ছবি ভিডিও মতামত
সর্বশেষ
বাংলাদেশ

মোংলা বন্দর উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর সফর, বিনিয়োগ ও শিল্পায়নে নতুন প্রত্যাশা

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১১: ০২
মোংলা বন্দর উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর সফর, বিনিয়োগ ও শিল্পায়নে নতুন প্রত্যাশা
সংগৃহীত

মোংলা সমুদ্রবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন জেটি নির্মাণ, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং উপকূলীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ঘিরে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মোংলা সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা বন্দরকেন্দ্রিক বিনিয়োগ, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা দেখছেন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে মোংলা ও আশপাশের এলাকায় প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের নাব্য সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর হলে মোংলা বন্দর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

আরও পড়ুন

ই-টিন আছে, রিটার্ন দেননি? সবার জরিমানা ৫ হাজার নয় ১ ঘণ্টা আগে ই-টিন আছে, রিটার্ন দেননি? সবার জরিমানা ৫ হাজার নয়

প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে মোংলা বন্দর চ্যানেল, হিরণ পয়েন্ট ও সুন্দরবনসংলগ্ন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করবেন। এ ছাড়া আকরাম পয়েন্ট এলাকায় প্রস্তাবিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থাপনের স্থান দেখার কথা রয়েছে তাঁর। পরে নলিয়ান হয়ে নৌপথে মোংলা নৌবাহিনীর ঘাঁটিতে যাওয়ার এবং বিকেলে বন্দরের জেটি ও অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে।

নতুন জেটি ও চীনা বিনিয়োগে গুরুত্ব

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দরের বর্তমান সক্ষমতা, জেটি এলাকা এবং বড় প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সরেজমিনে মূল্যায়ন করবেন। সফরে চীনা বিনিয়োগে নতুন জেটি নির্মাণ প্রকল্প বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলেও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, চীন সরকারের সঙ্গে চুক্তি হওয়া নতুন জেটি নির্মাণ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি মোংলা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) ও বন্দরসংলগ্ন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্পায়নের গতি বাড়াতে কর্মপরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে।

আরও পড়ুন

ঠাকুরগাঁওয়ে ড্রামের নৌকা ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু ১ ঘণ্টা আগে ঠাকুরগাঁওয়ে ড্রামের নৌকা ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু

মোংলা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ এবং মোংলা-খুলনা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার প্রস্তাবও প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

নাব্য সংকট নিরসন চান ব্যবসায়ীরা

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, মোংলা বন্দরকে চট্টগ্রাম বন্দরের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং সমকক্ষ ও পরিপূরক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

আরও পড়ুন

মেট্রো স্টেশনে বিমানবন্দরের মতো নিরাপত্তা, বসছে স্ক্যানার ২ ঘণ্টা আগে মেট্রো স্টেশনে বিমানবন্দরের মতো নিরাপত্তা, বসছে স্ক্যানার

মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জুলফিকার আলী বলেন, বন্দরের চ্যানেলে পর্যাপ্ত নাব্যতা না থাকায় অনেক বড় বিদেশি জাহাজ সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারে না। এ সমস্যা সমাধানে নিয়মিত ও বিজ্ঞানসম্মত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে চ্যানেলের গভীরতা বজায় রাখা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, বন্দরসংলগ্ন শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহনের সময় ও খরচ কমাতে সড়ক ও রেলপথের কার্যকর ব্যবহার প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

পলাতক শক্তির কোনো অপতৎপরতা মেনে নেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২ ঘণ্টা আগে পলাতক শক্তির কোনো অপতৎপরতা মেনে নেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দুর্নীতি ও অনিয়ম দূর করা না গেলে শুধু ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বন্দরের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ চান তাঁরা।

উপকূলজুড়ে উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও উৎসাহ দেখা গেছে। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সফরটি সরকারি, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক পর্যালোচনাকেন্দ্রিক হওয়ায় কোনো দলীয় জনসভার কর্মসূচি রাখা হয়নি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বন্দর ও যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, আঞ্চলিক বাণিজ্য এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটনেও নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

আরও পড়ুন

দুই মাসে মাদকের অভিযোগে ২৭ পুলিশ সদস্য কারাগারে: আইজিপি ২ ঘণ্টা আগে দুই মাসে মাদকের অভিযোগে ২৭ পুলিশ সদস্য কারাগারে: আইজিপি

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, নতুন জেটি নির্মাণ, নিয়মিত ড্রেজিং, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক সক্ষমতা বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে।

তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ব্যবসায়ীদের উত্থাপিত সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান প্রয়োজন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।

Bangladesh নিয়ে আরও পড়ুন