https://newsbdc.com/lifestyle-wellness/mvktuxhcb0
শিশুর ভয়কে অবহেলা নয়, কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করুন
শিশুকে ভয় থেকে বের করে আনতে বকাঝকা করা কিংবা জোর করে ভয়ের মুখোমুখি করানো কার্যকর সমাধান নয়। বরং তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া, ভয়ের কারণ বোঝা এবং ধীরে ধীরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে শেখানো জরুরি।
১. আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখান
নিজের অনুভূতি বুঝতে পারা এবং তা সামলে নেওয়ার ক্ষমতাকে বলা হয় আত্মনিয়ন্ত্রণ বা ‘সেলফ-রেগুলেশন’। এই দক্ষতা একদিনে তৈরি হয় না। শিশুকে নিজের অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে এবং ভয় পেলে কীভাবে শান্ত হতে হয়, তা ধীরে ধীরে শেখাতে হবে।
আরও পড়ুন
পা নরম ও কোমল রাখতে ঘরেই করুন ৫ সহজ যত্ন ১২ ঘণ্টা আগে
শিশু ভয় পেলেই তাকে দুর্বল ভাবা কিংবা দ্রুত ভয় কাটিয়ে ওঠার জন্য চাপ দেওয়া উচিত নয়। নিয়মিত অনুশীলন ও পরিবারের সহযোগিতায় সে ধীরে ধীরে নিজের আবেগ সামলাতে শিখতে পারে।
২. শিশুর ভয়কে গুরুত্ব দিন
শিশু অন্ধকারে ভয় পেলে অনেক অভিভাবক বলে বসেন, ‘এতে ভয় পাওয়ার কী আছে?’ কিন্তু এমন কথা শিশুকে আরও অসহায় বোধ করাতে পারে। সে মনে করতে পারে, তার অনুভূতিকে কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না।
এর পরিবর্তে শিশুকে আশ্বস্ত করুন। বলতে পারেন, ‘আমি বুঝতে পারছি তোমার ভয় লাগছে। আমি তোমার পাশে আছি।’ এতে সে নিরাপদ বোধ করবে এবং নিজের ভয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে উৎসাহ পাবে।
৩. ভয় পেলেই পরিস্থিতি এড়িয়ে যেতে দেবেন না
শিশু কোনো কিছুকে ভয় পেলে প্রতিবারই তাকে সেই পরিস্থিতি থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে এড়িয়ে চলার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। এতে ভয় কাটিয়ে ওঠার সুযোগও কমে যায়।
আরও পড়ুন
ভিটামিন সি পেতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন ৫ খাবার ১২ ঘণ্টা আগে
তবে এর অর্থ এই নয় যে শিশুকে জোর করে ভয়ের মুখোমুখি করতে হবে। বরং নিরাপদ পরিস্থিতিতে ধীরে ধীরে ভয় মোকাবিলা করতে শেখাতে হবে। একই সঙ্গে সুইচবোর্ড, ধারালো ছুরি বা কাঁচির মতো বিপজ্জনক জিনিস থেকে শিশুকে অবশ্যই দূরে রাখতে হবে।
৪. ধাপে ধাপে ভয় কাটাতে সাহায্য করুন
শিশু অন্ধকারে ঘুমাতে ভয় পেলে প্রথমে ঘরে হালকা আলো জ্বালিয়ে রাখতে পারেন। পরে তার স্বস্তি অনুযায়ী ধীরে ধীরে আলোর পরিমাণ কমানো যেতে পারে।
কুকুর দেখে ভয় পেলে প্রথমেই প্রাণীটির কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। বরং নিরাপদ দূরত্ব থেকে দেখার সুযোগ দিন। শিশু স্বস্তি বোধ করলে পরবর্তী ধাপে এগোনো যেতে পারে।
আরও পড়ুন
অজ্ঞান ব্যক্তির জ্ঞান ফেরাতে পানি ছিটানো কি ঠিক? ১২ ঘণ্টা আগে
একবারে ভয়ের মুখোমুখি করানো বা জোরাজুরি করলে ভয় আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই শিশুর মানসিক প্রস্তুতি ও স্বস্তিকে গুরুত্ব দিয়ে এগোতে হবে।
৫. প্রশ্ন করে ভয়ের কারণ জানুন
শিশু ঠিক কী কারণে ভয় পাচ্ছে, তা বোঝার চেষ্টা করুন। অন্ধকারে আলমারিকে দৈত্য মনে হলে জিজ্ঞেস করতে পারেন, ‘আলো জ্বালালে কি জিনিসটা অন্য রকম দেখায়?’ চিকিৎসকের কাছে যেতে ভয় পেলে জানতে চান, ‘চিকিৎসকের কাছে কোন বিষয়টি তোমার সবচেয়ে বেশি ভয় লাগে?’
কুকুর বা বিড়াল দেখে ভয় পেলে জিজ্ঞেস করতে পারেন, ‘আগে কি কখনো কোনো প্রাণী তোমাকে ভয় পাইয়েছিল?’ এমন প্রশ্ন শিশুকে নিজের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি প্রকাশে সাহায্য করে। ভয়ের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো অভিজ্ঞতা বা কারণ থাকলে সেটিও বোঝা সহজ হয়।
আরও পড়ুন
কাজের চাপে যে অভ্যাসগুলো বাড়াতে পারে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ১৫ ঘণ্টা আগে
৬. নিজের আচরণে শান্ত থাকার চেষ্টা করুন
শিশুরা বড়দের আচরণ দেখে অনেক কিছু শেখে। কোনো পরিস্থিতিতে মা-বাবাকে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন বা আতঙ্কিত হতে দেখলে শিশুও সেটিকে বিপজ্জনক বলে ভাবতে পারে।
তাই সন্তানের সামনে শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী থাকার চেষ্টা করুন। নিজের ভয় বা উদ্বেগ থাকলেও তা কীভাবে সামলাতে হয়, সে বিষয়ে শিশুর সামনে ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করা জরুরি।
৭. শ্বাস-প্রশ্বাসের সহজ অনুশীলন শেখান
ভয় পেলে শিশুর হৃৎস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে এবং শ্বাস দ্রুত হয়ে আসতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে প্রথমে তাকে শান্ত হওয়ার সময় দিন। প্রিয় খেলনা, পরিচিত গল্প কিংবা পছন্দের কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলে তার মনোযোগ অন্যদিকে ফেরাতে পারেন।
শিশু কিছুটা স্বাভাবিক হলে তাকে ধীরে ধীরে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার অনুশীলন করাতে পারেন। খেলার ছলে শেখালে সে সহজে বিষয়টি বুঝতে পারে। তবে তীব্র শ্বাসকষ্ট হলে বা উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু এই অনুশীলনের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসা নিতে হবে।
আরও পড়ুন
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো? জানুন পুষ্টিবিদদের পরামর্শ ২২ অক্টোবর ২০২৬
৮. কখন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন?
শৈশবে ভয় পাওয়া স্বাভাবিক হলেও কিছু ক্ষেত্রে তা বিশেষ মনোযোগের দাবি রাখে। ভয় যদি শিশুর ঘুম, পড়াশোনা, স্কুলে যাওয়া কিংবা অন্যদের সঙ্গে মেলামেশায় বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।
ভয়ের কারণে শিশু অতিরিক্ত চুপচাপ হয়ে গেলে, বারবার আতঙ্কিত হলে, বুক ধড়ফড় করলে কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে শিশু বিশেষজ্ঞ বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো। সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে কিংবা ক্রমে বাড়তে থাকলেও পেশাদার সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে।
শিশুর ভয় দূর করার অর্থ তাকে সব পরিস্থিতিতে ভয়হীন করে তোলা নয়। বরং ভয় পাওয়া স্বাভাবিক—এ কথা বুঝিয়ে দিয়ে কীভাবে সেই অনুভূতি সামলাতে হয়, তা শেখানোই মূল লক্ষ্য। অভিভাবকের ধৈর্য, সহানুভূতি, নিরাপত্তার অনুভূতি এবং ধারাবাহিক সহযোগিতা শিশুকে নিজের ভেতরের সাহস খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।