সম্ভাব্য বন্যার বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন
ধর্মের অপব্যবহার ও রাজনৈতিক ফায়দা লোটার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ১০ ঘণ্টা আগে
নারী ও তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণে গুরুত্ব
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ানোকে বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন সিইসি। পরিবার ও সমাজের নিরুৎসাহ, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানিকে নারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। এ পরিস্থিতি বদলাতে রাজনৈতিক দলসহ সমাজের বিভিন্ন পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।
তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেন সিইসি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে যাঁদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তাঁরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। ভোটার হওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সবশেষে সিইসি বলেন, ভবিষ্যতের নির্বাচনেও স্বচ্ছতা বজায় রাখা, অনিয়ম প্রতিরোধ এবং ভোটারদের নিরাপদে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কমিশন কাজ করবে। এ লক্ষ্য অর্জনে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক ও ভোটারসহ সব অংশীজনের সহযোগিতা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।