https://newsbdc.com/national/mvet69iyfz
তারেক রহমানের সফর ঘিরে সাজছে চট্টগ্রাম, চার স্তরের নিরাপত্তা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর ঘিরে বন্দরনগরীতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। দুর্গাপূজার মণ্ডপ সাজানো থেকে শুরু করে সড়ক সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার—সব ক্ষেত্রেই বেড়েছে তৎপরতা। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নগরের রহমতগঞ্জের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফর ও দুর্গাপূজা উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ কাজে পুলিশ, এসআরবি, আনসার ও বিজিবির ২০ হাজারের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) নগরের কাজীর দেউড়ি, জামালখান ও আন্দরকিল্লা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন সড়কে সংস্কার ও কার্পেটিংয়ের কাজ করা হয়েছে। সড়ক বিভাজকে নতুন করে রং দেওয়া হচ্ছে। অপসারণ করা হচ্ছে পোস্টার ও ব্যানার। ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাটও সরানো হয়েছে। অন্যদিকে, জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপে চলছে প্যান্ডেল নির্মাণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও আলোকসজ্জার কাজ।
আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে গুরুত্ব পাবে যেসব বিষয় ১৫ মিনিট আগে
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও বিএনপির স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি আর্থিক অনুদান দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
প্রায় ৪০ মিনিট অবস্থানের পর নগরের হোটেল র্যাডিসন ব্লুতে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাদের পাশাপাশি সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। পরে রাতে তাঁর শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
আরও পড়ুন
রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক ২১ মিনিট আগে
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে প্রধানমন্ত্রী দলীয় নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ, এসআরবি, আনসার ও বিজিবির ২০ হাজারের বেশি সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।
এসআরবি-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এসএসএফের নির্দেশনা ও সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন, মোবাইল টহল ও সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্সও প্রস্তুত রাখা হবে।
আরও পড়ুন
টেক্সটাইল শিক্ষার মানোন্নয়ন ও গবেষণায় গুরুত্বারোপ রাষ্ট্রপতির ৩৪ মিনিট আগে
তিনি জানান, চট্টগ্রাম মহানগরে প্রায় ২ হাজার ৬০০টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। মণ্ডপের সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে আগেভাগেই নিরাপত্তার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে প্রটোকল অনুযায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সাদাপোশাকেও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গেও সমন্বয় করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন
ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কঠোর অভিযানের ঘোষণা ডিএনসিসি প্রশাসকের ৪২ মিনিট আগে
চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি বলেন, বন্দরনগরীর পূজামণ্ডপে প্রধানমন্ত্রী আসছেন—এ খবরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আনন্দের সঞ্চার হয়েছে। তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম আগমন আনন্দের বিষয়। সফর সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবাই কাজ করছেন।
এদিকে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাহবুবের রহমান শামীম। নগর ও জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপেও আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
আরও পড়ুন
নারী ফুটবলের বিকাশে কাজ করছে সরকার: মীর শাহে আলম ১ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে চট্টগ্রামে একদিকে চলছে প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা তৎপরতা, অন্যদিকে পূজার আয়োজনেও যোগ হয়েছে বাড়তি উৎসাহ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, এ সফরের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহাবস্থান ও সৌহার্দ্যের বার্তা আরও জোরালো হবে।
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।