https://newsbdc.com/national/mvas7pugxo
নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্তদের জন্য বাড়তি ১৩ হাজার কোটি টাকা
নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোর আওতায় আসছেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও। দেশের প্রায় ৩১ হাজার এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা ও পেনশন-সংক্রান্ত ব্যয় মেটাতে সরকারের অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে ১৩ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেতন ও ভাতা বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা। বাকি অর্থ প্রয়োজন হবে পেনশন খাতে।
জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদনে উঠে আসা এ হিসাব নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের বাড়তি আর্থিক দায়ের বিষয়টি সামনে এনেছে। সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তাঁদের ক্ষেত্রে কবে থেকে বর্ধিত বেতন-ভাতা কার্যকর হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
আরও পড়ুন
সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠক ৩ ঘণ্টা আগে
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের জন্য চার ধাপে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি মাসে সংশোধিত বেতন ও বকেয়া পরিশোধের প্রত্যাশা থাকলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। অর্থ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় ডিসেম্বরের মধ্যে তাঁদের জন্যও নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা চালুর চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা।
তিনি জানান, ২০১৫ সালেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নে প্রায় ছয় মাস সময় লেগেছিল। এবারও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ের ওপর বাস্তবায়নের সময় নির্ভর করবে।
বর্তমানে দেশে ৩০ হাজার ৯৩২টি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন ৬ লাখ ২ হাজার ৩৫৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী। তাঁদের মধ্যে ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৬২৮ জন শিক্ষক এবং ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩১ জন কর্মচারী। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় রয়েছেন প্রায় চার লাখ শিক্ষক-কর্মচারী, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পৌনে দুই লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৩ হাজারের বেশি।
আরও পড়ুন
৬৪ লাখের বেশি এনআইডি সংশোধন আবেদন নিষ্পত্তি করেছে ইসি ৩ ঘণ্টা আগে
বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পেছনে সরকার বছরে ব্যয় করে ১৯ হাজার ২২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের জন্য বরাদ্দ ১২ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা, মাদ্রাসার জন্য ৫ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ৭৬৭ কোটি টাকা। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে এই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
এমপিও বা মাসিক পে-অর্ডার ব্যবস্থার আওতায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি অনুদান থেকে মূল বেতনের শতভাগ পান। পাশাপাশি চিকিৎসাসহ অন্যান্য ভাতাও দেওয়া হয়। গত বছর তাঁদের বাড়িভাড়া ভাতা মাসিক নির্দিষ্ট এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে মূল বেতনের ১৫ শতাংশ করা হয়। তবে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধিকাংশের নিজস্ব তহবিল থেকে অতিরিক্ত বেতন বা সম্মানী দেওয়ার সামর্থ্য নেই। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারি বরাদ্দই প্রধান ভরসা।
আরও পড়ুন
বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা ৪ ঘণ্টা আগে
এর আগে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতনের বার্ষিক পাঁচ শতাংশ বৃদ্ধির পাশাপাশি আরও পাঁচ শতাংশ বা ন্যূনতম এক হাজার টাকা বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্যও একই সুবিধা কার্যকর করতে অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-১ অনুবিভাগ থেকে পৃথক আদেশ জারি করা হয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকে নতুন বেতন কাঠামোর ক্ষেত্রেও এমপিওভুক্তদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাবে বিদ্যমান গ্রেড, স্তর ও বিষয়ভিত্তিক শ্রেণি অনুযায়ী মূল বেতন এবং বাড়িভাড়া ভাতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এতে শিক্ষক-কর্মচারীদের আয় বাড়ার পাশাপাশি তাঁদের জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়ার সক্ষমতা বাড়তে পারে। তবে কতটা সুবিধা তাঁরা পাবেন, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত বেতন কাঠামো, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট বরাদ্দের ওপর।
আরও পড়ুন
দেশের ৭০ পৌরসভায় ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প নিচ্ছে সরকার ৪ ঘণ্টা আগে
জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রজাতন্ত্রের সরাসরি কর্মচারী নন। এ কারণে তাঁরা কমিশনের আওতাভুক্ত নন। তবে বেসরকারি শিক্ষা খাতের ব্যাপকতা বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের বেতন কাঠামো নিয়েও আলাদাভাবে ভাবার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে নিয়মিত বাজেট বরাদ্দের বিষয়টি উল্লেখ করে আন্তঃমন্ত্রণালয় আলোচনার মাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হলে একদিকে তাঁদের দীর্ঘদিনের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির প্রত্যাশা পূরণের সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব ব্যয়ও বাড়বে। অতিরিক্ত ১৩ হাজার ৩৯২ কোটি টাকার সংস্থান, অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া এবং সময়মতো সুবিধা কার্যকর করাই এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
আরও পড়ুন
ভারত-পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে ক্ষুধা জয়ের অনন্য লড়াইয়ে বাংলাদেশ ৫ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।