https://newsbdc.com/feature/mvcaw3hf80
ডেঙ্গুর পর চুল পড়া কমাতে খাবেন যেসব খাবার
ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ বা মাস পর অনেকের চুল পড়ার প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে। উচ্চ জ্বর, গুরুতর সংক্রমণ, শারীরিক দুর্বলতা ও পুষ্টির ঘাটতির কারণে এমনটি হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকে বলা হয় ‘টেলোজেন এফ্লুভিয়াম’। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটি সাময়িক এবং সময়ের সঙ্গে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ফিরে আসে।
ডেঙ্গুর পর কেন চুল পড়ে?
চুলের বৃদ্ধি, বিশ্রাম ও ঝরে পড়ার একটি স্বাভাবিক চক্র রয়েছে। ডেঙ্গুর মতো সংক্রমণ, উচ্চ জ্বর, পানিশূন্যতা, ক্ষুধামন্দা, মানসিক চাপ কিংবা দ্রুত ওজন কমে যাওয়ার কারণে এই চক্র ব্যাহত হতে পারে। তখন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চুল বিশ্রাম পর্যায়ে চলে যায় এবং পরে একসঙ্গে ঝরতে শুরু করে।
এ ধরনের চুল পড়া সাধারণত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় না। অসুস্থতার প্রায় দুই থেকে চার মাস পর এটি বেশি চোখে পড়তে পারে।
আরও পড়ুন
চেনা রাস্তা হঠাৎ অচেনা মনে হয় কেন, জানুন মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা ১৯ অক্টোবর ২০২৬
চুল পড়া কি স্থায়ী?
ডেঙ্গুর পর টেলোজেন এফ্লুভিয়ামের কারণে চুল পড়লে সাধারণত চুলের গোড়া স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। মাথার নির্দিষ্ট স্থানে টাক পড়ার পরিবর্তে পুরো মাথাজুড়ে চুল পাতলা হয়ে যেতে পারে। শরীর সুস্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি চক্র ফিরে আসতে পারে। তবে আগের ঘনত্ব ফিরে পেতে কয়েক মাস বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।
সব ধরনের চুল পড়ার কারণ অবশ্য ডেঙ্গু নয়। আয়রনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা, পর্যাপ্ত প্রোটিনের অভাব, হরমোনের পরিবর্তন কিংবা বংশগত কারণেও চুল ঝরতে পারে।
আরও পড়ুন
জনশূন্য সৈকতের নিঃসঙ্গ চেয়ার: এক সন্ধ্যার গল্প ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডেঙ্গুর পর চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় কী খাবেন?
চুলের প্রধান উপাদান কেরাটিন, যা এক ধরনের প্রোটিন। তাই সুস্থ হয়ে ওঠার সময় পর্যাপ্ত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন—
- প্রোটিন: ডিম, মাছ, দুধ, দই, ডাল, ছোলা, সয়াবিন ও চর্বিহীন মাংস।
- আয়রন: মসুর ডাল, শিম, সবুজ শাকসবজি ও তিল।
- ভিটামিন সি: পেয়ারা, আমলকী, লেবু, টমেটো ও ক্যাপসিকাম। ভিটামিন সি উদ্ভিজ্জ খাবার থেকে আয়রন শোষণে সহায়তা করে।
- সুষম খাবার: শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত ক্যালরি, প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান নিশ্চিত করা জরুরি।
কোনো একটি খাবার খেলেই দ্রুত চুল পড়া বন্ধ হবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চমাত্রার আয়রন, বায়োটিন, জিঙ্ক বা ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্টও গ্রহণ করা উচিত নয়। প্রয়োজন হলে পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট নিতে হবে।
ডেঙ্গুর পর চুলের যত্নে যা করবেন
আরও পড়ুন
গাছের সারির ছায়ায় হারিয়ে যাওয়া পথ: ফিরে দেখা গ্রামের সড়ক ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১. নিয়মিত চুল ধুতে থাকুন
চুলে শ্যাম্পু ব্যবহার করলেই টেলোজেন এফ্লুভিয়াম হয় না। ধোয়ার সময় আগে থেকেই ঝরে পড়ার পর্যায়ে থাকা চুল বেরিয়ে আসতে পারে। তাই চুল পড়ার ভয়ে নিয়মিত চুল ধোয়া বন্ধ করার প্রয়োজন নেই।
২. চুলের সঙ্গে কোমল আচরণ করুন
ভেজা চুল সহজে ভেঙে যেতে পারে। তাই সাবধানে চুল আঁচড়ান। শক্ত করে চুল বাঁধা, অতিরিক্ত তাপ প্রয়োগ, ঘন ঘন রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট এবং তোয়ালে দিয়ে জোরে ঘষা এড়িয়ে চলুন।
আরও পড়ুন
একজন বাতিঘর: গ্রামের পাঠাগার গড়ার ৩০ বছর ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩. দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা করবেন না
অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠার সময় শরীরের পর্যাপ্ত শক্তি ও পুষ্টি প্রয়োজন। ক্র্যাশ ডায়েটিং বা অতিরিক্ত খাবার নিয়ন্ত্রণ চুল পড়ার সমস্যা বাড়াতে পারে।
৪. পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিন
আরও পড়ুন
নদীর মাঝির জীবন: ভোর থেকে সন্ধ্যা ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার পর শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় দিন। পর্যাপ্ত ঘুম, বিশ্রাম ও সুষম খাদ্যাভ্যাস সামগ্রিক সুস্থতায় সহায়তা করে। তবে এসব অভ্যাস চুলের বৃদ্ধি তাৎক্ষণিকভাবে স্বাভাবিক করে দেয় না।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চুল ঝরতে থাকলে, মাথার নির্দিষ্ট অংশে টাক পড়লে, মাথার ত্বকে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে কিংবা অন্য শারীরিক উপসর্গ থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক আয়রনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা বা চুল পড়ার অন্য কারণগুলো পরীক্ষা করতে পারেন।
ডেঙ্গুর পর চুল পড়া মানেই স্থায়ীভাবে চুল হারানো নয়। সঠিক পুষ্টি, কোমলভাবে চুলের যত্ন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শের মাধ্যমে এ সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।