https://newsbdc.com/national/mv80yvf8uk
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি
নিজ নিজ কর্ম ও উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁদের জীবনসংগ্রাম, ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কথা শুনে প্রশংসা করেছেন তিনি। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন—বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তাঁরা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁদের জীবনসংগ্রাম ও সমাজকল্যাণমূলক কাজের অভিজ্ঞতা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।
আরও পড়ুন
ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন আজ ১ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’
বুয়েট থেকে পড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নায়লা শারাফ
আরও পড়ুন
ছুটি শেষে রাজধানীমুখী মানুষের ঢল, ২ ঘণ্টা আগে
নায়লা শারাফ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন তিনি।
গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন নায়লা। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজেই শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করেন। তাঁর এই ব্যতিক্রমী পেশা নির্বাচন ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে উদ্যোগের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী প্রশংসা করেন।
দুই হাত ছাড়াই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা আলতাফ হোসেনের
আরও পড়ুন
দেশের সীমান্তে সক্রিয় ৪ হাজার ৮৩৯ চোরাকারবারি ২ ঘণ্টা আগে
নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন জন্ম থেকেই দুই হাতবিহীন। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁর পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।
নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থ দিয়ে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়ে লেখার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমও পরিচালনা করেন তিনি।
আলতাফ হোসেনের জীবনসংগ্রাম ও শিক্ষার প্রসারে তাঁর উদ্যোগের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
আরও পড়ুন
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ১৬ হাজার কোটি টাকার টেন্ডার আসছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ২ ঘণ্টা আগে
প্রায় তিন দশক ধরে বৃক্ষরোপণ করছেন রেজাউল কিবরিয়া বাবুল
ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল দীর্ঘদিন ধরে নিজ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম দিয়ে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন
সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশের নিয়ম পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ২ ঘণ্টা আগে
পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলার পর সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন বাবুল। তাঁর লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে। পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়নে তাঁর দীর্ঘদিনের অবদানের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তিনজনের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের মতো মানুষের কাজ অন্যদেরও ভালো উদ্যোগ নিতে উৎসাহিত করবে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে উৎসাহ দেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।