https://newsbdc.com/law-court/mvdgk4f692
মোটরসাইকেলের সামনের নম্বর প্লেটের নির্দেশের আইনি ভিত্তি জানতে নোটিশ
মোটরসাইকেলের সামনে হাতে তৈরি রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্লেট লাগানো বাধ্যতামূলক করার নির্দেশের আইনি ভিত্তি জানতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছেন আইনজীবী অপূর্ব মজুমদার শান্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নম্বর প্লেট না লাগালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কতার ভিত্তিও জানতে চেয়েছেন তিনি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) পাঠানো এক চিঠিতে বিআরটিএর চেয়ারম্যান ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের কাছে সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত নথির অনুলিপি চাওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
শাহজালাল ও শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৫ কোটি টাকার স্বর্ণ জব্দ ১৯ অক্টোবর ২০২৬
নোটিশে বলা হয়, গত ১৬ অক্টোবর একটি পত্রিকার প্রতিবেদনে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সব মোটরসাইকেলের সামনে নম্বর প্লেট লাগানো বাধ্যতামূলক করার কথা জানানো হয়। এতে নির্দিষ্ট মাপ ও অন্যান্য শর্ত মেনে হাতে তৈরি রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্লেট লাগানোর নির্দেশ এবং তা না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কতার কথাও উল্লেখ করা হয়।
আইনজীবীর দাবি, বিআরটিএর সরকারি ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে মূল গণবিজ্ঞপ্তি, জারির তারিখ, স্মারক নম্বর এবং নির্দেশনার পক্ষে ব্যবহৃত আইনগত দলিল খুঁজে পাননি তিনি। এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নির্দেশনার মূল বিজ্ঞপ্তি ও আইনি ভিত্তি জানতে চেয়েছেন।
আরও পড়ুন
পূর্বাচলের ৫ শতাধিক প্লট বরাদ্দে জালিয়াতি, গাজী গোলাম দস্তগীরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ ১৭ অক্টোবর ২০২৬
নোটিশে বলা হয়, নম্বর প্লেটের প্রয়োজনীয়তা কিংবা সড়ক নিরাপত্তা ও যানবাহন শনাক্তকরণের গুরুত্ব নিয়ে তাঁর আপত্তি নেই। তবে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালায় মোটরসাইকেলের সামনে নম্বর প্লেট প্রদর্শনের ক্ষেত্রে যে অব্যাহতি রয়েছে, তার সঙ্গে নতুন নির্দেশনার সামঞ্জস্য কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
এ প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৩৬-এর উপবিধি (১০) উল্লেখ করেছেন আইনজীবী। তাঁর বক্তব্য, বিধি ৩৬-এর উপবিধি (৮)-এর বিধান সত্ত্বেও মোটরসাইকেল ও প্রতিবন্ধীবান্ধব মোটরযানকে সামনে রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাই সামনে হাতে তৈরি নম্বর প্লেট লাগানোর নির্দেশ কোন আইনি ভিত্তিতে কার্যকর করা হচ্ছে, তা ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।
নোটিশে আরও বলা হয়, সরকার পরবর্তী সময়ে কোনো বৈধ আদেশ, প্রজ্ঞাপন, নীতিমালা বা সংশোধনীর মাধ্যমে ওই অব্যাহতি পরিবর্তন করে থাকলে সংশ্লিষ্ট দলিল ও তার আইনগত প্রভাব জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত।
আরও পড়ুন
কারাগারে ধারণক্ষমতার বেশি বন্দী, সংস্কারে আদালতের নির্দেশ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আইনজীবী সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ১২২, ১২৩ ও ১২৪ ধারারও উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এসব ধারায় বিধি বা প্রবিধান প্রণয়ন এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে জনস্বার্থে আদেশ বা নীতিমালা জারির ক্ষমতার বিষয় রয়েছে। ফলে নির্দেশটি কোন ধারার অধীনে, নাকি বিদ্যমান বিধিমালা সংশোধন করে জারি করা হয়েছে, তা জানতে চেয়েছেন তিনি।
সরকারি আদেশ বা নীতিমালার ভিত্তিতে নির্দেশটি জারি হয়ে থাকলে তার অনুলিপি, জারির তারিখ, স্মারক নম্বর, ক্ষমতা প্রদানকারী আইনি বিধান এবং প্রকাশসংক্রান্ত তথ্যও চাওয়া হয়েছে নোটিশে।
আরও পড়ুন
আদালত চত্বরে সেবাপ্রার্থীদের জন্য নতুন বসার ব্যবস্থা ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অপূর্ব মজুমদার শান্ত। নোটিশে বলা হয়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ১৬ ধারার উপধারা (৩)-এ রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্লেট সংযুক্ত ও প্রদর্শন ছাড়া মোটরযান চালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিধান লঙ্ঘনের শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে আইনের ৭২ ধারায়।
তবে কোনো মোটরসাইকেল যথাযথভাবে নিবন্ধিত থাকলে এবং বিআরটিএ অনুমোদিত আরএফআইডি নম্বর প্লেট পেছনে যথাযথভাবে সংযুক্ত ও প্রদর্শিত থাকলে, শুধু সামনে অতিরিক্ত হাতে তৈরি নম্বর প্লেট না থাকার কারণে কীভাবে আইনের ১৬(৩) ধারা লঙ্ঘিত হবে, তা স্পষ্ট করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন
ভোক্তা অধিকার সচেতনতায় কাল্পনিক ক্যাম্পেইন ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নোটিশে আরও বলা হয়, শুধু সামনের হাতে তৈরি নম্বর প্লেট না থাকাকে স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে গণ্য করার আইনি ভিত্তি, প্রযোজ্য শাস্তি এবং ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষকে চিহ্নিত করা প্রয়োজন। আইনগত বিধান উল্লেখ না করে সাধারণভাবে ‘আইনগত ব্যবস্থা’ নেওয়ার সতর্কতা দিলে নির্দেশ অমান্যের পরিণতি সম্পর্কে নাগরিকদের মধ্যে অস্পষ্টতা তৈরি হতে পারে।
সাত কর্মদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে অথবা সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি স্পষ্ট না করেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে উচ্চ আদালতের প্রতিকার চাওয়ার কথা নোটিশে উল্লেখ করেছেন আইনজীবী।
আইন-আদালত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।