https://newsbdc.com/national/mvyu8aywy6
শ্রমিক অসন্তোষে সাবেক এমপি-মন্ত্রী পরিচয়ের শিল্প মালিকদের ইন্ধনের অভিযোগ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
গার্মেন্টস খাতে শ্রমিক অসন্তোষ ও সহিংসতা সৃষ্টির পেছনে নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাবেক সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পরিচয়ধারী কিছু শিল্প মালিকের ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে যারা অস্থিরতা সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে, তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিক সংগঠন, গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন এবং সরকারের আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি ছিল। সরকার কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই এ বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেয়। মালিকপক্ষ তাদের প্রতিনিধির নাম দিলেও শ্রমিক সংগঠনগুলো নাম দিতে কয়েক দিন সময় নেয়। সর্বশেষ গত পরশু রাতে তারা প্রতিনিধিদের নাম দেয়।
তিনি বলেন, 'শ্রমমন্ত্রী সাহেব গতকাল সকালে একই নামগুলো নিয়ে, শ্রমিক মালিক পক্ষের নাম নিয়ে যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মজুরি বোর্ড গঠন করেছেন। সেটা আপনারা গতকালকেই সকালে টিবি স্ক্রল নিউজে দেখেছেন এবং সারাদিন সেটা প্রচারিত হয়েছে।'
আরও পড়ুন
ধর্মের অপব্যবহার ও রাজনৈতিক ফায়দা লোটার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ৯ ঘণ্টা আগে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজই বোর্ডের প্রথম সভা হতে পারে। তা না হলে খুব স্বল্পতম সময়ের মধ্যে তারা বসবেন। আলোচনা করে সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই যত দ্রুত সম্ভব ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে ঘোষণা করা হতে পারে।
তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, পরামর্শ দিয়েছেন যাতে শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ হয়, তাদের জীবনমানের উন্নতি হয় এবং তাদের সমস্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে অত্যন্ত সহানুভূতির সাথে সেই বিষয়টা নির্ধারিত হয়।'
মন্ত্রী বলেন, আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত এমনিতেই তিন বছর পূর্ণ হওয়ার সময়সীমা রয়েছে। বোর্ড সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবতার নিরিখে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করবে। এ নিয়ে অসন্তোষের কোনো কারণ নেই।
শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধনের অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত কিছুদিন ধরে পতিত স্বৈরাচারের ফ্যাসিবাদের সমর্থিত কিছু পক্ষ নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
আরও পড়ুন
৫ অতিরিক্ত আইজিপিসহ পুলিশের ৭ কর্মকর্তার একযোগে বদলি ১০ ঘণ্টা আগে
তিনি বলেন, 'কিছু শিল্প মালিক মিল মালিকেরা জড়িত আছেন এবং কিছু শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে যারা শ্রমিকদের কল্যাণ চায় কিনা, সেটা প্রশ্নবিদ্ধ। সেই সমস্ত কিছু লোকজন এই অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, সহিংসতা সৃষ্টি করেছে। এবং রাস্তায় আন্দোলনের নামে তারা দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার পায়তারা করছে, যেটা কোনোভাবেই শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ করবে না।'
মন্ত্রী বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে যারা শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড, আইনশৃঙ্খলা বিরোধী কাজ এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, 'আমরা গতকালকেই সেই রকম কিছু ব্যক্তিকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি এবং তাদের সেই সমস্ত কর্মকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ এবং কিছু কিছু প্রমাণ আমরা সংগ্রহ করেছি। অডিও আছে, ভিডিও আছে এবং বিভিন্ন সহিংস ঘটনার সচিত্র ভিডিও ক্লিপ আছে, আপনাদের কাছেও আছে।'
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনে শ্রমিক নন, এমন ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সরকার ও মালিকপক্ষের আলোচনায় এসেছে। মালিকদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে যেসব শিল্প মালিক ও কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে, তাদের তালিকা দিতে মালিকপক্ষকে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, কিছু শ্রমিক নেতা অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এসব সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামের তালিকাও মালিকপক্ষের কাছে চাওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
সংবিধানের মূলনীতি ধারণ করে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে হবে: ড. কামাল ১০ ঘণ্টা আগে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, কোনো শ্রমিক এবং কোনো শ্রমিক সংগঠন শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থাকতে পারেন না। যারা অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, আপনারাই বললেন যে তারা কিছু পতিত শক্তির চিহ্নিত দুষ্কৃত এখানে আছে। তারা শ্রমিক নয়।'
তিনি আরও বলেন, প্রকৃত শ্রমিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা কখনো নিজেদের কর্মসংস্থান বিনষ্ট হোক, তা চাইতে পারেন না। গত কয়েক দিনের অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টায় প্রকৃত শ্রমিক বা শ্রমিক সংগঠনের নেতারা জড়িত নন বলে সরকার বিশ্বাস করে। কেউ ভুলক্রমে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে থাকলে তাদের তা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সরকারের নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা ছিল। এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। মালিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও যোগাযোগের জন্য ফোকাল পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, 'আপনারা জানেন, 'সুরক্ষা অ্যাপস' নামে আমাদের একটা অ্যাপস আছে, সেটা নির্বাচনের সময়, পূজোর সময়, বিভিন্ন সময় আমরা এই অ্যাপসটা ব্যবহার করে থাকে যাতে যেকোনো মুহূর্তের যেকোনো জায়গার তথ্য সবাই একই সাথে আদান-প্রদান করতে পারে, শেয়ার করতে পারে। তার মাধ্যমে ২৪ আওয়ার্স মনিটরিং করা হবে। পুলিশ হেডকোয়ার্টারে একটা কন্ট্রোল রুম স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেখান থেকে আমরা মনিটর করব।'
আরও পড়ুন
প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি ১০ ঘণ্টা আগে
কিছু শিল্প মালিকের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তিনি বলেন, 'অবশ্যই আছে। যাদের একটি রাজনৈতিক পরিচয় ছিল, আমি নিষিদ্ধ সংগঠনের, তারা হয়তো কোনো কোনো সময় কেউ এমপি ছিল, কেউ মন্ত্রী ছিল, প্রতিমন্ত্রী ছিল। সেই সমস্ত শিল্প মালিকরা যাদের কথা বললাম, তারা এই সমস্ত অস্থিরতার পিছনে কাজ করছে বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে এবং সেটা প্রমাণিত হয়েছে।'
মন্ত্রী বলেন, কোনো শিল্প কারখানা বন্ধ হোক, সরকার তা চায় না। কারণ এর সঙ্গে শ্রমিকদের রুটি-রুজির বিষয় জড়িত। কেউ যেন কর্মহীন হয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সরকার সচেষ্ট।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সোমবার বিকেল ৩টায় শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবে সরকার। সকালে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিকেলে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের মতামত ও পরামর্শ নেওয়া হবে। সেসব মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সরকার শিল্পবান্ধব, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যবান্ধব। রপ্তানি বৃদ্ধি, দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে উৎসবের আমেজ খুলনায়, উন্নয়ন নিয়ে প্রত্যাশা ১০ ঘণ্টা আগে
শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কায় গত ১৮ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে শ্রম মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়ার বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রস্তুতি ছিল। শ্রম মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের নাম আরও আগে পাওয়া গেলে মজুরি বোর্ডও আগে গঠন করা যেত। সবকিছু আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'এই সময়টা আমরা এই জন্যই দিয়েছি যে শ্রম মালিকরা, শ্রম সংগঠনের শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দও তারা বুঝুক এবং শিল্প মালিকরাও যাতে তারা বুঝতে পারে যে অভ্যন্তরে আসলে কী ষড়যন্ত্রটা হচ্ছে। এখন সবার কাছে সবকিছু পরিষ্কার।'
তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহিংসতা ও অস্থিরতা সৃষ্টির যেকোনো চেষ্টা কঠোর হাতে দমনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল থেকেই এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।