https://newsbdc.com/international/mw0csvmv01
৫০ হাজার কিলোমিটার হেঁটে বিশ্বভ্রমণ, ২৮ বছর পর বাড়ি ফিরলেন কার্ল বুশবি
দীর্ঘ প্রায় আড়াই দশকের পথচলা। দিগন্ত ছোঁয়া এক অভিযান। অবিশ্রান্ত দুই পায়ে অবশেষে পুরো বিশ্বপরিক্রমা শেষ করে নিজ বাড়িতে ফিরলেন ব্রিটিশ অভিযাত্রী কার্ল বুশবি। সোমবার নিজের শহরের চেনা গণ্ডিতে ফিরে ২৮ বছরের এই দীর্ঘ অভিযান শেষ করেন তিনি।
মধ্য আমেরিকার গভীর জঙ্গল, আলাস্কা ও রাশিয়ার জমাট বরফ কিংবা হিমশীতল ইংলিশ চ্যানেল—সব বাধা তিনি পেরিয়েছেন স্রেফ নিজের পায়ের শক্তিতে।
আরও পড়ুন
গাড়ির ডিকিতে ৩৮০ লিটার জমজমের পানি, জরিমানা ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা ৪৭ মিনিট আগে
একক প্রচেষ্টায় সম্পূর্ণ নিজের শারীরিক সক্ষমতার ওপর ভর করে লিখেছেন নতুন ইতিহাস।
জন্মশহর হালে সোমবার সকালে পৌঁছালে হাজার হাজার মানুষ উষ্ণ করতালিতে তাঁকে বরণ করে নেন। আবেগাপ্লুত বুশবি সমবেত জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘২৮ বছরের এই পথচলা শেষে এর চেয়ে সুন্দর উপহার আর কিছুই হতে পারে না।’
আরও পড়ুন
ওমান উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজে হা/মলা, নি/হত ভারতীয় নাগরিক ৫০ মিনিট আগে
কথা শেষে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামান্য কিছু রসদ নিয়ে ট্রলি ঠেলে তিনি এগিয়ে যান শৈশবের বাড়ির দিকে। সেখানে তাঁর অপেক্ষায় ছিলেন বৃদ্ধা মা, ছেলে ও নাতনি।
প্রায় ৩০ বছর আগে ভাঙা হৃদয় ও সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর মানচিত্রে একটি দাগ কেটে যাত্রা শুরু করেছিলেন বুশবি। অনুপ্রেরণা ছিলেন তাঁর বাবা। মাত্র এক জোড়া পা, একটি তাঁবু, সামান্য কিছু ডলার আর একটি সস্তা প্লাস্টিকের ক্যামেরা—এই ছিল তাঁর সম্বল। চিলি থেকে শুরু করে উত্তর আমেরিকা, আলাস্কা, রাশিয়া, মঙ্গোলিয়া, চীন ও ইউরোপ হয়ে অবশেষে পূর্ণ হলো তাঁর বৃত্ত।
আরও পড়ুন
এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ, নি/হত ১ ৫২ মিনিট আগে
তবে এই যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। মরুভূমির একঘেয়েমি, সুমেরুর হাড়কাঁপানো শীত ছাড়াও পানামায় গ্রেপ্তার, মেক্সিকোতে বন্দুকের মুখে জিম্মি হওয়া কিংবা সীমান্ত নিয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের বন্দিশালায় থাকতে হয়েছে তাঁকে। এর সঙ্গে ছিল অর্থনৈতিক মন্দা ও কোভিডের বাধা।
বিবিসিকে বুশবি জানান, ২৮ বছরের মধ্যে টানা ১৫ বছর হেঁটেছেন তিনি। প্রাথমিকভাবে ১২ বছরে বিশ্বভ্রমণ শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও ভিসা ও প্রশাসনিক জটিলতা মেটাতে বাড়তি সময় লেগেছে।
আরও পড়ুন
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: বিশ্ববাজারে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম ৩ ঘণ্টা আগে
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বুশবি বলেন, একটি কাজ সম্পন্ন করতে যেমন অনেকের সহযোগিতা প্রয়োজন হয়, তেমনি তাঁকে বাড়ি ফিরতে পুরো পৃথিবীর মানুষের সহায়তা নিতে হয়েছে। যাত্রাপথে অসংখ্য অপরিচিত ব্যক্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সহযোগিতা পেয়েছেন তিনি। তাই এই অর্জনকে নিজের একক কৃতিত্ব হিসেবে না দেখে তিনি জানান, এই অভিযানে তাঁর সঙ্গে ছিল বিশাল একটি দল, যার নাম পৃথিবী।
এই অবিশ্বাস্য অভিযান নিয়ে তৈরি একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্র এখন মুক্তির অপেক্ষায়। খুব শিগগিরই নিজের এই মহাকাব্যিক অভিযানের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে পুরো ইংল্যান্ডজুড়ে স্পিকিং ট্যুরে বের হবেন কার্ল বুশবি।
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।