https://newsbdc.com/lifestyle-wellness/mvkmbci7ye
কাজের চাপে যে অভ্যাসগুলো বাড়াতে পারে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি
কাজের ব্যস্ততায় সময়মতো খাওয়া, নিয়মিত হাঁটাচলা ও পর্যাপ্ত ঘুম—এসব অভ্যাস বজায় রাখা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। সময়সীমা মেনে কাজ করতে গিয়ে কেউ দুপুরের খাবার বাদ দেন, কেউ দীর্ঘ সময় চেয়ারে বসে থাকেন, আবার অনেকে রাতে দেরিতে ঘুমাতে যান। দীর্ঘ মেয়াদে এসব অভ্যাস বিপাকীয় স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকেরা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের জীবনযাপনবিষয়ক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। শারদাকেয়ার-হেলথসিটির ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক চিকিৎসক নিরাজ কুমারের মতে, সুষম খাবার ও ব্যায়ামের পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনযাপনের অভ্যাসও বিপাকীয় স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন
শিশুর ভয়কে অবহেলা নয়, কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করুন ১১ ঘণ্টা আগে
দীর্ঘক্ষণ বসে কাজের প্রভাব
দিনের বেশির ভাগ সময় বসে কাজ করলে শারীরিক কার্যক্রম কমে যায়। অথচ পেশি গ্লুকোজ ব্যবহার করে এবং নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।
দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকা, বিশেষ করে অতিরিক্ত ওজন, পারিবারিক ইতিহাস বা অন্যান্য ঝুঁকির কারণ থাকলে, ইনসুলিন প্রতিরোধের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। এতে শরীরের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে।
আরও পড়ুন
পা নরম ও কোমল রাখতে ঘরেই করুন ৫ সহজ যত্ন ১১ ঘণ্টা আগে
চিকিৎসক আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের ২০২৫ সালের ডায়াবেটিস অ্যাটলাসের তথ্য উল্লেখ করে জানান, ২০২৪ সালে ভারতে ২০ থেকে ৭৯ বছর বয়সী আনুমানিক ৯ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন। শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি বয়স ও জিনগত বৈশিষ্ট্যও এ রোগের ঝুঁকিকে প্রভাবিত করে।
অনিয়মিত খাওয়া ও দেরিতে রাতের খাবার
কাজের ব্যস্ততায় অনেকে দুপুরের খাবার বাদ দেন বা বিকেলে বারবার হালকা খাবার খান। আবার পরিকল্পনার চেয়ে অনেক দেরিতে রাতের খাবার খাওয়ার অভ্যাসও তৈরি হয়।
চিকিৎসক নিরাজ কুমার সেল মেটাবলিজম সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণার কথা উল্লেখ করেন। অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের ওপর পরিচালিত ওই গবেষণায় দেরিতে খাওয়ার সঙ্গে ক্ষুধা বৃদ্ধি, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের পরিবর্তন এবং জেগে থাকা অবস্থায় শক্তি ব্যয়ের হার কমে যাওয়ার সম্পর্ক দেখা যায়।
আরও পড়ুন
ভিটামিন সি পেতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন ৫ খাবার ১১ ঘণ্টা আগে
তাই শুধু খাবারের ধরন নয়, কখন খাওয়া হচ্ছে, সেটিও বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সুস্থ থাকতে যেসব পরিবর্তন আনবেন
কাজের ধরন সব সময় বদলানো সম্ভব না হলেও দৈনন্দিন রুটিনে ছোট কিছু পরিবর্তন আনা যায়। যেমন—
আরও পড়ুন
অজ্ঞান ব্যক্তির জ্ঞান ফেরাতে পানি ছিটানো কি ঠিক? ১১ ঘণ্টা আগে
- কাজের ফাঁকে নিয়মিত চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ানো।
- বিরতির সময় অল্পক্ষণ হাঁটাহাঁটি করা।
- দুপুরের খাবার বাদ না দিয়ে সুষম খাবার খাওয়ার চেষ্টা করা।
- রাতের খাবার ও ঘুমের সময় যতটা সম্ভব নিয়মিত রাখা।
- দীর্ঘ সময় একটানা বসে না থেকে শারীরিক কার্যক্রম বাড়ানো।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে ১৫০ থেকে ৩০০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রম করা উচিত। দ্রুত হাঁটা এ ধরনের কার্যক্রমের একটি উদাহরণ।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি
ডায়াবেটিস ও অন্যান্য বিপাকীয় সমস্যার ক্ষেত্রে অনেক সময় দীর্ঘদিন স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে রক্তে শর্করা, উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরলের সমস্যা অজান্তেই থেকে যেতে পারে।
আরও পড়ুন
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো? জানুন পুষ্টিবিদদের পরামর্শ ২২ অক্টোবর ২০২৬
বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে শর্করা, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করালে সম্ভাব্য সমস্যা শনাক্ত করা সহজ হয়।
কাজের চাপ পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব না হলেও অনিয়মিত খাওয়া, দীর্ঘ সময় বসে থাকা ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবকে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত না করাই ভালো। দৈনন্দিন রুটিনে ছোট পরিবর্তন দীর্ঘ মেয়াদে স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।