https://newsbdc.com/lifestyle/mv9j0msm1i
চোখে ধুলাবালি ঢুকলে কী করবেন, জেনে নিন নিরাপদ উপায়
শুষ্ক মৌসুম সমাগত। ধুলাবালিতে ভরা শহরের বাতাসে সাধারণ চলাফেরাও এখন কষ্টকর। রাস্তায় হাঁটতে গেলে অনেক সময় চোখে ধুলাবালি, পোকা, প্রসাধনসামগ্রী বা কোনো ক্ষুদ্র কণা পড়ে যেতে পারে। এতে তৈরি হয় তীব্র অস্বস্তি ও যন্ত্রণা। এমন পরিস্থিতিতে স্বভাববশত অনেকেই চোখের পাতা ডলে ডলে চোখ লাল করে ফেলেন। অথচ চোখ চুলকালে বা ধুলাবালি গেলে তাড়াহুড়ো করে চোখ কচলাতে গিয়ে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারেন। এতে চোখের কর্নিয়ায় মারাত্মক আঘাত, ক্ষত বা আলসার হতে পারে। এমনকি সামান্য অসচেতনতা চোখের স্থায়ী ক্ষতির কারণও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চোখে কোনো কিছু আটকে গেলে সচেতনভাবে ও সাবধানে তা দূর করতে হবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, চোখ সুরক্ষিত রেখে অস্বস্তি দূর করার উপায়গুলো।
আরও পড়ুন
শিশুর ভয়কে অবহেলা নয়, কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করুন ১১ ঘণ্টা আগে
চোখে কী কী পড়তে পারে এবং এর লক্ষণ
চোখে বাইরের কোনো বস্তু ঢুকে যাওয়া খুবই সাধারণ ঘটনা। সাধারণত যেসব জিনিস চোখে পড়তে পারে, সেগুলো হলো—
- ধুলাবালি ও পোকা: বাতাসে চলাফেরার সময় ধুলাবালি কিংবা পোকা চোখে ঢুকে যেতে পারে।
- প্রসাধনসামগ্রী ও আঠা: কৃত্রিম চোখের পাতা লাগানোর আঠা, আইলাইনার বা মাসকারার শুকনো গুঁড়া চোখে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
- শিল্পকারখানার কণা: ফাইবারগ্লাস, ধাতু বা কাঠ কাটার ক্ষুদ্র টুকরো চোখে ঢুকতে পারে। বিশেষ করে নির্মাণ ও শিল্পকাজে যুক্ত ব্যক্তিদের এ ঝুঁকি বেশি।
- কন্টাক্ট লেন্স: লেন্স সরে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে চোখে অস্বস্তি হতে পারে।
চোখে বাইরের কোনো বস্তু ঢুকলে জ্বালাপোড়া, খসখসে অনুভূতি, ঝাপসা দেখা, চোখ লাল হওয়া এবং অতিরিক্ত আলোতে অস্বস্তির মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
আরও পড়ুন
পা নরম ও কোমল রাখতে ঘরেই করুন ৫ সহজ যত্ন ১১ ঘণ্টা আগে
চোখ থেকে ময়লা বা বস্তু দূর করার সঠিক নিয়ম
চোখের পাপড়ি, বালুকণা বা মাসকারার গুঁড়ার মতো ছোট কোনো বস্তু পড়লে স্বাভাবিকভাবে পলক ফেলা এবং চোখের পানি তা বের করে দিতে সাহায্য করতে পারে। তবে অস্বস্তি না কমলে নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করুন।
১. হাত ভালো করে ধুয়ে নিন: চোখের আশপাশে হাত দেওয়ার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করুন।
আরও পড়ুন
ভিটামিন সি পেতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন ৫ খাবার ১১ ঘণ্টা আগে
২. চোখ পরীক্ষা করুন: ভালো আলোতে চোখের দিকে তাকান। তবে চোখে আঙুল ঢোকাবেন না এবং পাতা জোর করে উল্টে কিছু বের করার চেষ্টা করবেন না।
৩. পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিন: ছোট, আলগা কণা বের করতে পরিষ্কার প্রবাহমান পানি দিয়ে চোখ আলতোভাবে ধুয়ে নিতে পারেন। প্রয়োজনে উপযুক্ত জীবাণুমুক্ত স্যালাইন ব্যবহার করা যায়।
আরও পড়ুন
অজ্ঞান ব্যক্তির জ্ঞান ফেরাতে পানি ছিটানো কি ঠিক? ১১ ঘণ্টা আগে
৪. অস্বস্তি না কমলে চিকিৎসা নিন: ধোয়ার পরও চোখে কিছু আটকে থাকার অনুভূতি, ব্যথা বা লালভাব থাকলে নিজে থেকে বারবার চেষ্টা না করে চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
চোখে রাসায়নিক বা কোনো তরল পদার্থ গেলে করণীয়
ডিটারজেন্ট, ব্লিচ, অ্যামোনিয়া বা অন্য কোনো রাসায়নিক পদার্থ চোখে পড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
আরও পড়ুন
কাজের চাপে যে অভ্যাসগুলো বাড়াতে পারে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ১৪ ঘণ্টা আগে
- সঙ্গে সঙ্গে চোখ ধুয়ে ফেলুন: পরিষ্কার, স্বাভাবিক তাপমাত্রার প্রবাহমান পানি দিয়ে অন্তত ২০ মিনিট চোখ ধুতে থাকুন। চোখ ধোয়ার জন্য হাসপাতালে যাওয়ার অপেক্ষা করবেন না।
- কন্টাক্ট লেন্স থাকলে খুলে ফেলুন: ধোয়ার সময় সহজে খুলে এলে লেন্স সরিয়ে ফেলুন; তবে এ জন্য চোখ ধোয়া বন্ধ রাখবেন না।
- দ্রুত হাসপাতালে যান: রাসায়নিক পদার্থ চোখে গেলে ধোয়ার পরও ক্ষতি হতে পারে। তাই দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন।
যেসব ভুল কখনো করবেন না
- চোখ কচলাবেন না: এতে কর্নিয়ায় আঁচড় লাগতে পারে এবং চোখের ক্ষতি বাড়তে পারে।
- টুইজার, সূচ বা অন্য কোনো সরঞ্জাম ব্যবহার করবেন না: এসব দিয়ে চোখ থেকে কণা বের করার চেষ্টা বিপজ্জনক।
- চোখে অস্বস্তি থাকলে কন্টাক্ট লেন্স পরবেন না: চোখ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত লেন্স ব্যবহার বন্ধ রাখুন।
- গেঁথে থাকা বস্তু নিজে বের করবেন না: ধাতব বা ধারালো কোনো বস্তু চোখে ঢুকে থাকলে সেটি টানবেন না বা চাপ দেবেন না। দ্রুত হাসপাতালে যান।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
চোখে তীব্র ব্যথা, দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যাওয়া, আলো সহ্য করতে না পারা, রক্তপাত বা চোখে কোনো বস্তু গেঁথে থাকার ঘটনা ঘটলে অবিলম্বে চিকিৎসা নিন। রাসায়নিক পদার্থ চোখে গেলেও জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। সাধারণ কণা বের করার পরও অস্বস্তি অব্যাহত থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সামান্য অসচেতনতা চোখের স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই চোখে কিছু পড়লে কচলানোর পরিবর্তে নিরাপদ উপায়ে পরিষ্কার করুন এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।