https://newsbdc.com/national/mv6j6dwln3
নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পদ্মায় ইলিশ শিকার, নদীপাড়ে জমজমাট হাট
সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় পদ্মা নদীতে ইলিশ শিকার চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে নদীর পাড়ে অস্থায়ী হাট বসিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে ডিমওয়ালা মা ইলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারির ঘাটতি ও দুর্গম চরাঞ্চলের সুযোগ নিয়ে একটি অসাধু চক্র এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে শিবচর উপজেলার বন্দরখোলা, মাদবরেরচর এলাকার চায়না খাল, চরজানাজাত ও কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নসংলগ্ন পদ্মাপাড়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।
আরও পড়ুন
ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন আজ ৪ ঘণ্টা আগে
মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে গত ৮ অক্টোবর থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত ও কেনাবেচায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। তবে এ নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই বন্দরখোলা ইউনিয়নের কাজিরসূরা ও চরজানাজাতের হিরা খাঁ এলাকায় প্রতিদিন ভোরে পদ্মা নদী থেকে ইলিশ নিয়ে ট্রলার ঘাটে ভিড়ছে বলে জানা গেছে।
ঘাটে মাছ নামানোর পরপরই মধ্যস্বত্বভোগী বা ফড়িয়ারা সেগুলো কিনে নদীর পাড়ে অস্থায়ী হাট বসিয়ে বিক্রি করছেন। সেখানে প্রতি কেজি বড় ইলিশ ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার টাকা এবং ছোট ইলিশ ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। মাছের হাট ঘিরে নদীর পাড়ে গড়ে উঠেছে আচার, শরবতসহ বিভিন্ন খাবারের দোকানও।
আরও পড়ুন
ছুটি শেষে রাজধানীমুখী মানুষের ঢল, ৪ ঘণ্টা আগে
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জেলে জানান, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার কথা মাথায় রেখেও তাঁরা জাল কেনার জন্য ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়েছেন। এখন মাছ ধরা বন্ধ রাখলে সেই ঋণ পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে। সংসারের খরচ ও ঋণের চাপ সামলাতে বাধ্য হয়েই তাঁরা মাছ ধরতে নামছেন বলে দাবি তাঁদের।
আরও পড়ুন
দেশের সীমান্তে সক্রিয় ৪ হাজার ৮৩৯ চোরাকারবারি ৪ ঘণ্টা আগে
দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতাদের একজন শেখপুরের শাহ আলম মুন্সি। তিনি বলেন, টাটকা মাছ পাওয়া যায় এবং পছন্দমতো বেছে কেনার সুযোগ রয়েছে—এ কারণে তিনি তুলনামূলক কম দামে ইলিশ কিনতে এখানে এসেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান এড়াতে অসাধু চক্রটি চরাঞ্চলে সতর্ককারীদের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। মূল ভূখণ্ড থেকে পুলিশ বা প্রশাসনের সদস্যদের আসার খবর পেলেই সতর্ককারীরা জেলেদের জানিয়ে দেন। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পৌঁছানোর আগেই জেলেরা ট্রলার নিয়ে কাশবন কিংবা মাঝনদীতে সরে পড়েন।
আরও পড়ুন
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ১৬ হাজার কোটি টাকার টেন্ডার আসছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ৫ ঘণ্টা আগে
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার বলেন, জনবলসংকটের কারণে পুরো এলাকায় শতভাগ নজরদারি চালানো কঠিন। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার শুরু থেকেই আইনি পদক্ষেপ জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দেশ-এর সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, একটি মা ইলিশ একবারে লাখ লাখ ডিম দেয়। তাই প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ নিধন বন্ধ করতে নদী এলাকায় নিয়মিত অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অসচ্ছল জেলেদের জন্য সরকারি সহায়তা দ্রুত নিশ্চিত করা জরুরি।
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।