https://newsbdc.com/sara-desh/mvnlb072yv
টেকনাফে যৌথ বাহিনীর অভিযান, জব্দ ৩ কোটি টাকার কারেন্ট জাল
কক্সবাজারের টেকনাফে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১০ লাখ ১০ হাজার ৮০০ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা এসব জালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি ৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা। পরে জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। একই সঙ্গে মাছ ধরার নৌযান ও বিভিন্ন বোটঘাটেও নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত টেকনাফ পৌরসভার লামার বাজারের বিভিন্ন দোকানে অভিযান চালানো হয়। পরে জব্দ করা জাল কায়ুকখালী খালের পাড়ে নিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
আরও পড়ুন
পর্যটন কার্নিভাল শেষে কুয়াকাটা সৈকত পরিচ্ছন্নতায় ছাত্রদলের দুই শতাধিক নেতাকর্মী ১ ঘণ্টা আগে
মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেয় উপজেলা প্রশাসন। এতে অংশ নেয় টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি), উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর, টেকনাফ মডেল থানা ও টেকনাফ নৌপুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।
অভিযানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার থেকে বিভিন্ন অবৈধ পথে কারেন্ট জাল টেকনাফে প্রবেশ করে স্থানীয় বাজারের দোকানগুলোতে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সাগর ও নাফ নদীতে মাছ ধরার ক্ষেত্রেও এসব জাল ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কারেন্ট জালের ফাঁস অত্যন্ত চিকন হওয়ায় এতে মাছের পোনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রজাতির ছোট-বড় মাছ, চিংড়ি ও অন্যান্য জলজ প্রাণী আটকা পড়ে। এতে মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হতে পারে। দীর্ঘ মেয়াদে নদী ও সাগরে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
আরও পড়ুন
সাঈদীর মামলার বাদীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে তদন্ত দাবি মাসুদ সাঈদীর ২ ঘণ্টা আগে
লামার বাজারে বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল জব্দের পর স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে বাজার ও দোকানে অভিযানের পাশাপাশি টেকনাফের বিভিন্ন বোটঘাট এবং মাছ ধরার নৌযানেও নিয়মিত তল্লাশি চালানোর দাবি জানিয়েছেন জেলেরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী বোটঘাট, নাইট্যংপাড়া, মহেশখালীয়াপাড়া, তুলাতলী, লম্বরী, রাজারছড়া, হাবিবছড়া ও মিঠাপানিরছড়া এলাকার বিভিন্ন মাছ ধরার বোটে কারেন্ট জাল রয়েছে। এ ছাড়া শাহপরীরদ্বীপের মিস্ত্রিপাড়া, ঘোলাচর, পশ্চিমপাড়া, সাদীরপাড়া ও দক্ষিণপাড়া এলাকাতেও এসব জাল ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন
রংপুরে অটোরিকশা চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে নিহত ২ ৪ ঘণ্টা আগে
বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীপাড়া, শীলখালী, বড় ডেইল, কচ্ছপিয়া ও মাথাভাঙ্গা এবং সাবরাং ইউনিয়নের কাটাবনিয়া, বাহারছড়া, খুরেরমুক ও মুন্ডার ডেইল নৌঘাটের মাছ ধরার বোটেও কারেন্ট জাল ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
জেলেরা বলছেন, শুধু বাজার ও দোকানে অভিযান চালিয়ে কারেন্ট জালের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। সাগর ও নাফ নদীতে মাছ ধরার বোটগুলোতেও নিয়মিত তল্লাশি চালানো প্রয়োজন। যেসব বোটে নিষিদ্ধ জাল মজুত বা ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলো চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি অবৈধ জালের সরবরাহকারী, বিক্রেতা ও ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ চান স্থানীয় জেলেরা।
আরও পড়ুন
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার ৪ ঘণ্টা আগে
টেকনাফ নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. আতিকুর হক বলেন, যৌথ বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে। টেকনাফের সব নৌঘাটে মাছ ধরার বোটে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। কারেন্ট জাল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।
উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহরুল হক জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অবৈধ কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী, উপ-অধিনায়ক মেজর মুবাশশির নাকিব তরফদার, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী, টেকনাফ নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. আতিকুর হক এবং উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহরুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন
দুই সপ্তাহ পর খুলছে রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দর, ফ্লাইট চালুর ঘোষণা ৫ ঘণ্টা আগে
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মৎস্যসম্পদ রক্ষা, মাছের পোনা সংরক্ষণ এবং নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধভাবে কারেন্ট জাল আনা, মজুত, বিক্রি ও ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বাজার ও দোকানের পাশাপাশি টেকনাফের বিভিন্ন বোটঘাট, নাফ নদী ও সাগরে মাছ ধরার নৌযানেও নিয়মিত অভিযান চালানো হবে। তাঁদের মতে, সরবরাহ থেকে শুরু করে মজুত ও ব্যবহার—সব পর্যায়ে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ রক্ষাও সহজ হবে।
সারা দেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।