ছবি ভিডিও মতামত
সর্বশেষ
বাংলাদেশ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জরুরি প্রস্তুতি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার আহ্বান

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৫: ৩২
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জরুরি প্রস্তুতি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার আহ্বান
সংগৃহীত

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জরুরি প্রস্তুতি ও সাড়াদানব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়, প্রশিক্ষিত জনবল, কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানসম্মত নির্দেশিকা প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘স্টেকহোল্ডার্স প্রিপারেটরি ওয়ার্কশপ ফর দ্য আইএইএ ইমার্জেন্সি প্রিপেয়ার্ডনেস রিভিউ মিশন টু বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সচিব বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কমিশনিং ও পরিচালনার পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রূপপুরে জেনারেশন থ্রি প্লাস প্রযুক্তির আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও বিভিন্ন ইন্টারলক সুবিধা রয়েছে। তবে শুধু প্রযুক্তিগত নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দক্ষ জনবল, প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি ও সমন্বিত উদ্যোগ নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন

ই-টিন আছে, রিটার্ন দেননি? সবার জরিমানা ৫ হাজার নয় ১ ঘণ্টা আগে ই-টিন আছে, রিটার্ন দেননি? সবার জরিমানা ৫ হাজার নয়

তিনি বলেন, পারমাণবিক জরুরি পরিস্থিতির আশঙ্কা কম হলেও সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা প্রয়োজন। বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বাস্তবতা, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে জরুরি প্রস্তুতি ও সাড়াদানব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) আসন্ন ইমার্জেন্সি প্রিপেয়ার্ডনেস রিভিউ (ইপিআরইভি) মিশন আগামী ৮ থেকে ১৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে আনোয়ার হোসেন বলেন, এ মিশনকে পরীক্ষা বা উত্তীর্ণ-অনুত্তীর্ণ হওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং দেশের বিদ্যমান প্রস্তুতি মূল্যায়ন, ঘাটতি চিহ্নিত করা এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

আরও পড়ুন

ঠাকুরগাঁওয়ে ড্রামের নৌকা ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু ১ ঘণ্টা আগে ঠাকুরগাঁওয়ে ড্রামের নৌকা ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু

জরুরি পরিস্থিতিতে কখন ও কীভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হবে, জাতীয় পর্যায়ে কীভাবে তথ্য ও নির্দেশনা পৌঁছাবে এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ ও বাইরের সাড়াদান কার্যক্রমের মধ্যে কীভাবে সমন্বয় করা হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশিকা প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সচিব আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব, যোগাযোগব্যবস্থা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় লিখিতভাবে নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা, রোগী পরিবহন, আইসোলেশন, দায়িত্ব বণ্টন ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের কার্যকর পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন।

এ জন্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট কারিগরি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী, চিকিৎসা দল ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন

মেট্রো স্টেশনে বিমানবন্দরের মতো নিরাপত্তা, বসছে স্ক্যানার ২ ঘণ্টা আগে মেট্রো স্টেশনে বিমানবন্দরের মতো নিরাপত্তা, বসছে স্ক্যানার

পরিবেশ ও বিকিরণ পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে আনোয়ার হোসেন বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশের পরিবেশগত পরিস্থিতি ও বিকিরণমাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এসব তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিনিময় নিশ্চিত করা জরুরি। কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরুর আগের ভিত্তিমাত্রার সঙ্গে পরবর্তী সময়ের তথ্য তুলনা করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যও যাচাই করতে হবে।

গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বিকিরণ সম্পর্কে জনসাধারণকে সঠিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য জানানো গুরুত্বপূর্ণ। ভুল ব্যাখ্যা কিংবা তথ্যের ঘাটতি থেকে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহজবোধ্য ভাষায় সঠিক তথ্য তুলে ধরতে হবে এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে কার্যকর তথ্য বিনিময় নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন

পলাতক শক্তির কোনো অপতৎপরতা মেনে নেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২ ঘণ্টা আগে পলাতক শক্তির কোনো অপতৎপরতা মেনে নেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তিনি আশা প্রকাশ করেন, রূপপুরের জন্য প্রণীত জরুরি প্রস্তুতি ও সাড়াদানব্যবস্থা দেশের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্যও কার্যকর মডেল হতে পারে।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পারমাণবিক শক্তি) আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান।

সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুল হাসান বলেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ের প্রথম সাড়াদানকারী থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পর্যন্ত প্রত্যেকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কর্মশালার লক্ষ্য হলো আসন্ন আইএইএ মিশন সম্পর্কে অংশীজনদের অভিন্ন ধারণা তৈরি, স্ব-মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রস্তুতির ঘাটতি চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব ও করণীয় সুনির্দিষ্ট করা।

আরও পড়ুন

দুই মাসে মাদকের অভিযোগে ২৭ পুলিশ সদস্য কারাগারে: আইজিপি ২ ঘণ্টা আগে দুই মাসে মাদকের অভিযোগে ২৭ পুলিশ সদস্য কারাগারে: আইজিপি

কর্মশালায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, কারিগরি বিশেষজ্ঞ, পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলার স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, চিকিৎসা দল এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এ সময় আইএইএর আসন্ন ইপিআরইভি মিশন উপলক্ষে একটি বুকলেটের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। সংশ্লিষ্টদের আশা, এ কর্মশালার মাধ্যমে মিশনের প্রস্তুতি জোরদার, আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বৃদ্ধি এবং দেশের পারমাণবিক জরুরি সাড়াদান সক্ষমতা আরও উন্নত হবে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।

Bangladesh নিয়ে আরও পড়ুন