https://newsbdc.com/international/mvghgsup5a
বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। জ্বালানি তেলের অন্যতম প্রধান মানদণ্ড ব্রেন্টের দামও প্রায় ১১০ ডলারে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে সরবরাহে বিঘ্ন ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জ্বালানি খাতের কয়েকজন বিশ্লেষক।
ইয়াহু ফাইন্যান্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান উইলিয়াম ব্লেয়ারের জ্বালানি খাতের গবেষণা বিশ্লেষক নিল ডিংম্যান মনে করছেন, আগামী কয়েক প্রান্তিক তেলের দাম আগের তুলনায় বেশি থাকতে পারে। তাঁর ধারণা, তেলের দীর্ঘমেয়াদি স্বাভাবিক দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে থাকতে পারে। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী দাম সাময়িকভাবে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
আরও পড়ুন
‘সম্পূর্ণ সুস্থ’ মোজতবা খামেনি, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের দাবি ১৩ ঘণ্টা আগে
ডিংম্যানের মতে, তেল পরিবহনের ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ও কেনাবেচার বাজারে চাপ বাড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। ইরানকে ঘিরে হামলার ঘটনা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও তেলের সরবরাহে প্রভাব ফেলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তেলের দাম বৃদ্ধিতে উৎপাদকদের লাভ
তেলের দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতের কোম্পানিগুলো লাভবান হচ্ছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশটির শেয়ারবাজারে জ্বালানি খাতের শেয়ারের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই সময়ে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ১২ শতাংশ।
আরও পড়ুন
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ১৫ দাতার অনুদান ১৮ হাজার কোটি টাকা, শীর্ষে ইলন মাস্ক ১৪ ঘণ্টা আগে
গত ৩১ ডিসেম্বরের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম ৭০ শতাংশের বেশি এবং ব্রেন্টের দাম প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিংম্যানের ভাষ্য, তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকায় সংকট সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত থেকে তেল ছাড়ার মতো অস্থায়ী ব্যবস্থাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাঁর দাবি, দেশটির তেল মজুত ১৯৮২ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
আরও পড়ুন
চাম্পির তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড পূর্ব এশিয়া, বাতিল ৯০০-র বেশি ফ্লাইট ১৬ ঘণ্টা আগে
ডিজেলের দাম নিয়েও উদ্বেগ
অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি ডিজেলের দাম নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। ডিজেলের দামের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে ব্যবহৃত হিটিং অয়েলের আগাম চুক্তির দাম চলতি বছরে দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন
রোগীদের ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আশ্বাস হাইকমিশনারের ১৭ ঘণ্টা আগে
ডিংম্যান আশঙ্কা করছেন, শীত ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ডিজেল, পেট্রল ও ঘরবাড়ি গরম রাখার জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে। তবে তেলের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ ভোক্তাদের ব্যয় বাড়লেও উৎপাদক কোম্পানিগুলোর আয় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দাম কমার পূর্বাভাসও রয়েছে
তবে সব বিশ্লেষকই তেলের দাম আরও বাড়বে বলে মনে করছেন না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার গোল্ডম্যান স্যাকস ডিসেম্বর মাসে ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম ৮১ ডলারে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।
আরও পড়ুন
সৌদির দিকে ধেয়ে যাওয়া ১২ ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস ১৮ ঘণ্টা আগে
তবে তেলের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, জাহাজে হামলা বৃদ্ধি কিংবা নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সব মিলিয়ে, তেলের ভবিষ্যৎ দাম নির্ভর করছে বৈশ্বিক সরবরাহ, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, পরিবহন ব্যয় এবং বাজারের চাহিদার ওপর। ফলে দাম আরও বাড়বে, নাকি কমবে—তা নিয়ে বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসে এখনো ভিন্নমত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।