https://newsbdc.com/entertainment/mvupx4a61f
চাকরি হারিয়ে শতকোটি টাকার সিনেমার প্রযোজক অনুপ্রিয়া
অ্যাপলের চাকরির সাক্ষাৎকারে ব্যর্থতা থেকে শতকোটি টাকার চলচ্চিত্রের প্রযোজক হয়ে ওঠা—অনুপ্রিয়া নগরের জীবনের গল্প যেন সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। একসময় অ্যাপলে চাকরির স্বপ্ন নিয়ে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে দ্বিতীয় ধাপেই বাদ পড়েছিলেন তিনি। সেই ব্যর্থতাই অপ্রত্যাশিতভাবে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেয় এক আধ্যাত্মিক জগতের সঙ্গে। পরবর্তী সময়ে নিম করোলি বাবার জীবন ও দর্শন নিয়ে নির্মিত ‘হনুমান অংশ’ সিনেমার অন্যতম প্রযোজক হয়ে ওঠেন অনুপ্রিয়া।
আরও পড়ুন
সিনেমার টিকিটের টাকা ছিল না, ছেলেকে যেভাবে আনন্দ দিয়েছিলেন শাহরুখের বাবা ১৪ ঘণ্টা আগে
স্টিভ জবসের কর্মজীবন ও সাফল্যের গল্প জানতে গিয়ে অনুপ্রিয়া জানতে পারেন, অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা উত্তরাখণ্ডের কৈঞ্চি ধামে গিয়ে নিজের সৃষ্টিশীল ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছিলেন। জবসের স্মৃতিবিজড়িত সেই আশ্রম সম্পর্কে জানার পর তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। সেই কৌতূহল থেকেই আশ্রমে যাওয়া এবং ধীরে ধীরে নিম করোলি বাবার প্রতি গভীর বিশ্বাস গড়ে ওঠে তাঁর।
পরবর্তী সময়ে বিশাল চতুর্বেদী পরিচালিত ‘হনুমান অংশ’ সিনেমার সঙ্গে যুক্ত হন অনুপ্রিয়া। ছবিটির প্রাথমিক নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল মাত্র দেড় কোটি টাকা। তিন প্রযোজকের একজন হিসেবে নিজের সঞ্চয় থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন
‘চিকিৎসক বলেছিলেন, আর সাড়ে চার-পাঁচ বছর বাঁচব’ ১৮ ঘণ্টা আগে
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অনুপ্রিয়া জানান, তাঁর এই সিদ্ধান্তে শুরুতে ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন বাবা। বিদেশে পড়াশোনা, অর্থনীতিতে ডিগ্রি এবং জুরিখে প্রতিষ্ঠিত চাকরি ছেড়ে চলচ্চিত্রের মতো অনিশ্চিত জগতে নিজের বড় অঙ্কের সঞ্চয় বিনিয়োগ করাকে সহজভাবে নিতে পারেননি তিনি। বিশেষ করে চলচ্চিত্রশিল্পে অনুপ্রিয়ার কোনো পূর্বপরিচিতি বা যোগাযোগ না থাকায় পরিবারের উদ্বেগ ছিল আরও বেশি।
তবে শেষ পর্যন্ত বাবা-মা দুজনই তাঁর পাশে দাঁড়ান। এমনকি সিনেমাটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি না দিয়ে সরাসরি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের সিদ্ধান্তেও মেয়েকে উৎসাহ দেন তাঁরা।
আরও পড়ুন
শোক আর সংকট পেরিয়ে মুম্বাই, আজ ১৩ হাজার কোটির মালিক শাহরুখ ১৮ ঘণ্টা আগে
অনুপ্রিয়ার বিশ্বাস ছিল, সিনেমাটি বক্স অফিসে ব্যর্থ হলেও নিজের বিশ্বাসের জায়গা থেকে তিনি সরে আসবেন না। তাঁর ধারণা ছিল, সমসাময়িক দর্শক হয়তো শুরুতে ছবিটি গ্রহণ নাও করতে পারেন, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের তরুণদের সঙ্গে এর আত্মিক সংযোগ তৈরি হবে। শিশু-কিশোরদের মনে আধ্যাত্মিকতার বীজ বপন করাই ছিল তাঁর কাজের অন্যতম প্রেরণা।
মুক্তির পর প্রথম সপ্তাহে ছবিটির আয় ছিল মাত্র এক কোটির কিছু বেশি। দ্বিতীয় সপ্তাহে মাত্র ৩০টি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হয় সিনেমাটি। শুরুতে ব্যবসার চিত্র আশাব্যঞ্জক না হলেও তৃতীয় রোববারের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। এক দিনেই আড়াই কোটি টাকার ব্যবসা করার পর ছবিটির আয় দ্রুত বাড়তে থাকে।
আরও পড়ুন
আগামীকাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্চে উঠছেন জেমস ১ নভেম্বর ২০২৬
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই কোটিরও কম বাজেটে নির্মিত ‘হনুমান অংশ’ মুক্তির ৮৩ দিনের মাথায় বিশ্বজুড়ে ৪৫২ কোটি টাকার বেশি আয় করে। ছবিটির জনপ্রিয়তা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, বিদেশ থেকে ফিরে অনুপ্রিয়ার বাবার পক্ষেও মুম্বাইয়ের একটি সিনেমা হলে টিকিট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। প্রায় সব প্রেক্ষাগৃহই তখন দর্শকে পূর্ণ ছিল।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।