https://newsbdc.com/lifestyle/mvmqqecln7
পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে যে ৩ পরীক্ষা জরুরি
পরিবারে স্তন, ডিম্বাশয়, জরায়ু কিংবা অন্ত্রের ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে নিজেরও বংশগতভাবে ক্যানসারের ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ জিন পরীক্ষা বংশগত ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে।
তবে এসব পরীক্ষার মাধ্যমে সরাসরি শরীরে ক্যানসার শনাক্ত করা হয় না। বরং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, এমন বংশগত জিনগত পরিবর্তন খুঁজে দেখা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, বংশগত ক্যানসারের ঝুঁকি মূল্যায়নে বিআরসিএ১ ও বিআরসিএ২ জিন পরীক্ষা, লিঞ্চ সিনড্রোমের জিন পরীক্ষা এবং মাল্টিজিন প্যানেল পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
১. বিআরসিএ১ ও বিআরসিএ২ জিন পরীক্ষা
আরও পড়ুন
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস দুর্ঘটনা, নিহত ৩ ও আহত ১৬ ১৫ ঘণ্টা আগে
বিআরসিএ১ ও বিআরসিএ২ জিনের কিছু ক্ষতিকর পরিবর্তন স্তন ও ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
পরিবারে অল্প বয়সে এসব ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকলে চিকিৎসক এ পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন।
বাংলাদেশে বিভিন্ন ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, এ পরীক্ষার খরচ সাধারণত ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে হতে পারে। তবে পরীক্ষার ধরন ও ল্যাবভেদে খরচের পার্থক্য হয়।
মনে রাখতে হবে, পরীক্ষায় ক্ষতিকর জিনগত পরিবর্তন পাওয়া গেলেই ক্যানসার হবে, এমন নয়। ফলাফলের ভিত্তিতে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ ও ঝুঁকি কমানোর পদক্ষেপের পরামর্শ দিতে পারেন।
আরও পড়ুন
শিশুর ভয়কে অবহেলা নয়, কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করুন ২৩ অক্টোবর ২০২৬
২. লিঞ্চ সিনড্রোমের জিন পরীক্ষা
লিঞ্চ সিনড্রোম একটি বংশগত জিনগত অবস্থা, যা বিশেষ করে অন্ত্রের ক্যানসার এবং জরায়ুর ভেতরের আবরণ বা এন্ডোমেট্রিয়ামের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। পরিবারে একাধিক সদস্যের এসব ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকলে চিকিৎসক এ পরীক্ষা বিবেচনা করতে পারেন।
এ পরীক্ষার খরচ নির্ভর করে কোন জিন পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং কী ধরনের পরীক্ষাপদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে, তার ওপর। সব ল্যাবে এ পরীক্ষার নির্দিষ্ট মূল্যতালিকা পাওয়া যায় না।
তাই পরীক্ষা করানোর আগে সংশ্লিষ্ট ল্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করে খরচ ও পরীক্ষার ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
পা নরম ও কোমল রাখতে ঘরেই করুন ৫ সহজ যত্ন ২৩ অক্টোবর ২০২৬
৩. মাল্টিজিন প্যানেল পরীক্ষা
বংশগত ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে একাধিক জিনের সম্পর্ক থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা পরীক্ষা না করে একই সঙ্গে একাধিক জিনের পরিবর্তন শনাক্ত করতে মাল্টিজিন প্যানেল পরীক্ষা করা হয়।
তবে সব মাল্টিজিন প্যানেল পরীক্ষা বংশগত ক্যানসারের ঝুঁকি নির্ণয়ের জন্য তৈরি নয়। কিছু প্যানেল মূলত ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তির টিউমারের জিনগত পরিবর্তন শনাক্ত করে চিকিৎসা নির্ধারণে সহায়তা করে।
আরও পড়ুন
ভিটামিন সি পেতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন ৫ খাবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬
উদাহরণ হিসেবে, আইসিডিডিআর,বির ৩২টি জিনের একটি প্যানেলের পরীক্ষামূল্য ২৮ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ প্যানেল মূলত টিউমারের জিনগত পরিবর্তন শনাক্ত করে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিতে ব্যবহৃত হয়। তাই বংশগত ক্যানসারের ঝুঁকি নির্ণয়ের জন্য উপযুক্ত পরীক্ষা কোনটি, তা চিকিৎসকের পরামর্শে নির্ধারণ করা জরুরি।
কারা এসব পরীক্ষা করাবেন?
পরিবারে অল্প বয়সে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকলে, একাধিক সদস্যের একই ধরনের ক্যানসার হলে কিংবা একজনের একাধিক ধরনের ক্যানসার শনাক্ত হলে বংশগত ঝুঁকি মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা জেনেটিক কাউন্সেলরের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সম্ভব হলে পরিবারের যিনি ইতোমধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁর পরীক্ষা দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। এতে পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে একই ধরনের বংশগত জিনগত পরিবর্তন রয়েছে কি না, তা যাচাই করা সহজ হতে পারে।
আরও পড়ুন
অজ্ঞান ব্যক্তির জ্ঞান ফেরাতে পানি ছিটানো কি ঠিক? ২৩ অক্টোবর ২০২৬
জিন পরীক্ষায় পজিটিভ ফল মানেই কি ক্যানসার?
না। জিন পরীক্ষায় ক্ষতিকর পরিবর্তন পাওয়া মানেই ক্যানসার নিশ্চিত নয়। একইভাবে, পরীক্ষায় এমন পরিবর্তন না পাওয়া গেলেও সব ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি পুরোপুরি নাকচ করা যায় না।
বংশগত ঝুঁকি শনাক্ত করা এবং বর্তমানে শরীরে ক্যানসার রয়েছে কি না, তা নির্ণয় করা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। তাই পরিবারের কারও ক্যানসার হয়েছে বলে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত জিন পরীক্ষা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ঝুঁকিভিত্তিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আগেভাগে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। পরীক্ষা করানোর আগে সেটি বংশগত ঝুঁকি নির্ণয়ের জন্য উপযুক্ত কি না, তা নিশ্চিত হয়ে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।