https://newsbdc.com/national/mvlw2vyasz
রাশিয়ার কালিনিনের চেয়েও আধুনিক প্রযুক্তি রূপপুরে, গুরুত্ব দক্ষ ব্যবস্থাপনায়
রাশিয়ার কালিনিন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে। তবে শুধু আধুনিক প্রযুক্তি থাকলেই নিরাপদে বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত হয় না; এর জন্য প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা, কঠোর নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ এবং দায়িত্বশীল নিরাপত্তা সংস্কৃতি। এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
রাশিয়ার রাজধানী মস্কো থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দূরে উদোমলিয়া শহরে অবস্থিত কালিনিন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার এই কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। কেন্দ্রটির আশপাশের জনজীবন ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন ব্যবস্থা চালু রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন
ভারত-পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে ক্ষুধা জয়ের অনন্য লড়াইয়ে বাংলাদেশ ১৪ মিনিট আগে
নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা
কালিনিন বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভিভিইআর-১০০০ প্রযুক্তির রিঅ্যাক্টর ব্যবহার করা হয়েছে। কেন্দ্রটির কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি পরিবেশের ওপর প্রভাব ও বিকিরণের মাত্রা পর্যবেক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন
সংগীতশিল্পী আসিফের গাড়িতে দুর্বৃত্তের গুলি ১ ঘণ্টা আগে
এ জন্য ১৭টি স্টেশনের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এসব তথ্য সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য, আবহাওয়া, বায়ুর মান ও পানির গুণগত মান নিয়মিত পরীক্ষা করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কালিনিন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিকিরণ নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান ভিক্টর ও. দোলেচিখ বলেন, নিরাপত্তা ও বিকিরণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ তাঁদের প্রধান অগ্রাধিকার। স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির আশপাশের ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকার বিকিরণের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা হয় বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন
নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, আটক ৫৬ জন ১৮ ঘণ্টা আগে
রূপপুরে আরও উন্নত প্রযুক্তি
বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে থ্রি প্লাস জেনারেশনের ভিভিইআর-১২০০ মডেলের রিঅ্যাক্টর ব্যবহার করা হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম প্রকল্পটির প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, রিঅ্যাক্টরের প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক না কেন, সেটি নিরাপদে পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কার্যকর তদারকি এবং প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা জরুরি।
আরও পড়ুন
বসিলায় ৪০ ফিট খাল পরিষ্কার, অভিযানে অংশ নিলেন ৬০০ স্বেচ্ছাসেবক ১৮ ঘণ্টা আগে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, রিঅ্যাক্টরের নিরাপত্তাব্যবস্থার পাশাপাশি দক্ষ ব্যবস্থাপনাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি দেখা দিলে বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা ব্যাহত হতে পারে এবং এর ফলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুন
সাকের হত্যার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ, চিকিৎসক সাময়িক বরখাস্ত ১৮ ঘণ্টা আগে
স্থানীয় জনগণের সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ
সংশ্লিষ্টদের মতে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের সচেতন করাও জরুরি। জরুরি পরিস্থিতিতে কী করণীয়, কীভাবে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে এবং কোথায় নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে—এসব বিষয়ে স্থানীয় জনগণকে জানানো প্রয়োজন।
রূপপুর প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য তাই শুধু আধুনিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করবে না; এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে দক্ষ পরিচালনা, নিয়মিত নিরাপত্তা মূল্যায়ন, স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ এবং জনসচেতনতা।
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।