ছবি ভিডিও মতামত
সর্বশেষ
বাংলাদেশ

জাল রায়, ভুয়া সমন ও নথি গায়েবের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত বিচারক

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১১: ১৩
জাল রায়, ভুয়া সমন ও নথি গায়েবের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত বিচারক
সংগৃহীত

জাল রায় তৈরি করে সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয়ে দাখিল, ভুয়া সমন ব্যবহার করে কর্মস্থল থেকে অনুপস্থিত থাকার অনুমতি নেওয়া, মামলার নথি নিজের জিম্মায় রেখে ফেরত না দেওয়া এবং ঊর্ধ্বতন বিচারকের সঙ্গে কথোপকথন গোপনে রেকর্ড করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে লালমনিরহাটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে করা বিভাগীয় অনুসন্ধানে পাঁচটি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ অক্টোবর তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে আইন মন্ত্রণালয়। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও করা হয়েছে।


বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত অনুসন্ধানে ৫৭ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এতে আদালতের মূল নথি, আদেশ, দিনলিপি, দৈনিক কার্যতালিকা, সমন জারির রেজিস্টার এবং নথি গ্রহণের স্বীকৃতিপত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিচারক, আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনজীবীদের বক্তব্যও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিচারক আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭-এর আওতায় অদক্ষতা ও অসদাচরণের পর্যায়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি একটি দেওয়ানি মামলার রায় জাল করে বিভিন্ন দপ্তরে দাখিলের অভিযোগ দণ্ডবিধির ৪৬৬ ও ৪৭১ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে, তা তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।


ভুয়া সমন তৈরি করে কর্মস্থল ছাড়ার অভিযোগ


অনুসন্ধানের প্রথম অভিযোগটি টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের একটি জিআর মামলা ঘিরে। ২০২৪ সালের ১৬ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর্মস্থলের বাইরে থাকার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন আরিফুল ইসলাম। আবেদনের পক্ষে তিনি একটি আদালতি সমন দাখিল করেন। তাতে ১৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে সাক্ষী হিসেবে হাজির হওয়ার নির্দেশ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।


কিন্তু অনুসন্ধানে মামলার মূল নথির সঙ্গে সমনের তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮ সেপ্টেম্বর মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ছিল না; বরং চার্জ শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল। একজন আইনজীবীর মৃত্যুর কারণে সেদিন আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শুনানিও হয়নি। তা ছাড়া, ৩ সেপ্টেম্বর আরিফুল ইসলামের নামে সমন জারির কোনো আদেশ পাওয়া যায়নি। সমন জারির প্রসেস ইস্যু রেজিস্টারেও সংশ্লিষ্ট স্মারক নম্বর ও তারিখের সমর্থনে তথ্য মেলেনি।


আরও পড়ুন

ই-টিন আছে, রিটার্ন দেননি? সবার জরিমানা ৫ হাজার নয় ১ ঘণ্টা আগে ই-টিন আছে, রিটার্ন দেননি? সবার জরিমানা ৫ হাজার নয়

অনুসন্ধানে সমন তৈরির বিষয়ে আদালতের দুই কর্মচারীর বক্তব্য নেওয়া হয়। তৎকালীন বেঞ্চ সহকারী মহির উদ্দিন জানান, তিনি সমনে সাক্ষী হিসেবে আরিফুল ইসলামের নাম, ঠিকানা ও মামলার নম্বর লিখেছিলেন। তাঁর দাবি, তৎকালীন অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল মোহসীনের নির্দেশে তিনি এটি তৈরি করেন। অন্যদিকে, অফিস সহায়ক মো. শাহাদাত হোসেন জানান, সমনের স্মারক নম্বর ও তারিখ তিনি লিখেছিলেন, যদিও সমনটি না দেখেই ওই তথ্য লিখেছিলেন।


সমনে বিচারকের স্বাক্ষর হিসেবে থাকা স্বাক্ষরটি নিজের বলে স্বীকার করলেও মো. মাহমুদুল মোহসীন বলেন, আরিফুল ইসলামের নামে সমন জারির নির্দেশ তিনি দেননি। তাঁর অজ্ঞাতসারে স্বাক্ষর নেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।


নথি ও সাক্ষ্য পর্যালোচনা করে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত দেন, সমনটি ভুলক্রমে তৈরি হয়নি; বরং কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতি পাওয়ার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা সমন তৈরি ও ব্যবহারের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা রয়েছে। সমন তৈরিতে জড়িত দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।


চার মামলার নথি ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ


দ্বিতীয় অভিযোগটি চারটি দেওয়ানি মামলার মূল নথি নিয়ে। অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রায় লেখার জন্য বেঞ্চ সহকারীর কাছ থেকে নথিগুলো নিজের জিম্মায় নিয়েছিলেন আরিফুল ইসলাম। এ বিষয়ে তাঁর স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত স্বীকৃতিপত্রও পাওয়া গেছে।


বেঞ্চ সহকারী মো. হাবিবুর রহমান অনুসন্ধান কর্মকর্তাকে জানান, নথি নেওয়ার সময় আরিফুল ইসলাম লিখিতভাবে সেগুলো নিজের জিম্মায় থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন। অনুসন্ধানকালে আরিফুল ইসলামও স্বীকৃতিপত্রের লেখা ও স্বাক্ষর নিজের বলে মেনে নেন।


আরও পড়ুন

ঠাকুরগাঁওয়ে ড্রামের নৌকা ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু ১ ঘণ্টা আগে ঠাকুরগাঁওয়ে ড্রামের নৌকা ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু

আদালতের অন্যান্য কর্মচারীও নথিগুলো দীর্ঘদিন ধরে পাওয়া যাচ্ছিল না বলে জানান। সেরেস্তাদার কাজী হাবিবুল্লাহ এবং হিসাবরক্ষক কাম সেরেস্তা সহকারী সনিয়া আক্তারের বক্তব্য অনুযায়ী, মামলাগুলোর রায়ের সার্টিফায়েড কপি চেয়ে আবেদন জমা পড়ার পর নথি না থাকার বিষয়টি সামনে আসে। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরাও জানান, তাঁরা রায়ের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করতে পারেননি।


অন্যদিকে, আরিফুল ইসলাম দাবি করেন, নথিগুলো রায়সহ ফেরত দিয়েছিলেন। এ দাবির পক্ষে তিনি রায়ের কপি দাখিল করেন। তবে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মনে করেন, রায়ের কপি দাখিল করলেই মূল নথি ফেরত দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয় না। তাঁর জিম্মায় নথি থাকার স্বীকৃতিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্যের বিপরীতে নথি ফেরতের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


রায় ঘোষণা নিয়ে মূল নথিতে অসংগতি


তৃতীয় অভিযোগটি শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ সিভিল জজ আদালতের দেওয়ানি মামলা নম্বর ১৬৭/২০২১ নিয়ে। আরিফুল ইসলামের দাবি ছিল, ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি প্রকাশ্য আদালতে মামলাটির রায় ঘোষণা করে তা খারিজ করেছিলেন। পরে জেলা ও দায়রা জজ মো. সোলায়মান নথি তলব করে রায়ের কপি ছিঁড়ে ফেলেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।


কিন্তু অনুসন্ধানে মামলার আদেশ, দিনলিপি ও দৈনিক কার্যতালিকার মধ্যে অসংগতি পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ সেপ্টেম্বরের আদেশে মামলাটি ২৪ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার জন্য নির্ধারিত হয়েছিল। কিন্তু ১৮ সেপ্টেম্বর বাদীপক্ষের আবেদনের পর মামলাটি রায়ের পর্যায় থেকে প্রত্যাহার করে ফের সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নির্ধারণ করা হয়। ওই দিন আরজি সংশোধন এবং একজন সাক্ষীকে পুনরায় তলবের আবেদনও মঞ্জুর করা হয়েছিল।


পরবর্তী নথি অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর মামলায় সাক্ষীর পুনরায় জবানবন্দি নেওয়া হয়। অর্থাৎ সেদিন মামলাটি রায়ের জন্য নির্ধারিত ছিল না। তা সত্ত্বেও দিনলিপি ও দৈনিক কার্যতালিকায় দুই পক্ষের উপস্থিতিতে মামলাটি খারিজ হয়েছে বলে উল্লেখ ছিল। মূল নথিতে ওই তারিখের কোনো রায়ের আদেশ পাওয়া যায়নি।


আরও পড়ুন

মেট্রো স্টেশনে বিমানবন্দরের মতো নিরাপত্তা, বসছে স্ক্যানার ২ ঘণ্টা আগে মেট্রো স্টেশনে বিমানবন্দরের মতো নিরাপত্তা, বসছে স্ক্যানার

এরপর ২৬ সেপ্টেম্বর জেলা জজ আদালতের আদেশে মামলাটি নড়িয়া সিভিল জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে মামলাটি দেওয়ানি ২৯৬/২০২৪ নম্বর পায়। অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানান্তরিত নথিতেও কথিত রায়ের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরাও অনুসন্ধানে বলেননি যে, ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করা হয়েছিল।


আরিফুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি রায় ঘোষণা করে নথি বেঞ্চ সহকারীর কাছে দিয়েছিলেন। তবে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা তাঁর এ বক্তব্যের পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য সমর্থন পাননি। দিনলিপি ও দৈনিক কার্যতালিকায় রায় ঘোষণার তথ্য লেখা এবং পরে ওই রায় বিভিন্ন দপ্তরে দাখিল করার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।


জেলা জজের সঙ্গে কথোপকথন রেকর্ডের অভিযোগ


চতুর্থ অভিযোগটি ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর জেলা ও দায়রা জজ মো. সোলায়মানের খাস কামরায় হওয়া একটি কথোপকথন নিয়ে। বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন বা এসিআর বিষয়ে কথা বলতে সেখানে গিয়েছিলেন আরিফুল ইসলাম। কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি দেওয়ানি মামলা ১৬৭/২০২১-এর রায় ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ তোলেন।


অনুসন্ধানে আরিফুল ইসলাম দাবি করেন, কথোপকথনটি কে রেকর্ড করেছিলেন, তা তিনি জানেন না। ১৭ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে কেউ একটি পেনড্রাইভে রেকর্ডিংটি পাঠিয়েছিল বলে তিনি জানান।


তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো একটি অভিযোগে আরিফুল ইসলাম নিজেই উল্লেখ করেছিলেন, নিজের মোবাইল ফোনে কথোপকথনটি রেকর্ড করে পেনড্রাইভে সংযুক্ত করেছিলেন। অনুসন্ধানে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে তাঁর আগের বক্তব্যের এই অসংগতি তুলে ধরা হয়েছে। সাক্ষীদের বক্তব্যেও কথোপকথনের সময় তাঁর মোবাইল ফোন টেবিলে থাকার তথ্য পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন

পলাতক শক্তির কোনো অপতৎপরতা মেনে নেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২ ঘণ্টা আগে পলাতক শক্তির কোনো অপতৎপরতা মেনে নেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


এসব তথ্যের ভিত্তিতে জেলা জজের অজ্ঞাতে কথোপকথন রেকর্ড করার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা রয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা।


রেকর্ডিং ও সংবাদ প্রকাশ নিয়েও অভিযোগ


পঞ্চম অভিযোগটি ওই কথোপকথনের রেকর্ডিং এবং পরবর্তী সময়ে জেলা জজের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত। অনুসন্ধান প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর একটি সংবাদমাধ্যমে জেলা জজের বিরুদ্ধে রায়ের কপি ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। একই দিনে ইউটিউব ও ফেসবুকেও এ বিষয়ে ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকটি সংবাদ প্রকাশের বিষয়ও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।


আরিফুল ইসলাম অনুসন্ধানে বলেন, এসব সংবাদ সম্পর্কে তিনি জানতেন না এবং সংবাদমাধ্যমগুলো তাঁর বক্তব্য নেয়নি। তবে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা তাঁর ব্যাখ্যা গ্রহণ করেননি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেলা জজের বিরুদ্ধে রায় ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগের পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মূল নথি ও মামলার কার্যক্রম পর্যালোচনাতেও অভিযোগটি সমর্থিত হয়নি।


রেকর্ডিং ব্যবহার করে প্রমাণহীন অভিযোগ প্রচারের বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।


গাজীপুরে মার্কেট নিয়ে বিরোধ, ১৮ মামলার অভিযোগ

আরও পড়ুন

দুই মাসে মাদকের অভিযোগে ২৭ পুলিশ সদস্য কারাগারে: আইজিপি ২ ঘণ্টা আগে দুই মাসে মাদকের অভিযোগে ২৭ পুলিশ সদস্য কারাগারে: আইজিপি


বিচারিক অনুসন্ধানের বাইরেও আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে গাজীপুরের একটি মার্কেটের মালিকানা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিক মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। তাঁর চাচা শ্বশুর তৌহিদুল ইসলাম মজিবর এবং মার্কেটের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সম্পত্তির বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় অন্তত ১৮টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় অন্তত ১৫০ ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে তাঁদের দাবি।


প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় হাজি হোসেন পাইকারি মার্কেটের মালিকানা নিয়ে মজিবরের সঙ্গে তাঁর বড় ভাইয়ের বিরোধ রয়েছে। মজিবরের দাবি, পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারার পর নিজের অংশে তিনি প্রায় ১৫০টি দোকান নিয়ে মার্কেট গড়ে তোলেন। পরবর্তী সময়ে ওই সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে বিরোধ তীব্র হয়।


মজিবরের অভিযোগ, তাঁর বড় ভাইয়ের মেয়ের সঙ্গে আরিফুল ইসলামের বিয়ের পর মামলাগুলোর ক্ষেত্রে বিচারকের পদ ও প্রভাব ব্যবহার করা হয়েছে। গাজীপুর, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও যশোরে চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন, মানব পাচার, ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন। মজিবরের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব মামলার কারণে তাঁকে ২৩ মাস কারাগারেও থাকতে হয়েছে।


তবে মার্কেটের মালিকানা নিয়ে বিরোধ এবং মামলাগুলোর অভিযোগ এখনো সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যের বিষয়। এসব অভিযোগের সত্যতা পৃথকভাবে বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।


অভিযোগ অস্বীকার করে আরিফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেছেন, এটি পারিবারিক বিষয় এবং আদালতে মামলা চলমান। আদালতে যে সিদ্ধান্ত হবে, সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাঁর স্ত্রী মোশাররেফা মোহাম্মদ (রীম) দাবি করেছেন, ওয়ারিশসূত্রে জমির মালিক তিনি। তাঁর বক্তব্য, কিছু জায়গায় তাঁদের অংশ বুঝিয়ে না দিয়ে অন্য পক্ষ দখল করে রেখেছে।


বিচারকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় অনুসন্ধানে পাঁচটি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার বিষয়টি এবং মার্কেট নিয়ে পৃথক বিরোধের অভিযোগ—দুটি ক্ষেত্রেই এখন পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। বিভাগীয় মামলার তদন্তে অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এবং গাজীপুরের সম্পত্তি বিরোধে আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।

Bangladesh নিয়ে আরও পড়ুন