https://newsbdc.com/national/mv7o8neshs
এলপিজি সংকটে ক্রেতার ভোগান্তি, সিলিন্ডার মিলছে বাড়তি দামে
দেশের বিভিন্ন এলাকায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন ক্রেতারা। অনেক দোকানে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না, আবার কোথাও মিললেও গুনতে হচ্ছে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি। ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে কক্সবাজারে ২ হাজার ২০০ টাকা, নরসিংদীতে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং কিশোরগঞ্জে ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আগামী ১৫ ও ১৬ অক্টোবর দেশজুড়ে এলপিজি বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে চলমান সংকট আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে। তবে নির্ধারিত দামেও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৬০০ টাকারও বেশি দিতে হচ্ছে তাঁদের।
কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দা এমরান ফারুক অনিক জানান, দুই মাস আগে তিনি ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনেছিলেন ১ হাজার ৭০০ টাকায়। মঙ্গলবার গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ার পর নতুন সিলিন্ডার কিনতে তাঁকে দিতে হয়েছে ২ হাজার ২০০ টাকা। অর্থাৎ দুই মাসের ব্যবধানে একই পরিমাণ গ্যাস কিনতে তাঁর খরচ বেড়েছে ৫০০ টাকা।
আরও পড়ুন
নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, আটক ৫৬ জন ৭ ঘণ্টা আগে
অনিকের ভাষ্য, সীমিত আয়ের সংসারে রান্নার গ্যাসের পেছনে এত টাকা খরচ করায় অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়বে। নিত্যপণ্যের বাজারে বাড়তি ব্যয়ের চাপের মধ্যে গ্যাসের দামও বেড়ে যাওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁকে।
কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে সিলিন্ডারের সংকট ও বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাহারছড়া, নুনিয়াছড়া, কলাতলী, আলীর জাহাল, জেলগেট, পেশকারপাড়া, নুরপাড়া ও বাস টার্মিনাল এলাকায় অনেক দোকানে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। কোনো কোনো দোকানে মিললেও বিক্রেতারা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা চাইছেন।
আরও পড়ুন
বসিলায় ৪০ ফিট খাল পরিষ্কার, অভিযানে অংশ নিলেন ৬০০ স্বেচ্ছাসেবক ৭ ঘণ্টা আগে
নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ৫ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, ২৫ কেজির সিলিন্ডার ৪ হাজার ১০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা এবং ৪৫ কেজির সিলিন্ডার ৭ হাজার থেকে ৭ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে।
নরসিংদীর একটি রেস্তোরাঁর মালিক রেজাউল করিম জানান, সপ্তাহখানেক আগে তিনি ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং ৩৫ কেজির সিলিন্ডার ৪ হাজার টাকায় কিনেছিলেন। মঙ্গলবার নতুন করে গ্যাস কিনতে গিয়ে কোথাও সিলিন্ডার পাননি। অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ শহরের খরমপট্টি এলাকার বাসিন্দা বিজন কুমার সরকার জানান, ১২ কেজির সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা হলেও বিক্রেতারা তাঁর কাছে ২ হাজার ১০০ টাকা চাইছেন।
এলপিজি ব্যবসায়ীদের দাবি, কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির অভিযোগ, গত ২০ সেপ্টেম্বরের পর আমদানিকারকেরা সরবরাহ প্রায় ৮০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন। ২৫ সেপ্টেম্বরের পর কয়েকটি ডিপো থেকেও সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁরা।
আরও পড়ুন
সাকের হত্যার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ, চিকিৎসক সাময়িক বরখাস্ত ৭ ঘণ্টা আগে
কক্সবাজার এলপি গ্যাস পরিবেশক সমিতির সভাপতি সিরাজুল হক জানান, ৬ অক্টোবর ডিলারের কাছ থেকে প্রতি সিলিন্ডার ২ হাজার ৫০ টাকা দরে কিনেছেন তিনি। অথচ বিইআরসি নির্ধারিত খুচরা মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। পরে তিনি সিলিন্ডার বিক্রি করেছেন ২ হাজার ২০০ টাকায়। জেলা এলপিজি সমিতির সভাপতি সরওয়ার আলমের অভিযোগ, কোম্পানিগুলো নির্ধারিত দামে ডিলারদের গ্যাস দিচ্ছে না। বেশি দামে সিলিন্ডার কিনলেও অনেক ক্ষেত্রে ভাউচার দেওয়া হচ্ছে না।
তবে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) দাবি করেছে, দেশে এলপিজি আমদানি ও সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। অন্যদিকে কক্সবাজার জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হাসান-আল-মারুফ জানিয়েছেন, বাজার তদারকির পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং সরবরাহকারীদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
আরও পড়ুন
ফরিদপুরে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৩ জনের ৭ ঘণ্টা আগে
এদিকে কমিশন বাড়ানো, সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধসহ সাত দফা দাবিতে আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সারা দেশে এলপিজি বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি মো. সেলিম খান এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
ব্যবসায়ীদের দাবি, পরিবেশকদের কমিশন সিলিন্ডারপ্রতি ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা অথবা বিক্রয়মূল্যের ৭ শতাংশ নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি চালানে প্রকৃত মূল্য উল্লেখ, পরিবহন ভাড়া দেওয়া এবং অযৌক্তিক জরিমানা বন্ধসহ আরও কয়েকটি দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
আরও পড়ুন
ইতালি, গ্রিস ও সাইপ্রাস থেকে ফেরত ৩৫ বাংলাদেশি ৭ ঘণ্টা আগে
বাজারসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, সরবরাহ ঘাটতির মধ্যে দুই দিনের বিক্রিবিরতি কার্যকর হলে গৃহস্থালি রান্না থেকে শুরু করে হোটেল-রেস্তোরাঁর কার্যক্রমেও চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রান্নার কাজে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল, তাদের বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে হতে পারে অথবা সাময়িকভাবে বিকল্প ব্যবস্থার দিকে যেতে হতে পারে।
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।