https://newsbdc.com/international/mvaj4dszxd
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে বড় ঝুঁকি, ট্রাম্পের সামনে কী বিকল্প?
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে অচলাবস্থার মধ্যে দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে কী ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নিয়ে ভাবতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে আর হামলা চালানো হবে না বলে জানালেও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি মোতায়েন অব্যাহত রেখেছে ওয়াশিংটন।
অন্যদিকে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল লক্ষ্য করে ইরানের হামলা আরও তীব্র হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
‘সম্পূর্ণ সুস্থ’ মোজতবা খামেনি, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের দাবি ১৩ ঘণ্টা আগে
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে কিংবা ওই অঞ্চলের পথে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত তিনটি বিমানবাহী রণতরির স্ট্রাইক গ্রুপ রয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে তিনটি বিকল্প বিবেচনা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র—দেশটির বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বজায় রাখা, নতুন করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো এবং সীমিত পরিসরে স্থল অভিযান পরিচালনা করা।
ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বজায় রাখার মাধ্যমে দেশটির ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখতে পারে ওয়াশিংটন। তবে এ পদক্ষেপের সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার বিষয়টিও জড়িয়ে রয়েছে।
আরও পড়ুন
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ১৫ দাতার অনুদান ১৮ হাজার কোটি টাকা, শীর্ষে ইলন মাস্ক ১৪ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি বিকল্প হলো ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করা। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক মাসের লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টরের মজুত কমে গেছে। একই সঙ্গে ইরানও পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের সামরিক কৌশলে পরিবর্তন এনেছে। ফলে নতুন করে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে সামরিক সক্ষমতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিতে হবে ওয়াশিংটনকে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
আরও পড়ুন
চাম্পির তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড পূর্ব এশিয়া, বাতিল ৯০০-র বেশি ফ্লাইট ১৬ ঘণ্টা আগে
সীমিত স্থল অভিযানের ক্ষেত্রে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। দ্বীপটি ইরানের তেল রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেখানে অভিযান চালানো হলে মার্কিন বাহিনীকে উল্লেখযোগ্য ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে থাকা প্রতিটি সামরিক বিকল্পের সঙ্গেই বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালালে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের লড়াইয়ে সামরিক সরঞ্জামের মজুত কমে আসায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান পরিচালনার সক্ষমতার ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন
রোগীদের ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আশ্বাস হাইকমিশনারের ১৭ ঘণ্টা আগে
তবে ইরানে পূর্ণমাত্রার স্থল অভিযান চালানোর সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা। এ ধরনের অভিযানে ব্যাপক প্রাণহানি এবং পুরো অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে কয়েকটি বিকল্প থাকলেও প্রতিটি পদক্ষেপেই বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। বর্তমান অচলাবস্থার মধ্যে ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত কোন পথ বেছে নেবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।