https://newsbdc.com/national/mvdckxkkuy
সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি দেশে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিবর্তিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) ৯ম পদাতিক ডিভিশনের আয়োজনে জাতীয় পতাকা বা ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন
নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, আটক ৫৬ জন ১৫ ঘণ্টা আগে
তারেক রহমান বলেন, আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম কিংবা জনবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ ও জনগণের আস্থার মধ্যে। একই সঙ্গে সামরিক নির্দেশনার ধারাবাহিকতা বা চেইন অব কমান্ড বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ, পেশাদার ও আধুনিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাহিনীর সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্য সংবিধান, আইন, সামরিক বিধিবিধান ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থাকবেন—এটাই জনগণের প্রত্যাশা।
পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধের ধরন ও কৌশল দ্রুত বদলে যাচ্ছে। স্থল, সমুদ্র ও আকাশের পাশাপাশি সাইবার জগৎ, মহাকাশ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্যভিত্তিক সক্ষমতা জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এ বাস্তবতায় প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে সময়োপযোগী করার কাজ চলছে।
আরও পড়ুন
বসিলায় ৪০ ফিট খাল পরিষ্কার, অভিযানে অংশ নিলেন ৬০০ স্বেচ্ছাসেবক ১৫ ঘণ্টা আগে
দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেশে উৎপাদনের ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাও প্রয়োজন।
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, পেশাগত উন্নয়ন ও অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। জাতীয় বেতন স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া সেনাসদস্যদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ‘ওয়ান র্যাংক, ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আরও পড়ুন
সাকের হত্যার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ, চিকিৎসক সাময়িক বরখাস্ত ১৫ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনী শুধু দেশের প্রতিরক্ষার দায়িত্বই পালন করে না; বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগ ও জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি বিদেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।
অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডপ্রাপ্ত সাতটি ইউনিটকে অভিনন্দন জানান তারেক রহমান। ইউনিটগুলো হলো—৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট।
আরও পড়ুন
ফরিদপুরে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৩ জনের ১৫ ঘণ্টা আগে
তিনি বলেন, ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শুধু একটি পতাকা নয়; এটি একটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারত্ব ও দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক। জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক সেনাসদস্যের পবিত্র দায়িত্ব।
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর জন্ম। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরু হলে চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট’ ঘোষণা করেন।
তারেক রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, পরে মেজর জিয়াউর রহমান অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে ফিরে বাংলাভাষী কর্মকর্তা ও সৈনিকদের সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেন। তাঁর লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ নিবন্ধেও এ ঘটনার বিবরণ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন
ইতালি, গ্রিস ও সাইপ্রাস থেকে ফেরত ৩৫ বাংলাদেশি ১৫ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে একজন সেনা কর্মকর্তার ঐতিহাসিক ভূমিকা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গৌরব ও অনুপ্রেরণার অধ্যায়। এ কারণেই স্বাধীনতাপ্রিয় দেশপ্রেমিক জনগণ সেনাবাহিনীর সাফল্যকে বাংলাদেশের সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষা হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।