ছবি ভিডিও মতামত
সর্বশেষ
নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, আটক ৫৬ জন বসিলায় ৪০ ফিট খাল পরিষ্কার, অভিযানে অংশ নিলেন ৬০০ স্বেচ্ছাসেবক চীনে মুক্তি পেল প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য এআই চলচ্চিত্র, বক্স অফিসে অনিশ্চয়তা সাকের হত্যার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ, চিকিৎসক সাময়িক বরখাস্ত ফরিদপুরে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৩ জনের ইতালি, গ্রিস ও সাইপ্রাস থেকে ফেরত ৩৫ বাংলাদেশি দেশে হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ১,২১৪, হাসপাতালে নতুন ১,১৩৫ রোগী রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের নেতৃত্বে বেসরকারি ব্যাংকার, ক্ষোভ কর্মকর্তাদের কুতুবদিয়ায় জেলে পাড়ায় অগ্নিকাণ্ড, পুড়েছে ৩৩ বসতঘর আটোয়ারীতে চারটি লাউ এক টাকা, বাম্পার ফলনেও লোকসানে কৃষক
আন্তর্জাতিক

আগামী ১৫ বছরে বিশ্বে ৮০ কোটি কর্মসংস্থানের ঘাটতির শঙ্কা

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৭: ২৪
আগামী ১৫ বছরে বিশ্বে ৮০ কোটি কর্মসংস্থানের ঘাটতির শঙ্কা
সংগৃহীত

আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে বিশ্বের শ্রমবাজারে প্রবেশ করবেন প্রায় ১২০ কোটি তরুণ। অথচ এ সময়ে তাঁদের জন্য সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে মাত্র ৪০ কোটি। ফলে নতুন কর্মসংস্থানের চাহিদা ও সম্ভাব্য সুযোগের মধ্যে প্রায় ৮০ কোটি ব্যবধান তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী প্রজন্মের জন্য এটিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা।


শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার মূল অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন। উন্নয়নের আগামী ৫০ বছরের রূপরেখা তুলে ধরে বাঙ্গা বলেন, সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।


তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর চাপ বাড়ছে, বাড়ছে ঋণের বোঝা। একই সঙ্গে জ্বালানি ও সারের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের দামও উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে বিশ্বের জনসংখ্যার কাঠামোতেও বড় পরিবর্তন ঘটছে। ফলে উন্নয়ন অর্থায়নের প্রচলিত পদ্ধতিকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হবে।


কর্মসংস্থানই বড় চ্যালেঞ্জ


অজয় বাঙ্গা বলেন, আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে ১২০ কোটি তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করবেন। অথচ তাঁদের জন্য সম্ভাব্য চাকরির সংখ্যা হবে প্রায় ৪০ কোটি। অর্থাৎ, কর্মসংস্থানের চাহিদা ও সুযোগের মধ্যে প্রায় ৮০ কোটি ব্যবধান তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন

‘সম্পূর্ণ সুস্থ’ মোজতবা খামেনি, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের দাবি ১৩ ঘণ্টা আগে ‘সম্পূর্ণ সুস্থ’ মোজতবা খামেনি, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের দাবি


এই পরিস্থিতির উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো তরুণীর ডিগ্রি থাকলেও চাকরি নাও থাকতে পারে। আবার কোনো তরুণের পেশাগত দক্ষতা থাকলেও কাজের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ নাও থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে একটি প্রজন্ম প্রশ্ন তুলতে পারে, তাদের জন্য আদৌ কোনো সুযোগ আছে কি না।


বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট বলেন, চাকরি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি মর্যাদার বিষয়। কর্মসংস্থান একজন তরুণকে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সুযোগ দেয়। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো না গেলে এর নেতিবাচক প্রভাব কোনো একটি দেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। অন্যদিকে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে এর সুফলও বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়বে।


তাঁর মতে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি শুধু কোনো একটি দেশের উন্নয়নের বিষয় নয়; বরং এটি বিশ্বের সম্মিলিত ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ।


সরকারি অর্থের সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগ

আরও পড়ুন

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ১৫ দাতার অনুদান ১৮ হাজার কোটি টাকা, শীর্ষে ইলন মাস্ক ১৪ ঘণ্টা আগে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ১৫ দাতার অনুদান ১৮ হাজার কোটি টাকা, শীর্ষে ইলন মাস্ক


উন্নয়ন অর্থায়নের ভবিষ্যৎ কাঠামো তুলে ধরে অজয় বাঙ্গা বলেন, সরকারি অর্থ, বেসরকারি বিনিয়োগ, দাতব্য অর্থায়ন ও প্রযুক্তিকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগাতে হবে। তবে সব দেশের জন্য একই ধরনের অর্থায়ন কাঠামো কার্যকর হবে না। দেশের প্রয়োজন, সক্ষমতা ও ঝুঁকির ধরন অনুযায়ী অর্থায়নের সমন্বয় করতে হবে।


তিনি বলেন, যেসব দেশে প্রয়োজন ও ঝুঁকি বেশি, সেখানে সরকারি অর্থায়ন এবং স্বল্পসুদের উন্নয়ন অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ ও বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে হবে।


বিশ্বব্যাংকের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে দেশগুলো নিজেদের সক্ষমতা বাড়িয়ে ধীরে ধীরে উন্নয়ন সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে।


বাঙ্গার বক্তব্য অনুযায়ী, যেখানে বাজার এখনও কার্যকরভাবে পৌঁছাতে পারেনি, সেখানে সরকারি অর্থায়নের ভূমিকা থাকবে। অন্যদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবহার করতে হবে বেসরকারি পুঁজি। নতুন ধারণা ও উদ্ভাবনের প্রাথমিক ঝুঁকি নিতে পারে দাতব্য অর্থায়ন। আর প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিটি ডলারের কার্যকারিতা বাড়াতে হবে।


আরও পড়ুন

চাম্পির তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড পূর্ব এশিয়া, বাতিল ৯০০-র বেশি ফ্লাইট ১৬ ঘণ্টা আগে চাম্পির তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড পূর্ব এশিয়া, বাতিল ৯০০-র বেশি ফ্লাইট

তিন বছরে বেসরকারি পুঁজি সংগ্রহ তিন গুণের বেশি


বেসরকারি খাত থেকে অর্থ সংগ্রহে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অগ্রগতির তথ্যও তুলে ধরেন অজয় বাঙ্গা। তিনি জানান, ২০২২ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বেসরকারি পুঁজি সংগ্রহ করা হয়েছিল। গত অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ২০০ কোটি ডলারে। অর্থাৎ, তিন বছরের ব্যবধানে বেসরকারি পুঁজি সংগ্রহের পরিমাণ তিন গুণের বেশি হয়েছে।


নিজস্ব অর্থায়নের সঙ্গে এই অর্থ যুক্ত করে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের মোট অর্থায়নের পরিমাণ ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে বলেও ভাষণে উল্লেখ করেন তিনি।


অজয় বাঙ্গা বলেন, নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে বেসরকারি পুঁজি সংগ্রহ প্রায় তিন গুণ হয়েছে। উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে তা চার গুণ হয়েছে। আফ্রিকাজুড়েও এ ধরনের অর্থায়ন দ্বিগুণের বেশি হয়েছে।


আরও পড়ুন

রোগীদের ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আশ্বাস হাইকমিশনারের ১৭ ঘণ্টা আগে রোগীদের ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আশ্বাস হাইকমিশনারের

তবে শুধু বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়। এই অর্থায়নের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে বাস্তবে কতটা বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।


উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ


উন্নয়ন অর্থায়নের পরিধি বাড়াতে ছয়টি বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংক যৌথভাবে নতুন একটি কাঠামো তৈরির কাজ করছে বলে জানান বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ প্রকল্প মূল্যায়ন, নথিভুক্তকরণ, বিনিয়োগের উপযোগী করে সাজানো এবং এক বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে অন্য বিনিয়োগকারীর কাছে হস্তান্তরের জন্য অভিন্ন পদ্ধতি তৈরি করা।


বাঙ্গার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো প্রকল্পে একটি উন্নয়ন ব্যাংক অর্থায়ন করার পর সেটি অন্য বিনিয়োগকারীর কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হলে প্রথম প্রতিষ্ঠানটির অর্থ আবার নতুন প্রকল্পে ব্যবহার করা যাবে। এতে একই মূলধন দিয়ে আরও বেশি উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হবে।


তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বাজারে এ ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর করা গেলে উদীয়মান বাজারের উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে নতুন একটি বিনিয়োগযোগ্য সম্পদশ্রেণি গড়ে উঠতে পারে। এতে উন্নয়ন অর্থায়নের পরিমাণ শুধু কোনো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

আরও পড়ুন

সৌদির দিকে ধেয়ে যাওয়া ১২ ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস ১৮ ঘণ্টা আগে সৌদির দিকে ধেয়ে যাওয়া ১২ ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস


আগামী প্রজন্মের জন্য নতুন মডেল


ভাষণের শেষাংশে অজয় বাঙ্গা বলেন, গত প্রজন্মের উন্নয়ন কাঠামো হুবহু অনুসরণ না করে আগামী প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম নতুন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য সরকারি অর্থায়ন, বেসরকারি বিনিয়োগ, দাতব্য অর্থায়ন ও প্রযুক্তিকে সমন্বিতভাবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।


বাঙ্গা বলেন, কর্মসংস্থানের ঘাটতি নিয়ে যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, সেটিই ভবিষ্যতের অনিবার্য বাস্তবতা হবে—এমন নয়। পরিস্থিতি পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ইতোমধ্যে নতুন অর্থায়ন কাঠামোর সম্ভাবনা দেখাতে শুরু করেছে। এখন প্রয়োজন সেটিকে আরও বড় পরিসরে এবং দ্রুত বাস্তবায়ন করা।


বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে উন্নয়ন অর্থায়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিপুলসংখ্যক তরুণের জন্য উৎপাদনশীল কাজের সুযোগ তৈরি করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।

Bangladesh নিয়ে আরও পড়ুন