https://newsbdc.com/national/mvrr1pxqc3
নভেম্বরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি: সিইসি
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আগামী নভেম্বরের মধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সহিংসতা ও অনিয়ম ঠেকাতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিইসি বলেন, শুধু একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করাই কমিশনের লক্ষ্য নয়; বরং ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোতেও একই মান বজায় রাখার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চায় ইসি। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সমমান বজায় রাখার পাশাপাশি সম্ভব হলে আরও ভালো নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য রয়েছে।
আরও পড়ুন
শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি আন্দোলনে সহিংসতার উসকানি কারা দিচ্ছে? ৭ ঘণ্টা আগে
রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা চায় ইসি
সিইসি বলেন, একটি ভালো নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়েই কমিশনের দায়িত্ব শেষ হয় না। ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোতেও একই মান বজায় রাখতে সব অংশীজনের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি জানান, কমিশন কোনো পক্ষের চাপ ছাড়াই কাজ করছে। কর্মকর্তাদের পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রার্থীদের সহযোগিতাও জরুরি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হলেও প্রার্থীদের পেছনে রাজনৈতিক সমর্থন থাকতে পারে। এ কারণে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন বলে মনে করেন সিইসি।
আরও পড়ুন
বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী ফ্যান ব্যবহারে ২ হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সম্ভাবনা ৭ ঘণ্টা আগে
ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ও বডি ক্যামেরা
ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন সিইসি। অতীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের শরীরেও ক্যামেরা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং নির্বাচনী অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান সিইসি।
আরও পড়ুন
সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বাড়াতে আইনে পরিণত হচ্ছে অধ্যাদেশ ৭ ঘণ্টা আগে
স্থানীয় নির্বাচন শেষ করতে লাগতে পারে এক বছর
দেশের সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় ১০ মাস থেকে এক বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সিইসি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এবং পরে পৌরসভা নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
তবে এসএসসি পরীক্ষা ও বর্ষা মৌসুমে সম্ভাব্য বন্যার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।
আরও পড়ুন
আগারগাঁও মেট্রো স্টেশন ও সোবহানবাগে ককটেল বিস্ফোরণ ৭ ঘণ্টা আগে
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট আয়োজন এবং প্রবাসী, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও কারাবন্দিদের ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরির বিষয়টিও তুলে ধরেন সিইসি।
ভোটার তালিকা হালনাগাদে অগ্রগতি
২০২৪ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে দায়িত্ব নেওয়ার পর নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ফেরানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানান এ এম এম নাসির উদ্দিন।
তিনি বলেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের জন্য প্রায় ৭৭ হাজার কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রমে প্রায় ১০ লাখ নারী ভোটারকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ২১ লাখের বেশি মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
২০২৭ সালের ছুটির তালিকায় কী থাকছে, জানাল মন্ত্রিসভা ৭ ঘণ্টা আগে
সাংবাদিকদের ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের সুযোগ, নির্বাচনী কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির ওপরও গুরুত্ব দেন সিইসি। পাশাপাশি নারী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়াতে সামাজিক সচেতনতা এবং তরুণদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।
ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেটিই কমিশনের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান সিইসি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক ও ভোটারদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।