ছবি ভিডিও মতামত
সর্বশেষ
রূপগঞ্জে পোশাক কারখানায় ডায়ার কম্প্রেসার বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪ ইসলামিক কুইজে অংশ নিলেই মিলতে পারে ফ্রি ওমরাহ প্যাকেজ শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি আন্দোলনে সহিংসতার উসকানি কারা দিচ্ছে? বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী ফ্যান ব্যবহারে ২ হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সম্ভাবনা সুনামগঞ্জে ভয়াবহ আগুনে ১৩ বসতঘর পুড়ে ছাই সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বাড়াতে আইনে পরিণত হচ্ছে অধ্যাদেশ আগারগাঁও মেট্রো স্টেশন ও সোবহানবাগে ককটেল বিস্ফোরণ গাজীপুরে তুরাগ নদে ডুবে পোশাকশ্রমিকের মৃ/ত্যু, ৩ ঘণ্টা পর মর/দেহ উদ্ধার স্থানীয় নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা বেশি এমন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবে বিএনপি: রিজভী ২০২৭ সালের ছুটির তালিকায় কী থাকছে, জানাল মন্ত্রিসভা
বাংলাদেশ

শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি আন্দোলনে সহিংসতার উসকানি কারা দিচ্ছে?

প্রকাশ: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ০০: ৫৯
শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি আন্দোলনে সহিংসতার উসকানি কারা দিচ্ছে?
সংগৃহীত

গার্মেন্টস শ্রমিকরা যে মজুরি পান, তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন। প্রতি মাসেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। ফলে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবি যৌক্তিক। সরকারও শ্রমিকদের দাবির প্রতি সহমত জানিয়ে দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। এরপরও মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করছেন শ্রমিকরা। অতীতে প্রতিবার মজুরি বাড়ানোর আগে এ ধরনের আন্দোলন হয়েছে।


তবে এবার শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে রাজনৈতিক পক্ষের অনুপ্রবেশ ও সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা এবং আওয়ামী লীগপন্থি কিছু ব্যবসায়ী এ আন্দোলনে ইন্ধন দিচ্ছেন। তাদের দলীয় কর্মীদের পাশাপাশি সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের মালিকানাধীন এবং আওয়ামী লীগপন্থি ব্যবসায়ীদের কারখানার শ্রমিকদেরও আন্দোলনে নামানো হয়েছে বলে সরকারের কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলন ও অস্থিরতার পেছনে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ইন্ধন রয়েছে। এ কাজে কিছু শিল্পমালিকও জড়িত বলে সরকারের কাছে তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে। ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনের আলোচনা চলার মধ্যেই পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার।


গতকাল সোমবার সচিবালয়ে পোশাকশিল্প মালিকদের দুটি সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যেসব শিল্পমালিক কারখানা বন্ধ রেখেছেন, তাদের তালিকা সরকারের কাছে জমা দেবেন মালিকপক্ষ। একই সঙ্গে অস্থিরতা সৃষ্টিতে জড়িত সন্দেহভাজন শ্রমিক সংগঠন ও নেতাদের নামের তালিকাও চাওয়া হয়েছে।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত শ্রমিক আন্দোলনের ছবি ও ভিডিওতেও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কয়েকজন পদধারী নেতাকর্মীকে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলনকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে দলটির নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তৎপর হয়েছেন বলেও দাবি করেছে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র। এ ঘটনায় কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে আটকের খবরও পাওয়া গেছে।


তবে বিজিএমইএ নেতা ও শ্রমিক নেতারা বলছেন, শুরুতে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন শুরু হলেও পরে এতে তৃতীয় কোনো পক্ষ ঢুকে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের জোর করে রাস্তায় নামানো হচ্ছে। এ অবস্থায় শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে অন্য কোনো পক্ষ যেন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, সে জন্য শ্রমিক নেতারা আন্দোলন ছেড়ে কাজে ফেরার আহ্বান জানাচ্ছেন।


শ্রমিক নেতা ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তৌহিদুর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, ‘দিনভর আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করেছি। সেসব জায়গায় আমরা বলেছি, শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলন একটি পক্ষ ছিনতাই করেছে। এই সহিংস আন্দোলনের সঙ্গে প্রকৃত শ্রমিকরা জড়িত না। এ জন্য আমরা শ্রমিকদের কারও উসকানিতে পা না দিয়ে আন্দোলন ছেড়ে দ্রুত শান্তিপূর্ণভাবে কাজে ফেরার নির্দেশনা দিচ্ছি।’

আরও পড়ুন

বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী ফ্যান ব্যবহারে ২ হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সম্ভাবনা ৫ ঘণ্টা আগে বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী ফ্যান ব্যবহারে ২ হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সম্ভাবনা


বিজিএমইএ নেতারা বলছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের নেতাদের কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলনে নামানোর যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তা নিয়ে সরকার তদন্ত করছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে কিছু কারখানার মালিকের নাম এসেছে বলেও শোনা যাচ্ছে। কোনো গার্মেন্টস মালিকের আন্দোলনে ইন্ধন দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে বিজিএমইএ থেকে ওই কারখানাকে সব ধরনের সেবা দেওয়া বন্ধ করা হবে।


বিজিএমইএর পরিচালক ও নতুন গঠিত মজুরি বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি এবিএম সামছুদ্দিন সময়ের আলোকে বলেন, ‘এই শ্রমিক আন্দোলনে কোনো কারখানা মালিকের ইন্ধন আছে কি না, সেটা আমাদের জানা নেই—এটা সরকার ও সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ভালো বলতে পারবে। তবে আমি এটা বলতে পারি, কোনো গার্মেন্টস কারখানার মালিককে এই শ্রমিক আন্দোলনে ইন্ধন দেওয়ার যদি প্রমাণ মেলে, তা হলে বিজিএমইএ থেকে সে কারখানাকে সব ধরনের সেবা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হবে।’


নতুন মজুরি বোর্ডের প্রথম বৈঠক কবে হতে পারে এবং কত দিনের মধ্যে মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত হবে—এ বিষয়ে এবিএম সামছুদ্দিন বলেন, হাইকোর্ট থেকে বোর্ডের চেয়ারম্যানের নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর দ্রুত বৈঠক শুরু হবে। কয়েক দফা বৈঠকের পর সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে চলতি নভেম্বরের মধ্যেই শ্রমিকদের মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত করার আশা করছেন তারা।


বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু সময়ের আলোকে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু গার্মেন্টস কারখানার মালিকের ইন্ধনের কথা বলা হচ্ছে এবং গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তাদের নাম এসেছে বলে জানানো হয়েছে। তবে তারা এখনো এমন কোনো তালিকা হাতে পাননি। তিনি বলেন, শিল্প-কারখানায় আন্দোলন, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন। এসব সহিংসতার কারণে সোমবার শিল্প এলাকার ৬৭৯টি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

গোয়েন্দা তালিকায় যাদের নাম এসেছে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেতাদের ইন্ধনের যে অভিযোগ তুলেছেন, তার সমর্থনে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার একটি প্রতিবেদন এসেছে বলে জানিয়েছে সময়ের আলো। পত্রিকাটির হাতে আসা ওই প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের প্রায় ডজনখানেক নেতা এবং আওয়ামী লীগপন্থি ব্যবসায়ীদের কারখানার নাম রয়েছে।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কারখানাগুলোর মালিকদের কেউ পলাতক, আবার কেউ কারাগারে রয়েছেন। পলাতক মালিকেরা ফোনে নির্দেশনা দিয়ে উসকানি দিচ্ছেন এবং কারাগারে থাকা মালিকদের কারখানার শীর্ষ কর্মকর্তারা এ কাজে জড়িত বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বাড়াতে আইনে পরিণত হচ্ছে অধ্যাদেশ ৫ ঘণ্টা আগে সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বাড়াতে আইনে পরিণত হচ্ছে অধ্যাদেশ


তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো গ্রুপ, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সেপাল গ্রুপ, সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদীর এনভয় গ্রুপ, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের রেনেসাঁ গ্রুপ (ইন্টারস্টফ অ্যাপারেল), সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর হামিদ গ্রুপ (হামিদ সোয়েটার্স লিমিটেড) এবং সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের ফেবিয়ান গ্রুপ (ফেবিয়ান গার্মেন্টস লিমিটেড)।


এ ছাড়া আওয়ামী লীগপন্থি কয়েকজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানের নামও ওই তালিকায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন তুষুকা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়জুর রহমান বাদল, ওয়েল গ্রুপের আব্দুস সালাম, নিপা গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. খসরু চৌধুরী, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও অ্যাক্সিস নিটওয়্যার্স লিমিটেডের মালিক জাহিদ আহমেদ টুলু, স্মার্ট গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম মোশাররফ হুসাইন এবং গিভেন্সি গ্রুপের মাসুমা খাতুন লিপা।

ছবি-ভিডিওতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলনকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তৎপর হয়েছেন বলেও দাবি করেছে একটি সূত্র। এ ঘটনায় কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে আটকের খবর পাওয়া গেছে।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করতে দেখা গেছে। এসব পোস্টে আন্দোলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মসূচির দৃশ্যও তুলে ধরেছেন তারা।


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজিবুল ইসলাম নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একাধিক ছবি ও ভিডিও পোস্ট করেছেন। গত রোববার দুপুর ২টা ১৭ মিনিটে একটি ছবি প্রকাশ করে তিনি লেখেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কারও ওপর ভর করে ক্ষমতায় আসবে না। আমরা জনগণের শক্তি সঙ্গে নিয়ে কর্মসূচি দেব।’


এর ৫১ মিনিট আগে একটি ভিডিও পোস্ট করেন তিনি। এ ছাড়া দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে আরেকটি ভিডিও এবং সকাল ১০টা ৬ মিনিটে শ্রমিক আন্দোলন নিয়ে একটি পোস্ট দেন সাজিবুল। সেখানে তিনি লেখেন, ‘শ্রমিকের বেতন ৩০ হাজার টাকার বৃদ্ধির দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো আজকেও শ্রমিক আন্দোলন চলছে।’


আরও পড়ুন

আগারগাঁও মেট্রো স্টেশন ও সোবহানবাগে ককটেল বিস্ফোরণ ৫ ঘণ্টা আগে আগারগাঁও মেট্রো স্টেশন ও সোবহানবাগে ককটেল বিস্ফোরণ

এর আগে গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে আগুন জ্বালানোর একটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। ওই ভিডিওতে ‘৩০ হাজার বেতন দে, নইলে গদি ছেড়ে দে’ স্লোগান শোনা যায়।

কারখানা বন্ধের তালিকা চেয়েছে সরকার

বৈঠকে শিল্পমালিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কিছু মালিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের কারখানা বন্ধ রেখেছেন। এমন কারখানা ও মালিকদের তালিকা সরকারকে দেওয়া হবে।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কারখানার তালিকা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে ভূমিকা রাখা শ্রমিক সংগঠন ও নেতাদের নামও দিতে বলা হয়েছে। সরকার বিশ্বাস করে, কোনো শ্রমিক কিংবা শ্রমিক সংগঠন শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে না। তবে ভুলক্রমে কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ইন্ধন দিয়ে থাকলে বা জড়িত থাকলে তাদের সেখান থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এ ধরনের কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমনের চেষ্টা করবে। দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি কিংবা রাজনৈতিক কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে সীমান্তের ওপার থেকে ইশারায় কেউ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে।

শিল্প-কারখানা বন্ধ চায় না সরকার

পোশাক খাতে উৎপাদন অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো শিল্প-কারখানা বন্ধ হোক, তা চায় না। এক মুহূর্তের জন্যও কোনো কারখানা বন্ধ থাকুক, সেটি সরকারের কাম্য নয়। একইভাবে শিল্প খাতে কোনো ধরনের অস্থিরতাও চায় না সরকার।


সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য স্বার্থ রক্ষা এবং শিল্পের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা জরুরি। শ্রমিক আন্দোলনের নামে যারা সহিংসতা কিংবা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নেবে।

নিষিদ্ধ দলের অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনা সফল হবে না: মাহদী আমিন

আরও পড়ুন

২০২৭ সালের ছুটির তালিকায় কী থাকছে, জানাল মন্ত্রিসভা ৫ ঘণ্টা আগে ২০২৭ সালের ছুটির তালিকায় কী থাকছে, জানাল মন্ত্রিসভা

শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের অস্থিতিশীলতা তৈরির যেকোনো পরিকল্পনা সফল হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।


সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।


গার্মেন্টস শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, এ শিল্পের সঙ্গে লাখ লাখ শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাপ্লাই চেইন এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি জড়িত। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য ও প্রাপ্য মজুরি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শিল্পের সক্ষমতা, উৎপাদন ব্যয়, অন্যান্য খাতের বাস্তবতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে।


তিনি জানান, এ লক্ষ্যে মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

জানুয়ারি থেকে বাড়তি মজুরি দেওয়ার লক্ষ্য: শ্রমিক প্রতিনিধি

তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নিম্নতম মজুরি বোর্ডের শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার। তিনি বলেন, ‘আমরা মজুরি বোর্ডে এমনভাবে কাজ করব, যাতে আগামী জানুয়ারি থেকে শ্রমিকরা বাড়তি মজুরি হাতে পান। এ ক্ষেত্রে বিলম্ব হওয়ার কোনো কারণ নেই।’


সোমবার শ্রম ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বাবুল আখতার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রমিকপক্ষের স্থায়ী প্রতিনিধি আনোয়ার হোসাইন। আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক নেতা নাজমা আক্তার, আবুল হোসাইন, লাভলী ইয়াসমিন ও সুলতানা বেগম।


বাবুল আখতার বলেন, চলমান মজুরি আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অজুহাতে কিছু শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যেসব শ্রমিক ও শ্রমিক নেতা শুধু মজুরি-সংক্রান্ত ন্যায্য দাবি উত্থাপন কিংবা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে আটক হয়েছেন, তাদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা ও ব্যবস্থা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান।

আরও পড়ুন

জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে চলতি মাসেই তুরস্কে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ৫ ঘণ্টা আগে জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে চলতি মাসেই তুরস্কে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

শ্রমিক অসন্তোষে বন্ধ ৬৭৯ পোশাক কারখানা: বিজিএমইএ

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা এবং শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে বের হয়ে যাওয়ার কারণে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর-ময়মনসিংহ এবং সাভার-আশুলিয়া-জিরানী অঞ্চলের ৬৭৯টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ। এতে কাজ না করেই কারখানা থেকে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হয়েছেন ১৬ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ জন শ্রমিক। সোমবার বিজিএমইএ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।


সংস্থাটির দেওয়া বেলা সাড়ে ১১টার হিসাব অনুযায়ী, দেশের পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে মোট ২ হাজার ১৩৪টি কারখানার মধ্যে ১ হাজার ৪৬৪টি খোলা ছিল।


বিজিএমইএ সূত্র জানায়, শিল্পাঞ্চলগুলোর মধ্যে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ এলাকায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে। সেখানকার ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে ৩৮২টির শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে বের হয়ে যান। ফলে এ দুই এলাকায় কাজ না করে ফিরে গেছেন ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৪৭২ জন শ্রমিক।


একই চিত্র সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী এলাকাতেও। সেখানে ৪৪১টি কারখানার মধ্যে ২২৩টিতে কাজ বন্ধ রয়েছে। কাজ না করে ফিরে গেছেন ৭ লাখ ৪৩ হাজার ৬৫০ জন শ্রমিক।


এ ছাড়া রাজধানীর মিরপুরে ৩২০টি কারখানার মধ্যে ৬৫টির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এতে কাজ না পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৩ হাজার ৪৫০ জন শ্রমিক।


তবে নারায়ণগঞ্জের ১৯৭টি এবং চট্টগ্রামের ৩১৪টি পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের কোনো প্রভাব পড়েনি। এসব এলাকার সব কারখানা স্বাভাবিকভাবে চালু রয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।

Bangladesh নিয়ে আরও পড়ুন