https://newsbdc.com/international-middle-east/mvm09d2oi7
ইরানে নতুন করে হামলা না চালানোর আহ্বান আট দেশের
ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলা না চালিয়ে কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) তুরস্কের ইস্তাম্বুলে এক বৈঠকে দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
বৈঠকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মিসরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আরও পড়ুন
সৌদি বিমানবন্দরে ফের হামলা: বাতিল ২২ হাজার বাংলাদেশি যাত্রীর ১৪৪টি ফ্লাইট ১৪ মিনিট আগে
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, বৈঠকে অংশ নেওয়া কোনো দেশই ইরানে নতুন করে সামরিক হস্তক্ষেপ বা হামলার পক্ষে নয়। তাঁর মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ উত্তেজনা বাড়িয়ে সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করতে পারে। যুদ্ধের অবসানে কূটনীতি ও সংলাপই প্রধান পথ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত বাড়লে কোনো পক্ষই লাভবান হবে না। এর প্রভাব জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের বাজারে পড়তে পারে। তাই উভয় পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ১০৯ প্রবাসী আটক ৩ ঘণ্টা আগে
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে উত্তেজনা কমানো জরুরি। শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে সংকটের সমাধান সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা
তুরস্কে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক বলেছেন, ওয়াশিংটন চাইলে শনিবার বা রোববারের মধ্যেই ইরানে হামলা চালাতে পারে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক সমঝোতার জন্যও প্রস্তুত বলে দাবি করেন তিনি।
ব্যারাকের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের লক্ষ্য ইরানের সরকার পরিবর্তন নয়; বরং হুমকি ও জিম্মি পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে বিশ্বে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।
আরও পড়ুন
বিক্ষোভে উত্তাল মণিপুর, আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ২৪ অক্টোবর ২০২৬
বৈঠকে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ, ইয়েমেনের সংঘাত এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের সংকট বিশ্বের অন্যান্য অংশেও প্রভাব ফেলছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালি
আলাদা এক যৌথ বিবৃতিতে তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মিসর ইসরায়েলের দখলদারত্বকে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার অন্যতম উৎস হিসেবে উল্লেখ করে। তারা ফিলিস্তিনে ধ্বংসযজ্ঞ ও মানবিক বিপর্যয় বন্ধের আহ্বান জানায়।
আরও পড়ুন
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘরে তিন দিনের খাবার-পানি রাখার পরামর্শ যুক্তরাজ্যের ২৪ অক্টোবর ২০২৬
একই সঙ্গে হুতি গোষ্ঠীর সামরিক তৎপরতার নিন্দা জানিয়ে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে দেশগুলো। বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তুরস্কের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকের লক্ষ্য ছিল আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং সামরিক উত্তেজনার পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজা।
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।