ছবি ভিডিও মতামত
সর্বশেষ
বাংলাদেশ

ই-টিন আছে, রিটার্ন দেননি? সবার জরিমানা ৫ হাজার নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৬: ৫৪
ই-টিন আছে, রিটার্ন দেননি? সবার জরিমানা ৫ হাজার নয়

ই-টিন (e-TIN) নিবন্ধন থাকার পর আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন তথ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিল না করার জন্য জরিমানার বিধান থাকলেও সবার ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একই অঙ্কের জরিমানা প্রযোজ্য নয়। করদাতার পূর্ববর্তী আয় নিরূপণ, প্রযোজ্য আইন এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ভিত্তিতে জরিমানা নির্ধারিত হয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শ্রেণির করদাতাদের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। তাই আয় করমুক্ত সীমার নিচে থাকলেও কিংবা বর্তমানে কর দেওয়ার মতো আয় না থাকলেও কারও রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।

আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২৬৬ ধারা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হলে উপকর কমিশনার জরিমানা আরোপ করতে পারেন। তবে জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণে করদাতার আগের আয় নিরূপণসহ নির্দিষ্ট শর্ত বিবেচনায় নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

ঠাকুরগাঁওয়ে ড্রামের নৌকা ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু ১ ঘণ্টা আগে ঠাকুরগাঁওয়ে ড্রামের নৌকা ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু

যেসব করদাতার ক্ষেত্রে আগে কখনো আয় নিরূপণ বা অ্যাসেসমেন্ট হয়নি, তাদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জরিমানার সীমা ৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ, এ বিধান সবার ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রয়োগের সুযোগ নেই।

অন্যদিকে, আগে আয় নিরূপণ হয়ে থাকলে সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ওপর প্রদেয় করের ৫০ শতাংশ অথবা ১ হাজার টাকা—এই দুইয়ের মধ্যে যেটি বেশি, সেই অনুযায়ী জরিমানা নির্ধারণের বিধান রয়েছে। এ ছাড়া ন্যূনতম জরিমানা ১ হাজার টাকা এবং রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে প্রতিদিনের জন্য অতিরিক্ত ৫০ টাকা জরিমানার বিধানও রয়েছে।

আরও পড়ুন

মেট্রো স্টেশনে বিমানবন্দরের মতো নিরাপত্তা, বসছে স্ক্যানার ২ ঘণ্টা আগে মেট্রো স্টেশনে বিমানবন্দরের মতো নিরাপত্তা, বসছে স্ক্যানার

কারা আয়কর রিটার্ন জমা দিতে বাধ্য, তা নির্ভর করে শুধু ই-টিন থাকার ওপর নয়; প্রযোজ্য আইনগত শর্ত ও করদাতার অবস্থার ওপরও। যাদের বার্ষিক আয় নির্ধারিত করমুক্ত সীমা অতিক্রম করে, তাদের রিটার্ন দাখিল করতে হয়। এ ছাড়া ফার্মের অংশীদার, কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডার কর্মচারী এবং আইন দ্বারা নির্দিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণির ব্যক্তির জন্যও রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

ব্যাংকঋণ বা ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ, জমি কিংবা সম্পত্তি নিবন্ধন এবং নির্দিষ্ট কিছু সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র প্রয়োজন হতে পারে। ফলে কারও আয় করমুক্ত সীমার নিচে থাকলেও নির্দিষ্ট সেবা গ্রহণের শর্তের কারণে রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

অনেকে অতীতে ব্যাংকিং কার্যক্রম বা অন্যান্য প্রয়োজনে ই-টিন নিয়েছেন। পরে তাদের কারও আয় কমেছে, কেউ কর্মহীন হয়েছেন, আবার কারও আয় করযোগ্য সীমার নিচে রয়েছে। কিন্তু আয় কমে যাওয়া বা বর্তমানে কর দিতে না হওয়া মানেই রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা শেষ হয়ে যাওয়া নয়।

আরও পড়ুন

পলাতক শক্তির কোনো অপতৎপরতা মেনে নেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২ ঘণ্টা আগে পলাতক শক্তির কোনো অপতৎপরতা মেনে নেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এ ধরনের করদাতাদের প্রথমে নিজেদের করসংক্রান্ত অবস্থা যাচাই করা উচিত। প্রযোজ্য শর্ত পূরণ করলে টিআইএন বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর অফিসে আবেদন করা যেতে পারে। তবে বাতিলের আবেদন অনুমোদন করা হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।

নিজের নামে কোনো বকেয়া রিটার্ন রয়েছে কি না, কিংবা কর অফিস থেকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়েছে কি না, তা জানতে এনবিআরের ই-রিটার্ন পোর্টাল etaxnbr.gov.bd-এ প্রবেশ করে প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে করণীয় জেনে নেওয়া উচিত।

এদিকে আয়কর রিটার্নের জরিমানার পাশাপাশি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন কর কাঠামো নিয়েও করদাতাদের আগ্রহ রয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন কাঠামোয় বিভিন্ন শ্রেণির করদাতার করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ করদাতাদের করের স্ল্যাবেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

আরও পড়ুন

দুই মাসে মাদকের অভিযোগে ২৭ পুলিশ সদস্য কারাগারে: আইজিপি ২ ঘণ্টা আগে দুই মাসে মাদকের অভিযোগে ২৭ পুলিশ সদস্য কারাগারে: আইজিপি

নতুন কাঠামোয় সাধারণ করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। নারী ও ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে এ সীমা ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাইযোদ্ধাদের জন্য ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণের তথ্য দেওয়া হয়েছে।

সাধারণ করদাতাদের প্রস্তাবিত কর কাঠামোয় প্রথম ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত। পরবর্তী ৩ লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ, এর পরবর্তী ৪ লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকার ওপর ২০ শতাংশ এবং পরবর্তী ২০ লাখ টাকার ওপর ২৫ শতাংশ হারে করের কথা বলা হয়েছে। অবশিষ্ট আয়ের ওপর প্রযোজ্য হার ৩০ শতাংশ।

আরও পড়ুন

হামের উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১,৩৫৬ ২ ঘণ্টা আগে হামের উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১,৩৫৬

আগের কাঠামোয় সাধারণ করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। নতুন কাঠামোয় তা ৫০ হাজার টাকা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। তবে করদাতার প্রকৃত করের পরিমাণ নির্ভর করবে তার মোট আয়, প্রযোজ্য করছাড়, বিনিয়োগজনিত সুবিধা এবং সংশ্লিষ্ট বিধানের ওপর।

করদাতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ই-টিন থাকা, করমুক্ত সীমার নিচে আয় থাকা এবং আয়কর রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা—এগুলো এক বিষয় নয়। একইভাবে রিটার্ন জমা না দিলেই প্রত্যেককে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৫ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে, এমন ধারণাও সঠিক নয়।

তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের ভিত্তিতে আতঙ্কিত না হয়ে নিজের করসংক্রান্ত অবস্থা যাচাই করা, প্রযোজ্য সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করা এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর অফিসের পরামর্শ নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। নতুন কর কাঠামোর ক্ষেত্রে চূড়ান্তভাবে কার্যকর আইন ও সরকারি প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে করের হার এবং করমুক্ত আয়ের সীমা মিলিয়ে নেওয়াও জরুরি।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।

বাংলাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন