https://newsbdc.com/national/mw56xffhbt
সব ধর্মাবলম্বীর অংশগ্রহণে মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই: ডেপুটি স্পিকার
সব ধর্মাবলম্বীর অংশগ্রহণে সাম্য, স্বাধীনতা ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে চায় সরকার বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
তিনি বলেন, পরিচয়ের ক্ষেত্রে পাহাড়, সমতল, জাতি-গোষ্ঠী কিংবা ধর্ম কোনো বিভাজনের কারণ হতে পারে না। আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক, আমরা বাংলাদেশি।
শুক্রবার রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত ‘ঢাকা ওয়ানগালা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন
আগামীকাল জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, দিনভর থাকছে নানা কর্মসূচি ১ ঘণ্টা আগে
ডেপুটি স্পিকার বলেন, সবার সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করে সাম্য, স্বাধীনতা ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার কাজ করছে। প্রত্যেক ধর্মই সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভের কথা বলে। যার যার ধর্মীয় অনুশাসন যথাযথভাবে পালন করলে সমাজব্যবস্থা আরও সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ হবে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে এ বছরের দুর্গাপূজা ছিল অত্যন্ত উৎসবমুখর। এত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর দুর্গাপূজা আগে কখনো এ দেশে পালিত হয়নি। এর অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় মানুষ এখন পরিপূর্ণভাবে ধর্মীয় স্বাধীনতা উপভোগ করতে পারছে।
আরও পড়ুন
সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পুনর্মূল্যায়নে কমিটির নেতৃত্বে আমির খসরু ১ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সমৃদ্ধ ও বিকশিত করতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে কায়সার কামাল বলেন, দেশের সব শ্রেণি ও গোষ্ঠীকে একত্রিত করে তিনি প্রথম ১০টি কালচারাল একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এর মধ্যে নেত্রকোনার দুর্গাপুরেও একটি কালচারাল একাডেমি রয়েছে। দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে এসব প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, সরকার কালচারাল একাডেমির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করতে চায়। ‘ঢাকা ওয়ানগালা-২০২৬’-এর আয়োজকদের আশ্বস্ত করে তিনি জানান, বনানী এলাকায় একটি কালচারাল একাডেমি ও একটি গির্জা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ শিগগিরই নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালের বড়দিন উদযাপন উপলক্ষে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ২ কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের উৎসব আরও প্রাণবন্ত করতে আবেদনের চেয়ে ১ কোটি টাকা বেশি, অর্থাৎ ৩ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
আরও পড়ুন
স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ছিল ঐতিহাসিক: প্রধানমন্ত্রী ১ ঘণ্টা আগে
এ জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশ এমন একজন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব দেখতে চায়, যিনি সব ধর্মের মানুষের প্রতি, মানবতার প্রতি এবং দেশের মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল থেকে প্রত্যেকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হয়ে দেশ একটি নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ পেয়েছে। অতীতকে পেছনে ফেলে সবার অংশগ্রহণে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রত্যেকের মানবিক মর্যাদা থাকবে, সাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হবে।
গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত করতে শ্রেণি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা কামনা করেন ডেপুটি স্পিকার।
আরও পড়ুন
বাণিজ্য, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে সম্পর্ক জোরদারে সম্মত বাংলাদেশ-রাশিয়া ১ ঘণ্টা আগে
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘ঢাকা ওয়ানগালা-২০২৬’-এর নকমা জন দ্রং। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ঢাকা ওয়ানগালার সাবেক নকমা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক দীপঙ্কর রিছিল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর সাদাত, বাংলাদেশে ইউনেস্কোর আবাসিক প্রতিনিধি ড. সুজান ভাইজ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আন্দ্রিয় দ্রং, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির প্রিন্সিপাল অ্যাডভাইজার অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল কবিরসহ অন্য অতিথিরা।
আরও পড়ুন
মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ১ ঘণ্টা আগে
মূল অনুষ্ঠানের শুরুতে ডেপুটি স্পিকার ‘ঢাকা ওয়ানগালা-২০২৬’-এর বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। আলোচনা পর্ব শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। উৎসবে গারো সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।