https://newsbdc.com/national-district/mvot6rxng6
পঞ্চগড়–কক্সবাজার সরাসরি ট্রেন চালুর লক্ষ্যে রেলপথ উন্নয়নে জোর
দেশের উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড় থেকে দক্ষিণের পর্যটননগরী কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন চালুর পরিকল্পনা সামনে রেখে রেল যোগাযোগব্যবস্থা আধুনিকায়নে একাধিক প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের রেল নেটওয়ার্কের সংযোগ জোরদার, ডুয়েলগেজ ও ব্রডগেজ লাইন সম্প্রসারণ এবং নতুন লোকোমোটিভ ও কোচ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বগুড়া–সিরাজগঞ্জ কর্ড লাইন, শান্তাহার–বগুড়া লিংক, চট্টগ্রাম–দোহাজারী, টঙ্গী–আখাউড়া এবং লাকসাম–চট্টগ্রাম রেলপথ উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম বলেন, পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন চালুর লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পগুলো সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে পঞ্চগড়ের পাশাপাশি রাজশাহী, চিলাহাটি ও অন্যান্য ব্রডগেজ রুট থেকেও কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন
গাছের অস্তিত্ব সংকটে নগরের জীববৈচিত্র্য ১০ মিনিট আগে
কমতে পারে উত্তরাঞ্চলের যাত্রাপথ
বর্তমানে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন রুটের ট্রেনকে ঢাকার দিকে যেতে ঈশ্বরদী হয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। বগুড়া–সিরাজগঞ্জ কর্ড লাইন ও শান্তাহার–বগুড়া লিংক বাস্তবায়িত হলে এই ঘুরপথ প্রায় ১১২ কিলোমিটার কমতে পারে। এতে পঞ্চগড়, বুড়িমারী, লালমনিরহাট, দিনাজপুর ও চিলাহাটিসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে যাত্রার সময় প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা কমতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বগুড়া–সিরাজগঞ্জ ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ৯০১ একর জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠন করে অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।
এই করিডোরের সঙ্গে শান্তাহার–বগুড়া লিংক যুক্ত হলে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ আরও কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন চালুর সংযোগ তৈরিতে সহায়তা করতে পারে।
আরও পড়ুন
বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘আর্নব’, যেসব অঞ্চলে বৃষ্টির শঙ্কা ১৭ মিনিট আগে
পূর্বাঞ্চলের রেলপথও উন্নয়নের আওতায়
পঞ্চগড়–কক্সবাজার সরাসরি রেল যোগাযোগের পরিকল্পনায় পূর্বাঞ্চলের রেলপথ উন্নয়নও গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য চট্টগ্রাম–দোহাজারী, টঙ্গী–আখাউড়া এবং লাকসাম–চট্টগ্রাম অংশে ডুয়েলগেজ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম–দোহাজারী মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তরের প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। ঠিকাদার ও পরামর্শক নিয়োগের কার্যক্রম শেষে মূল কাজ শুরুর প্রস্তুতি চলছে। প্রকল্পটির আওতায় ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের পরিকল্পনাও রয়েছে।
আখাউড়া–লাকসাম ডাবল লাইন ডুয়েলগেজ প্রকল্প ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে, লাকসাম–চট্টগ্রাম এবং টঙ্গী–ভৈরববাজার–আখাউড়া অংশকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পূর্বাঞ্চলের রেল নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বাড়তে পারে।
ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলপথের দূরত্ব কমানোর পরিকল্পনা
বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, প্রায় ৮১ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা–কুমিল্লা কর্ড লাইন প্রকল্পও অগ্রাধিকার পেয়েছে। এর মাধ্যমে কুমিল্লাকে রাজধানীর শ্যামপুরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন
রায় নিয়ে মন্তব্য: ট্রাইব্যুনালে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন দুই আইনজীবী ৩২ মিনিট আগে
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের রেলপথের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমতে পারে এবং যাতায়াতের সময় প্রায় দুই ঘণ্টা সাশ্রয় হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। প্রকল্পের অ্যালাইনমেন্ট চূড়ান্ত হয়েছে এবং সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে।
এ ছাড়া লালমনিরহাট–বগুড়া এবং পার্বতীপুর–কাউনিয়া–রংপুরসহ বিভিন্ন রুটকে ডুয়েলগেজ বা ব্রডগেজে রূপান্তরের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
নতুন ট্রেন, কোচ ও লোকোমোটিভ সংগ্রহ
রেল যোগাযোগের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন ট্রেন চালু এবং রোলিং স্টক সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা–গোপালগঞ্জ রুটে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ চালুর পর ঢাকা–কক্সবাজার রুটে মহানগর এক্সপ্রেসের চলাচল সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
পরিবারভিত্তিক সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার গড়ছে সরকার: ফ্যামিলি কার্ডে বদলাবে সামাজিক নিরাপত্তা ৪১ মিনিট আগে
ভারত থেকে ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহ প্রকল্পের আওতায় প্রথম চালানে ১৮টি কোচ দেশে এসেছে। এর মধ্যে ১২টি কোচ দিয়ে ঢাকা–পাবনা রুটে আন্তনগর ট্রেন চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ট্রেনটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ঢাকা–খুলনা রুটেও দুটি আন্তনগর ট্রেন চালুর প্রস্তুতি চলছে।
এ ছাড়া এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) অর্থায়নে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহের প্রস্তাব এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ২০০টি মিটারগেজ কোচসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সেবায় গুরুত্ব
রেলপথের নিরাপত্তা বাড়াতে ঢাকা–টঙ্গী–জয়দেবপুর অংশের লেভেল ক্রসিংগুলোতে আন্ডারপাস বা ওভারপাস নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঢাকা–টঙ্গী অংশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ লেভেল ক্রসিংয়ে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় সতর্কীকরণ ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কাজে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আলালের সাক্ষাৎ ১ ঘণ্টা আগে
যাত্রীসেবায় কমলাপুর, বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রেলস্টেশনে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা চালুর কথাও জানিয়েছে রেলওয়ে। কয়েকটি আন্তনগর ট্রেনেও ওয়াই-ফাই সেবা দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রেলওয়ের সম্পদের কার্যকর ব্যবহার ও সেবার পরিধি বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির উদ্যোগও রয়েছে। কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন বেসরকারি খাতে পরিচালনা এবং রেলওয়ের জমিতে রোলিং স্টক উৎপাদন কারখানা স্থাপনের জন্য বিনিয়োগ আহ্বানের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, পঞ্চগড়–কক্সবাজার সরাসরি ট্রেন চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রেলপথের সংযোগ উন্নয়ন, নতুন কোচ ও লোকোমোটিভ সংগ্রহ, নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল সেবার উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে সরাসরি ট্রেন চালুর সময়সূচি ও প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি চূড়ান্ত হলে এ পরিকল্পনার বাস্তব চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।