https://newsbdc.com/national/mvyx06ywxi
রেমিট্যান্সে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয় ছাড়াল ১৭ বিলিয়ন ডলার
ইতিবাচক ধারায় রয়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহ। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের গত চার মাসের প্রতি মাসেই রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ফলে চার মাসে রেমিট্যান্স আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেড়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অপর প্রধান উৎস রপ্তানিও বেড়েছে। তবে প্রবৃদ্ধির গতি কম। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৬ শতাংশ।
গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রপ্তানির হালনাগাদ তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, গত জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে প্রায় এক হাজার ১৪৬ কোটি ডলার বা ১১ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল এক হাজার ১৫ কোটি ডলার বা ১০ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার।
আরও পড়ুন
ধর্মের অপব্যবহার ও রাজনৈতিক ফায়দা লোটার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ৯ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, রেমিট্যান্স গত জুলাইয়ে ১৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ, আগস্টে ২২ দশমিক ৫৩ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে ৩ শতাংশ, অক্টোবরে ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত চার মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে আগস্টে। মাসটিতে প্রায় ২৯৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এ ছাড়া জুলাইয়ে ২৮৬ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৭৭ কোটি ডলার ও অক্টোবরে ২৮৭ কোটি ডলারের মতো রেমিট্যান্স এসেছে।
এদিকে গত জুলাই-অক্টোবর সময়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় এক হাজার ৭০৮ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক শূন্য ৮ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল প্রায় এক হাজার ৬১৪ কোটি ডলার বা ১৬ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
আরও পড়ুন
৫ অতিরিক্ত আইজিপিসহ পুলিশের ৭ কর্মকর্তার একযোগে বদলি ১০ ঘণ্টা আগে
ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুধু অক্টোবর মাসে পণ্য রপ্তানিতে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আর আগের মাস সেপ্টেম্বরের তুলনায় গত অক্টোবরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১ শতাংশের মতো।
গত অক্টোবর মাসে ৩৯৯ কোটি ডলারের রপ্তানি আয় এসেছে। এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে রপ্তানি আয় হয়েছিল প্রায় ৩৯৩ কোটি ডলার। আগস্টে এটি ছিল ৪৪৩ কোটি ডলার। আর গত জুলাইয়ে ৪৭৩ কোটি ডলারের রপ্তানি আয় আসে।
আরও পড়ুন
সংবিধানের মূলনীতি ধারণ করে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে হবে: ড. কামাল ১০ ঘণ্টা আগে
চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকে রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। এ খাতে রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ৩৭৪ কোটি ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল এক হাজার ২৯৯ কোটি ডলারের পোশাক। গত চার মাসে নিটওয়্যারে রপ্তানি প্রায় ৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়েছে। ওভেন পোশাকে রপ্তানি বেড়েছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ।
এ ছাড়া পাট ও পাটজাত পণ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে সাড়ে ১২ শতাংশ, হোম টেক্সটাইল প্রায় ৮ শতাংশ হারে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এসেছে। তবে কৃষিপণ্যের রপ্তানি আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ কমে গেছে। কমেছে হিমায়িত ও জীবন্ত মাছের রপ্তানিও।
আরও পড়ুন
প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি ১০ ঘণ্টা আগে
বিশ্লেষকদের মতে, সামগ্রিকভাবে রপ্তানি আয় পোশাকবহির্ভূত কয়েকটি খাতের সম্প্রসারণে সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ ধারা ধরে রাখতে পণ্যের মান ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো, নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং পিছিয়ে থাকা খাতগুলোর প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
রপ্তানি পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, রপ্তানি বাড়ছে। কিন্তু বার্ষিক লক্ষ্যে পৌঁছাতে শুধু এই ধারা ধরে রাখা যথেষ্ট নয়। প্রবৃদ্ধির গতি আরও বাড়াতে হবে।
আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে উৎসবের আমেজ খুলনায়, উন্নয়ন নিয়ে প্রত্যাশা ১০ ঘণ্টা আগে
উল্লেখ্য, গত এক দশকে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয়ে উত্থান-পতন দেখা গেছে। ২০১৬-১৭ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছর পর্যন্ত রপ্তানি আয়ে ধারাবাহিক ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ছিল। তবে ২০১৯-২০ অর্থবছরে করোনা অতিমারির প্রভাবে রপ্তানি আয় প্রায় ১৭ শতাংশ কমে যায়। পরবর্তী দুই অর্থবছরে রপ্তানি খাত ঘুরে দাঁড়ায় এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়।
তবে এ উচ্চ প্রবৃদ্ধির পর রপ্তানি আয়ে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দেয়। ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সংশোধিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী রপ্তানি আয় যথাক্রমে প্রায় ১১ ও ৪ শতাংশ কমে যায়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সাড়ে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে রপ্তানি আয় আবার ইতিবাচক ধারায় ফিরলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা ০.৫৮ শতাংশ কমে যায়।
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।