https://newsbdc.com/national/mvmrhcg13k
ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন আজ
ব্যারিস্টার জাইমা জারনাজ রহমান, যিনি জাইমা রহমান নামে পরিচিত, একজন আইনজীবী ও আইনবিষয়ক পেশাজীবী। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র কন্যা। তাঁর দাদা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দাদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
আজ ২৫ অক্টোবর ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন—এমন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। ১৯৯৫ সালে ঢাকার হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর জন্ম হয় বলে এতে বলা হয়েছে। আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তিনি নিজের পরিচয় গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জন্মদিনে শুভানুধ্যায়ীদের প্রত্যাশা, মেধা, আত্মবিশ্বাস ও মানবিক মূল্যবোধকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনে আইন, সমাজ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন জাইমা রহমান।
আরও পড়ুন
ছুটি শেষে রাজধানীমুখী মানুষের ঢল, ১ ঘণ্টা আগে
বর্ণাঢ্য পারিবারিক ঐতিহ্য
জাইমা রহমানের বেড়ে ওঠা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি প্রভাবশালী পরিবারে। তিনি তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র কন্যা। তাঁর দাদা সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বীর উত্তম জিয়াউর রহমান এবং দাদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তাঁর নানা মরহুম রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেন।
রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক আবহে বেড়ে উঠলেও জাইমা রহমান আইন ও জনসেবার অঙ্গনে নিজের পেশাগত পথ তৈরি করেছেন।
আরও পড়ুন
দেশের সীমান্তে সক্রিয় ৪ হাজার ৮৩৯ চোরাকারবারি ১ ঘণ্টা আগে
শিক্ষা ও আইনি পেশায় অগ্রযাত্রা
জাইমা রহমান ঢাকার সেনানিবাসের শহীদ মইনুল রোডের পারিবারিক বাসভবনে বেড়ে ওঠেন। ২০০৮ সালে তাঁর বাবা তারেক রহমানের জামিনে মুক্তির পর তিনি পরিবারের সঙ্গে লন্ডনে চলে যান। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বাবা-মায়ের সঙ্গে তাঁর বাংলাদেশে ফেরার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যে যাওয়ার আগে তিনি ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরে যুক্তরাজ্যের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ইনার টেম্পল থেকে ২০১৯ সালে বার-অ্যাট-ল ডিগ্রি লাভ করেন।
২০২৬ সালের জুনে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষার প্রথম ধাপে উত্তীর্ণ হন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
আরও পড়ুন
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ১৬ হাজার কোটি টাকার টেন্ডার আসছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ১ ঘণ্টা আগে
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিজ্ঞতা
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ৭৩তম ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টে বিএনপির প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে অংশ নেন জাইমা রহমান। ওই প্রতিনিধিদলে তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সফরকালে তিনি দক্ষিণ ক্যারোলিনার সাবেক গভর্নর ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সাবেক নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ডেস্ট্রো এবং উইমেনস ফেলোশিপ ফাউন্ডেশনের প্রধান রেবেকা ওয়াগনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিএনপির কোনো আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে এটি ছিল তাঁর প্রথম অংশগ্রহণ।
২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর তিনি বিএনপির একটি সভায় প্রথমবারের মতো অংশ নেন বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন
সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশের নিয়ম পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ১ ঘণ্টা আগে
পেশাগত জীবনের শুরুতে জাইমা রহমান বাংলাদেশের আইনজীবী প্রতিষ্ঠান সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসে কাজ করেন। সেখানে সাংবিধানিক আইন, করপোরেট ও বাণিজ্যিক আইন এবং করসংক্রান্ত বিষয়ে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত হন। জাতিসংঘের সভাপতির কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটেও তাঁকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে আইন কর্মকর্তা পদে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দায়িত্বের মধ্যে ওই কার্যালয়ের আইনবিষয়ক বিষয়গুলো দেখভাল করা রয়েছে।
আরও পড়ুন
জাতিসংঘের অর্থবহ সংস্কারের পক্ষে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ১ ঘণ্টা আগে
মানবিক উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ ভাবনা
পেশাগত কাজের পাশাপাশি জাইমা রহমান বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা ‘সুরভী’র পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। সংস্থাটি সুবিধাবঞ্চিত ও বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে কাজ করে।
সুশাসন, অন্তর্ভুক্তিমূলক জননীতি, ন্যায়বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ, শিক্ষার প্রসার, লিঙ্গসমতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির মতো বিষয়ে তাঁর আগ্রহ রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জন্মদিনে শুভানুধ্যায়ীদের প্রত্যাশা, শিক্ষা, পেশাগত দক্ষতা ও মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে জাইমা রহমান ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে অবদান রাখবেন। শুভ জন্মদিন, ব্যারিস্টার জাইমা রহমান!
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।