https://newsbdc.com/national/mvotmj804v
পরিবারভিত্তিক সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার গড়ছে সরকার: ফ্যামিলি কার্ডে বদলাবে সামাজিক নিরাপত্তা
দেশের দরিদ্র ও অস্বচ্ছল পরিবারগুলোকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধার আওতায় আনতে পরিবারভিত্তিক সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলছে সরকার। এ তথ্যভাণ্ডারের মাধ্যমে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা যাচাই করে প্রকৃত দরিদ্রদের শনাক্ত এবং তাঁদের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডকে ধীরে ধীরে একটি সমন্বিত সামাজিক নিবন্ধন ও অর্থপ্রদানের ব্যবস্থায় রূপ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে একই তথ্যভিত্তি ব্যবহার, উপকারভোগী নির্বাচন আরও নির্ভুল করা এবং সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
চলতি বছর পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ৭০ হাজার ৮৬১টি পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পেয়েছে। পাইলট কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ২০২৬–২৭ অর্থবছরে নতুন করে ৪১ লাখ পরিবারকে কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ১০ অক্টোবর থেকে সারাদেশে পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণ ও কর্মসূচি সম্প্রসারণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
মিষ্টির শূন্য আসনে মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় আজ এইমাত্র
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মূল উদ্দেশ্য প্রকৃত দরিদ্র ও অস্বচ্ছল পরিবারগুলোকে তথ্যভিত্তিকভাবে চিহ্নিত করা। সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধা যেন যোগ্য পরিবারের কাছে পৌঁছায় এবং বাদ পড়া দরিদ্র পরিবারগুলোও যেন শনাক্ত হয়, সে লক্ষ্যেই কাজ চলছে।
তিনি জানান, পরিবারের আয়, সম্পদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও জীবিকার তথ্য বিবেচনায় নিয়ে উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তথ্যভাণ্ডার নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে।
আরও পড়ুন
গাছের অস্তিত্ব সংকটে নগরের জীববৈচিত্র্য ৫০ মিনিট আগে
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বলেন, ফ্যামিলি কার্ডকে শুধু ভাতা বিতরণের কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং একটি সমন্বিত সামাজিক নিবন্ধনব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে একই তথ্যভিত্তি ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করা হবে তথ্য
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্যসংখ্যা, আয়, সম্পদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, কর্মসংস্থান ও জীবিকার তথ্য সংগ্রহ করা হবে। তথ্য সংগ্রহকারীরা ট্যাবলেট কম্পিউটারের মাধ্যমে এসব তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করবেন। ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও অফলাইনে তথ্য সংগ্রহ করা যাবে। পরে নেটওয়ার্ক পাওয়া গেলে সংগৃহীত তথ্য কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারে পাঠানো হবে।
মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। তথ্য সংগ্রহকারীরা নির্ধারিত এলাকায় কাজ করছেন কি না, তা অবস্থানভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
আরও পড়ুন
বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘আর্নব’, যেসব অঞ্চলে বৃষ্টির শঙ্কা ৫৭ মিনিট আগে
সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহ্বুব বলেন, তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে নির্ভুলতা নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রশিক্ষণ এবং সংগৃহীত তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হবে। পাইলট কার্যক্রমে চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধান করে জাতীয় পর্যায়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
যোগ্যতা নির্ধারণে গুরুত্ব পাবে আর্থসামাজিক অবস্থা
ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগী নির্বাচনে রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত সুপারিশের পরিবর্তে পরিবারের প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। মাঠপর্যায়ে সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর পরিবারের আয়, সম্পদ, জীবনযাত্রা ও অন্যান্য সূচকের ভিত্তিতে যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে।
প্রকৃত দরিদ্র পরিবার শনাক্ত করতে সম্পদ ও আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের পদ্ধতি বা প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) ব্যবহার করা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে পরিবারের আয়-ব্যয়, সম্পদ, বাসস্থান ও জীবনযাত্রার বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে একটি স্কোর নির্ধারণ করা হবে।
আরও পড়ুন
রায় নিয়ে মন্তব্য: ট্রাইব্যুনালে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন দুই আইনজীবী ১ ঘণ্টা আগে
পাইলট পর্যায়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যে ভুল, নিজ নামে মোবাইল নম্বর না থাকা এবং ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক হিসাবসংক্রান্ত কিছু সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে কর্মসূচি সম্প্রসারণের আগে এসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সরাসরি অর্থ পৌঁছানোর পরিকল্পনা
সরকার ফ্যামিলি কার্ডকে শুধু ভাতা গ্রহণের মাধ্যম হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। ব্যাংক ও ডিজিটাল আর্থিক সেবার সঙ্গে কার্ড ব্যবস্থাকে যুক্ত করে সরকারি অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ কমানো এবং অর্থপ্রদানে স্বচ্ছতা বাড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন
পঞ্চগড়–কক্সবাজার সরাসরি ট্রেন চালুর লক্ষ্যে রেলপথ উন্নয়নে জোর ১ ঘণ্টা আগে
একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া সহায়তা পরিবারের খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা, বাসস্থান ও জীবিকার ওপর কী প্রভাব ফেলছে, তা মূল্যায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে। ভবিষ্যতে প্রভাব সমীক্ষার মাধ্যমে কর্মসূচির কার্যকারিতা পর্যালোচনা করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পাইলট পর্যায়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জাতীয় পর্যায়ে কর্মসূচিটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উপকারভোগী শনাক্তকরণ, তথ্য ব্যবস্থাপনা ও অর্থপ্রদানে পরিবর্তন আসতে পারে। পরিবারভিত্তিক সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার গড়ে উঠলে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আরও লক্ষ্যভিত্তিকভাবে পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে।
সূত্র: বাসস
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।