https://newsbdc.com/business-world-trade/mw4i5xm4fu
যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে চীন-ভারতের বড় পতন, চাপে বাংলাদেশ
বিশ্বের বৃহত্তম পোশাক আমদানির বাজার যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে পোশাক আমদানি কমেছে ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকেও দেশটির পোশাক আমদানি কমেছে ৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
তবে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী চীন ও ভারতের রপ্তানি কমেছে আরও বেশি। বিপরীতে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটির মোট পোশাক আমদানির মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬৬৮ কোটি ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় তা ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ কম।
আরও পড়ুন
বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে, সপ্তাহে কমতে পারে ১২ শতাংশ ২২ মিনিট আগে
এ সময়ে পোশাক আমদানির পরিমাণ বা ভলিউম কমেছে ৮ দশমিক ১০ শতাংশ। তবে গড় ইউনিট মূল্য বেড়েছে ২ দশমিক ১৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি হয়েছে ৬১৪ কোটি ডলারের, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ কম। এ সময়ে বাংলাদেশের পোশাকের আমদানি ভলিউম কমেছে ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ। একই সঙ্গে গড় ইউনিট মূল্য কমেছে ০ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
আরও পড়ুন
কমেছে শীতকালীন সবজির দাম, বেড়েছে পোল্ট্রি মুরগির ২৪ মিনিট আগে
বিশ্লেষণে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানি কমলেও বাংলাদেশের রপ্তানি তুলনামূলক কম হারে কমেছে। ফলে দেশটির বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্বে বড় ধরনের পতন হয়নি। তবে বাজারে বাংলাদেশের অংশ ১০ দশমিক ৯৯ শতাংশ থেকে কমে ১০ দশমিক ৮৩ শতাংশ হয়েছে।
মাসভিত্তিক হিসাবেও বাংলাদেশের রপ্তানিতে ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমেছে ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ। অথচ এর আগের আগস্টে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ। ফলে এক মাসের ব্যবধানে রপ্তানির প্রবণতায় পরিবর্তন এসেছে।
প্রতিযোগী দেশগুলোর চিত্র
আরও পড়ুন
টানা তিন দফা বৃদ্ধির পর কমল স্বর্ণের দাম ৩১ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে চীন ও ভারত। জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে চীন থেকে পোশাক আমদানি কমেছে ২৩ দশমিক ০৮ শতাংশ। ভারতের ক্ষেত্রে এই পতন আরও বেশি, ২৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। পাকিস্তান থেকেও আমদানি কমেছে ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের প্রতিযোগী ভিয়েতনাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি বেড়েছে ০ দশমিক ২৬ শতাংশ। কম্বোডিয়া থেকে বেড়েছে ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে ২ দশমিক ৮১ শতাংশ।
আরও পড়ুন
শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী-এমপিসহ ২০ জনের ব্যাংক হিসাব জব্দ ৫ নভেম্বর ২০২৬
অর্থাৎ প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে বাজার ধরে রাখা ও সম্প্রসারণে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। চীন ও ভারতের রপ্তানিতে বড় পতনের মধ্যেও ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ক্রেতাদের সোর্সিং সিদ্ধান্ত, পণ্যের দাম, সরবরাহ সক্ষমতা ও উৎপাদন দক্ষতার ওপর প্রতিযোগিতার ফল নির্ভর করছে।
কমছে বাংলাদেশের পোশাকের গড় দাম
রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি পণ্যের গড় ইউনিট মূল্যের প্রবণতাও বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগ তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানিতে গড় ইউনিট মূল্য বেড়েছে ২ দশমিক ১৪ শতাংশ। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা কমেছে ০ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
আরও পড়ুন
স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরিতে বাড়ল ৫ হাজার ৪৮২ টাকা ৫ নভেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহিউদ্দিন রুবেলের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণে এসব চিত্র উঠে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীন ও ভারতের রপ্তানি কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের জন্য সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে শুধু কম দামে পোশাক সরবরাহের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। পণ্যের বৈচিত্র্য, উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদন, উৎপাদনশীলতা, মান এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।