ছবি ভিডিও মতামত
সর্বশেষ
খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়ক অবরোধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বেড়েছে, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অক্টোবর রিয়াদ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, সতর্কতা জারি বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১৬ ডলার ছাড়াল, সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ রাশিয়ার কালিনিনের চেয়েও আধুনিক প্রযুক্তি রূপপুরে, গুরুত্ব দক্ষ ব্যবস্থাপনায় সংগীতশিল্পী আসিফের গাড়িতে দুর্বৃত্তের গুলি নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, আটক ৫৬ জন বসিলায় ৪০ ফিট খাল পরিষ্কার, অভিযানে অংশ নিলেন ৬০০ স্বেচ্ছাসেবক চীনে মুক্তি পেল প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য এআই চলচ্চিত্র, বক্স অফিসে অনিশ্চয়তা সাকের হত্যার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ, চিকিৎসক সাময়িক বরখাস্ত
বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক মানের সেবার প্রত্যাশা

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১১: ২৬
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক মানের সেবার প্রত্যাশা
সংগৃহীত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে। উড়োজাহাজ থেকে নামার পর এখন ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ হাতে পাচ্ছেন যাত্রীরা। লাগেজ পরিবহনের বিভিন্ন ধাপ সরাসরি দেখার সুযোগ দিতে চালু হয়েছে লাইভ ব্যাগেজ মনিটরিং ব্যবস্থাও। দীর্ঘদিন ধরে লাগেজের জন্য অপেক্ষার যে ভোগান্তি ছিল, তা কমানোর এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন যাত্রীরা। তবে লাগেজ দ্রুত হাতে পেলেও বিমানবন্দরের সামগ্রিক সেবা নিয়ে তাঁদের অসন্তোষ কাটেনি। প্রবেশপথের নিরাপত্তা, টার্মিনালের বাইরে যানবাহনের বিশৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা, যাত্রীদের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ এবং লাগেজের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।



দীর্ঘ সময় আকাশপথে ভ্রমণের পর ক্লান্ত শরীরে দেশে ফেরেন প্রবাসী কর্মী, পর্যটক ও অন্যান্য যাত্রী। তাঁদের অনেকের সঙ্গে থাকে একাধিক ব্যাগ, পরিবারের জন্য কেনাকাটা এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী। এ অবস্থায় লাগেজের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলে শারীরিক ক্লান্তির পাশাপাশি মানসিক অস্বস্তিও বাড়ে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, নারী, শিশু এবং অসুস্থ যাত্রীদের জন্য এই অপেক্ষা আরও কষ্টকর। ফলে লাগেজ সরবরাহের সময় কমে আসা যাত্রীসেবার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।


কিন্তু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সেবার মান কেবল লাগেজ কত দ্রুত পাওয়া যাচ্ছে, তা দিয়ে নির্ধারিত হয় না। বিমানবন্দরে প্রবেশ থেকে শুরু করে অভিবাসন, নিরাপত্তা পরীক্ষা, লাগেজ সংগ্রহ এবং টার্মিনাল থেকে বের হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে যাত্রীরা কতটা নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও সম্মানজনক সেবা পাচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করে সামগ্রিক অভিজ্ঞতা। সেই বিবেচনায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নতির পাশাপাশি বেশ কিছু সমস্যা রয়ে গেছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।


বিমানবন্দরের বাইরে বিশৃঙ্খলা


সরেজমিনে বিমানবন্দরের বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন ও মানুষের জটলা, প্রবেশপথের নিরাপত্তা এবং টার্মিনালের বাইরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা অভিযোগ দেখা গেছে। মূল ফটক দিয়ে যানবাহন ও মানুষের প্রবেশের ক্ষেত্রে যথাযথ তল্লাশি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বহির্গমন এলাকার নিরাপত্তাবেষ্টনী পার হয়ে দর্শনার্থীদের প্রবেশ, সড়কের পাশে সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনের অবস্থান এবং পার্কিং ব্যবস্থাপনা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন

রাশিয়ার কালিনিনের চেয়েও আধুনিক প্রযুক্তি রূপপুরে, গুরুত্ব দক্ষ ব্যবস্থাপনায় ৩৫ মিনিট আগে রাশিয়ার কালিনিনের চেয়েও আধুনিক প্রযুক্তি রূপপুরে, গুরুত্ব দক্ষ ব্যবস্থাপনায়


বিমানবন্দরের কার পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকলেও বহির্গমন এলাকার সড়কে যানবাহনের জট তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। কোথাও কোথাও অর্থের বিনিময়ে বাইরের গাড়ি রাখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ভিক্ষুকমুক্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত স্থানে ভিক্ষুকের উপস্থিতি এবং ফল, লেবু, ঝালমুড়ি ও সিগারেট বিক্রির মতো কার্যক্রমও বিমানবন্দরের শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।


টার্মিনাল-১ ও টার্মিনাল-২-এর আগমন ও বহির্গমন এলাকায় যাত্রী এবং তাঁদের স্বজনদের ভিড় সামাল দেওয়াও বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে বহির্গমন পথের আশপাশে মানুষের জটলা তৈরি হলে যাত্রীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, যানবাহন ব্যবস্থাপনা এবং যাত্রীদের চলাচলের পথ সুশৃঙ্খল রাখা জরুরি। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর তদারকি না থাকলে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও সামগ্রিক সেবার ঘাটতি পূরণ করতে পারে না।


লাগেজ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার


লাগেজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বাড়াতে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) আটটি লাগেজ বেল্ট এলাকায় ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ৬৫ ইঞ্চি আকারের ১৮টি মনিটর স্থাপন করেছে। এই ব্যবস্থায় উড়োজাহাজ থেকে লাগেজ নামানো, নির্ধারিত স্থানে পরিবহন, বাছাই এবং লাগেজ বেল্টে পৌঁছানো পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপের কার্যক্রম সরাসরি দেখা যাবে।


কর্তৃপক্ষের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে। যাত্রীরা লাগেজ পরিবহনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবেন। একই সঙ্গে লাগেজ হারানো, চুরি কিংবা ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রেও নজরদারি সহায়ক হতে পারে।


আরও পড়ুন

সংগীতশিল্পী আসিফের গাড়িতে দুর্বৃত্তের গুলি ৪০ মিনিট আগে সংগীতশিল্পী আসিফের গাড়িতে দুর্বৃত্তের গুলি

তবে প্রযুক্তি স্থাপন করলেই সব সমস্যা সমাধান হবে না। ক্যামেরার কার্যকর ব্যবহার, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, অনিয়ম শনাক্ত হলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। লাগেজ ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ধাপে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা স্পষ্ট না হলে প্রযুক্তির সুফল পুরোপুরি পাওয়া কঠিন।


বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ চুরির অভিযোগও নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব সামনে এনেছে। এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) তিন যাত্রীর লাগেজ চুরির ঘটনায় জসিম নামের এক ব্যক্তিকে চাঁদপুরের কচুয়া থেকে গ্রেপ্তার এবং চুরি হওয়া তিনটি লাগেজ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় অপরাধী শনাক্ত ও লাগেজ উদ্ধার করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিমানবন্দরের ভেতরে ও বাইরে নজরদারি জোরদার করে চুরির সুযোগ কমানোও সমান জরুরি।


লাগেজ নিয়ে বের হওয়ার সময়ও প্রশ্নের মুখে যাত্রী


ইতালি প্রবাসী উজ্জ্বল হোসেন বলেন, দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হওয়ায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি যাত্রী এই বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। বিমানবন্দরের সেবার মানের সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তি, পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের বিষয়গুলোও জড়িত।


তিনি বলেন, অল্প সময়ে লাগেজ পাওয়া নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। তবে লাগেজ নিয়ে বের হওয়ার সময় আবার যাত্রীদের দাঁড় করিয়ে ব্যাগে কী আছে, কতটুকু আছে—এ ধরনের নানা প্রশ্ন করা হয়। এতে যাত্রীরা বিব্রত হন। নিরাপত্তা ও শুল্কসংক্রান্ত যাচাইয়ের প্রয়োজন থাকলেও তা যেন নিয়মমাফিক, স্বচ্ছ ও সম্মানজনকভাবে সম্পন্ন হয়, সেই প্রত্যাশা তাঁর।


সিঙ্গাপুর প্রবাসী আমিনুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন বিদেশে কাজ করে দেশে ফেরার সময় প্রবাসীরা বিমানবন্দরে ভালো সেবা প্রত্যাশা করেন। কিন্তু পরিচ্ছন্নতা ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি তাঁদের হতাশ করে। বছরের পর বছর কাজ করে পরিবারের সদস্যদের জন্য উপহার ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আসার পর সেগুলো বিমানবন্দরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও প্রবাসীদের উদ্বিগ্ন করে।

আরও পড়ুন

নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, আটক ৫৬ জন ১৭ ঘণ্টা আগে নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, আটক ৫৬ জন


তাঁর মতে, বিমানবন্দরে প্রবেশ থেকে শুরু করে গন্তব্যের উদ্দেশে বের হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। লাগেজের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ দূর করতে পারলে প্রবাসীদের আস্থাও বাড়বে।


আন্তর্জাতিক মান শুধু স্থাপত্যে নয়


যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, লাগেজ দ্রুত পাওয়া যাত্রীদের জন্য স্বস্তিদায়ক হলেও বিমানবন্দরের অন্যান্য সেবার মান নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে এখানে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও যাত্রীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


তিনি বলেন, একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মান নির্ধারিত হয় একাধিক সেবার সমন্বয়ে। পরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত বসার জায়গা, শৌচাগারের মান, তথ্যকেন্দ্রের কার্যকারিতা, টার্মিনালের ভেতরে চলাচলের সুবিধা, নিরাপত্তা, অভিবাসন প্রক্রিয়ার দক্ষতা, লাগেজ সরবরাহ, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং কর্মীদের পেশাদার আচরণ—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ।


অধ্যাপক হাদিউজ্জামানের মতে, বিমানবন্দরের আগমন এলাকায় যাত্রীদের চলাচল, শুল্কসংক্রান্ত কার্যক্রম এবং বাইরে যাওয়ার পথ এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে অপ্রয়োজনীয় জট তৈরি না হয়। একইভাবে বহির্গমন এলাকায় প্রবেশ, চেক-ইন, নিরাপত্তা পরীক্ষা ও বোর্ডিংয়ের প্রক্রিয়াও সুশৃঙ্খল হওয়া দরকার। একটি ধাপে দুর্বলতা থাকলে তার প্রভাব পুরো যাত্রার অভিজ্ঞতার ওপর পড়ে।

আরও পড়ুন

বসিলায় ৪০ ফিট খাল পরিষ্কার, অভিযানে অংশ নিলেন ৬০০ স্বেচ্ছাসেবক ১৭ ঘণ্টা আগে বসিলায় ৪০ ফিট খাল পরিষ্কার, অভিযানে অংশ নিলেন ৬০০ স্বেচ্ছাসেবক


তিনি আরও বলেন, বয়স্ক যাত্রী, ছোট শিশু নিয়ে ভ্রমণকারী পরিবার এবং চলাচলে সীমাবদ্ধতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সহায়তা, পর্যাপ্ত বসার জায়গা, সহজবোধ্য নির্দেশনা ও প্রতিবন্ধীবান্ধব চলাচলের ব্যবস্থা থাকা জরুরি। এসব সেবা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, বিমান সংস্থা, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবাদাতা এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।


নিরাপত্তায় নীতিমালার প্রয়োগ জরুরি


এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এটিএম নজরুল ইসলাম বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় শুধু নীতিমালা তৈরি করলেই হবে না; মাঠপর্যায়ে সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করাই বড় পরীক্ষা। এ জন্য বেবিচকের তদারকি বাড়ানো, স্ক্যানারগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বিমানবন্দর পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের মধ্যে স্পষ্টতা থাকা প্রয়োজন।


তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণের ক্ষেত্রে কাগজে-কলমে প্রটোকল থাকা যথেষ্ট নয়। বাস্তবে সেগুলো কতটা কার্যকরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। বিমানবন্দরের কর্মীদের অনিয়ম নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই নিয়মিত নজরদারি, প্রশিক্ষণ এবং দায়িত্বে অবহেলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার।


বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বলতে শুধু যাত্রী ও লাগেজ তল্লাশি বোঝায় না। প্রবেশ ও বহির্গমন নিয়ন্ত্রণ, সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড শনাক্ত করা, যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতাও এর অংশ। এসব ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় দুর্বল হলে নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।


আরও পড়ুন

সাকের হত্যার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ, চিকিৎসক সাময়িক বরখাস্ত ১৭ ঘণ্টা আগে সাকের হত্যার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ, চিকিৎসক সাময়িক বরখাস্ত

সেবার মান ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ


বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় বিমানবন্দরের যাত্রীসেবার উন্নতি হয়েছে এবং যাত্রীরা এখন ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ পাচ্ছেন। সেবার এই মান ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।


মন্ত্রী বলেন, প্রায় দুই মাস আগে যাত্রীদের জন্য লাইভ ব্যাগেজ মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, যা এখন বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যাত্রীরা এ ব্যবস্থায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। লাগেজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ভোগান্তি কমাতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।


তবে যাত্রীসেবার মানোন্নয়নকে কেবল লাগেজ সরবরাহের সময় কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। টার্মিনালের পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, যানবাহন ব্যবস্থাপনা, যাত্রীদের তথ্য পাওয়ার সুবিধা, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং কর্মীদের আচরণেও দৃশ্যমান পরিবর্তন প্রয়োজন।


শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের প্রধান আকাশপথের প্রবেশদ্বার। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক প্রবাসী, পর্যটক, ব্যবসায়ী ও বিদেশি অতিথির কাছে এই বিমানবন্দরই দেশের প্রথম ও শেষ অভিজ্ঞতা। তাই এর সেবার মান শুধু যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয় নয়; দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।


দ্রুত লাগেজ সরবরাহের উদ্যোগ ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও সেটিকে সামগ্রিক সেবা উন্নয়নের সূচনা হিসেবে দেখতে হবে। নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, দায়িত্ব বণ্টন, পর্যাপ্ত জনবল, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং নিয়মিত জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে বিমানবন্দরকে আরও পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব করে তোলা সম্ভব।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।

Bangladesh নিয়ে আরও পড়ুন