https://newsbdc.com/law-court/mvnkj9uoq2
আনিসুল হকের বিরুদ্ধে ১৭২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মামলায় চার্জশিট গ্রহণ
সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে ১৭২ কোটি ২৪ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলার চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির চার্জশিটটি আমলে নেন। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মানবতাবিরোধী অপরাধ: ৭ মামলায় ২৩ মৃত্যুদণ্ড ৩ ঘণ্টা আগে
এদিন কারাগারে থাকা আনিসুল হককে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার বাকি তিন আসামি—আনিসুল হকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেসা বেগম হক, ভাগ্নে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম এবং কাজিন পরিচয়ধারী মোহাম্মদ ইকবাল পলাতক থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
চলতি বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম মামলার চার্জশিট দাখিল করেন।
আরও পড়ুন
শাহজালাল ও শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৫ কোটি টাকার স্বর্ণ জব্দ ১৯ অক্টোবর ২০২৬
দুদকের অনুসন্ধানে যে তথ্য উঠে এসেছে
এর আগে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। সংস্থাটির অনুসন্ধানে আনিসুল হকের স্বনামে ও বেনামে মোট ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮১ টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।
দুদকের হিসাব অনুযায়ী, পারিবারিক ব্যয় বাদ দিয়ে তাঁর বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় ছিল ৮ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজার ৯৪০ টাকা। এর বিপরীতে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৭২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪১ টাকা।
আরও পড়ুন
মোটরসাইকেলের সামনের নম্বর প্লেটের নির্দেশের আইনি ভিত্তি জানতে নোটিশ ১৮ অক্টোবর ২০২৬
তদন্তে আনিসুল হক ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ২৩টি ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব হিসাবে মোট লেনদেনের পরিমাণ ৭৩৭ কোটি ২৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৮১ টাকা।
স্বজনদের সম্পদের তথ্যও চার্জশিটে
দুদকের তদন্তে আনিসুল হকের নিজ নামে ৯৬ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮০ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এ ছাড়া তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির নামে আরও ৮৪ কোটি ৫ লাখ ৭ হাজার ১ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
পূর্বাচলের ৫ শতাধিক প্লট বরাদ্দে জালিয়াতি, গাজী গোলাম দস্তগীরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ ১৭ অক্টোবর ২০২৬
চার্জশিট অনুযায়ী, জেবুন্নেসা বেগম হকের নামে ২৩ কোটি ৩২ লাখ ২ হাজার ৩২১ টাকা, শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলামের নামে ২০ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার ৪৪৪ টাকা এবং মোহাম্মদ ইকবালের নামে ৪০ কোটি ১ লাখ ২৩ হাজার ২৩৬ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক।
চার্জশিটে আরও বলা হয়েছে, জেবুন্নেসা বেগম হকের নামে সিটিজেনস ব্যাংকের ১০ কোটি টাকার শেয়ার ও ১৩ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) রয়েছে। শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলামের নামে ওই ব্যাংকের ২০ কোটি টাকার বেশি শেয়ার এবং মোহাম্মদ ইকবালের নামে ৪০ কোটি টাকার বেশি শেয়ার থাকার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
কারাগারে ধারণক্ষমতার বেশি বন্দী, সংস্কারে আদালতের নির্দেশ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্যাংক হিসাবের বিষয়ে দুদকের তথ্যে বলা হয়েছে, ২৩টি হিসাবে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৯৯ হাজার ৪৫২ টাকা জমা এবং ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ ২৭ হাজার ১২৯ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এসব লেনদেনকে অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
আনিসুল হক, জেবুন্নেসা বেগম হক, শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম ও মোহাম্মদ ইকবালের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
আইন-আদালত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।