https://newsbdc.com/business-economy/mvvxqgzw4l
বিশ্ববাজারে স্বর্ণ-রুপার দামে বড় পতন, নেপথ্যে কী?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে পর্যাপ্ত মুনাফা না আসার আশঙ্কায় প্রযুক্তি খাতের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। এর প্রভাবে শুক্রবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম এক বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও ব্যাপকভাবে কমেছে। এই তিন ধাতুর দাম প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে ‘অতিবিক্রীত’ বা ওভারসোল্ড অঞ্চলে প্রবেশ করেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৮৮০ দশমিক ৯৭ ডলারে নেমে আসে। ২০২৫ সালের অক্টোবরের পর এটিই স্বর্ণের সর্বনিম্ন দাম। ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার দর ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৮৯৮ দশমিক ৯০ ডলারে স্থির হয়েছে।
আরও পড়ুন
ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়ল স্বর্ণের দাম, ২২ ক্যারেট ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ৪০ মিনিট আগে
একই সময়ে রুপার দাম ৬ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪৯ ডলারে দাঁড়ায়। গত ১১ মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো রুপার দাম ৫০ ডলারের নিচে নেমেছে। এ ছাড়া প্যালাডিয়ামের দামও প্রতি আউন্স ১ হাজার ডলারের নিচে চলে গেছে।
স্বাধীন ধাতু ব্যবসায়ী তাই ওং বলেন, ‘পরিস্থিতি যেন আকাশ ভেঙে পড়ার মতো। শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নামলে ধাতু খাতেও এর প্রভাব পড়ে। এআই খাতের শেয়ারদর বৃদ্ধির মূল ভিত্তি ছিল ভবিষ্যৎ মুনাফার প্রত্যাশা। কিন্তু এখন সেই ভিত্তিতেই ফাটল দেখা দিতে শুরু করেছে।’
কমার্জব্যাংকের বিশ্লেষকরা এক নোটে বলেছেন, শুক্রবার প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের বড় দরপতনের কারণে স্বর্ণসহ অন্যান্য নিরাপদ সম্পদ বাধ্য হয়ে বিক্রি করার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এর ফলে মার্জিন কলের মতো পরিস্থিতিও দেখা দিতে পারে। তবে ভবিষ্যতে মূল্যবান ধাতুগুলোর দাম আবার ঘুরে দাঁড়াবে।
আরও পড়ুন
ডলারের দরপতনে বিশ্ববাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম, নজর যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান তথ্যে ৪১ মিনিট আগে
চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম রেকর্ড ৫ হাজার ৫৯৫ ডলারে পৌঁছেছিল। এরপর থেকে দাম কমেছে ৩০ শতাংশ। দীর্ঘ সময় সুদের হার বেশি থাকার আশঙ্কা এবং এশিয়ার বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় স্বর্ণের দামে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের দাম যখনই প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের নিচে নামে, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর চাহিদা বাড়তে শুরু করে।
অন্যদিকে, রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের মতো সাদা মূল্যবান ধাতুগুলো স্বর্ণের মতো সুবিধা পাচ্ছে না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রয় এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে চাহিদা স্বর্ণের দামকে সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু এই তিন ধাতুর ক্ষেত্রে এ ধরনের চাহিদা নেই।
আরও পড়ুন
পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে বোর্ডের প্রথম সভা সকাল ১১টায় ১ ঘণ্টা আগে
চলতি সপ্তাহে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম ৭ থেকে ৯ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে স্বর্ণের দাম কমেছে ২ দশমিক ৯ শতাংশ। এতে তিন ধাতুর আপেক্ষিক শক্তি সূচক বা রিলেটিভ স্ট্রেন্থ ইনডেক্স (আরএসআই) গত তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো গভীরভাবে ‘ওভারসোল্ড’ অঞ্চলে প্রবেশ করেছে। বাজার বিশ্লেষণে এটি দরপতনের তীব্র গতির ইঙ্গিত দেয়।
তাই ওং বলেন, ‘সাদা ধাতুগুলোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই দরপতন দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর মতো আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়; বরং এটি দীর্ঘস্থায়ী ও অব্যাহত রয়েছে।’
আরও পড়ুন
শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি দ্রুত ঘোষণা হবে: বিজিএমইএ সভাপতি ১২ ঘণ্টা আগে
শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধির সঙ্গে রুপার বাজার ক্রমেই বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠছিল। তবে এইচএসবিসি জানিয়েছে, শিল্প ও গহনা খাতে রুপার চাহিদা কমছে। ব্যাংকটি আশা করছে, ২০২৭ সালে প্রতি আউন্স রুপার গড় দাম হবে ৬৪ ডলার। চলতি বছরের জন্য তাদের গড় মূল্য পূর্বাভাস ছিল ৭১ ডলার।
বর্তমানে এক আউন্স স্বর্ণ কিনতে ৭৯ আউন্স রুপা প্রয়োজন হচ্ছে, যা গত ১১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। অথচ জানুয়ারিতে স্বর্ণের সমপরিমাণ দাম পেতে প্রয়োজন হতো মাত্র ৪৬ আউন্স রুপা। ওই সময় রুপার দাম রেকর্ড ১২২ ডলারে পৌঁছেছিল।
ঐতিহাসিক হিসাবেও স্বর্ণের তুলনায় রুপার দাম আরও কমার সুযোগ রয়েছে। পরামর্শক সংস্থা মেটালস ফোকাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত স্বর্ণ ও রুপার দামের অনুপাতের গড় ছিল ৮২।
আরও পড়ুন
বাংলাদেশ কমার্স ও প্রিমিয়ার ব্যাংকে পাঁচ স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ ১৩ ঘণ্টা আগে
এদিকে প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম যথাক্রমে গত ১৩ ও ১৭ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। প্যালাডিয়ামের দাম প্রতি আউন্স ১ হাজার ডলারের নিচে নেমে যাওয়ার পাশাপাশি স্বর্ণ ও প্লাটিনামের দামের অনুপাত বেড়ে ২ দশমিক ৭ হয়েছে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর এটিই সর্বোচ্চ।
অটোমোবাইল খাতে চাহিদা কমার আশঙ্কায় প্লাটিনামের দামও চাপের মুখে রয়েছে। সর্বশেষ ধাতুটির দাম ৪ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৪২৫ দশমিক ০২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে প্যালাডিয়ামের দাম কমেছে ৩ শতাংশ। বর্তমানে প্রতি আউন্স প্যালাডিয়াম বিক্রি হচ্ছে ৯৭৬ দশমিক ০৮ ডলারে।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।