https://newsbdc.com/national/mvbzi0cju6
উর্বর মাটি রক্ষায় খাল খনন ও ইটভাটা নিয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনা
কৃষিজমির উর্বরতা রক্ষা এবং ফসল উৎপাদন কমে যাওয়া ঠেকাতে ইটভাটায় কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপসয়েল) ব্যবহারের প্রবণতা কমাতে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনার আওতায় সারাদেশে খাল খননের পর পাওয়া উদ্বৃত্ত মাটি সংগ্রহ করে তা বৈধ ইটভাটায় ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এতে একদিকে খনন করা মাটির পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে ইট তৈরিতে কৃষিজমির টপসয়েল ব্যবহারের প্রবণতা কমবে বলে আশা করছে সরকার।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন
নারী ফুটবলের বিকাশে কাজ করছে সরকার: মীর শাহে আলম ১১ মিনিট আগে
খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে কৃষিজমির টপসয়েল সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অপরিকল্পিতভাবে ইটভাটায় কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহারের কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ উর্বর মাটি হারিয়ে যাচ্ছে। এতে জমির উৎপাদনশীলতা কমার পাশাপাশি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের প্রচেষ্টাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে নতুন একটি পাইলট প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। চলতি বছর প্রকল্পটি শুরু করা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে তা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন
দাম্মাম ও রিয়াদগামী ফ্লাইট ৪ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রাখবে বিমান ১৫ মিনিট আগে
প্রতিমন্ত্রী জানান, অক্টোবরের শেষ অথবা নভেম্বরের শুরুতে সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হতে পারে। যেসব এলাকায় খাল খনন করা হবে, সেসব এলাকার জেলা প্রশাসকদের বৈধ ইটভাটার মালিকদের এ কর্মসূচির আওতায় আনার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। খনন শেষে উদ্বৃত্ত মাটি নির্ধারিত ইটভাটায় সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
এতে ইট তৈরির জন্য কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি সংগ্রহের প্রবণতা কমার পাশাপাশি খাল খননের মাটিও কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, কৃষিজমির টপসয়েল নষ্ট হতে দেওয়া হবে না—এ বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থান রয়েছে। উর্বর কৃষিজমি রক্ষা করতে হলে ইটভাটায় টপসয়েলের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে হবে।
আরও পড়ুন
ই-টিন আছে, রিটার্ন দেননি? সবার জরিমানা ৫ হাজার নয় ২ ঘণ্টা আগে
ইটভাটার মালিক সমিতির নেতাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইটভাটাগুলোর তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি দেশে ব্লক ইটের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে প্রচলিত ইট উৎপাদনে মাটির ব্যবহার কমবে এবং ইটভাটাগুলো ধীরে ধীরে ব্লক ইট উৎপাদনের দিকে যেতে পারবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় নদী ও খাল খননে বাস্তব জটিলতা থাকলেও দেশের অধিকাংশ এলাকায় এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন
ঠাকুরগাঁওয়ে ড্রামের নৌকা ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু ২ ঘণ্টা আগে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, টপসয়েল হলো কৃষিজমির উপরিভাগের পুষ্টিসমৃদ্ধ মাটি, যেখানে জৈব পদার্থের পরিমাণ বেশি থাকে। এই জৈব পদার্থ ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং মাটির উর্বরতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি বলেন, টপসয়েল সরিয়ে নেওয়া হলে দীর্ঘমেয়াদে জমির উৎপাদনশীলতা কমে যেতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত জমিকে আবার উৎপাদন উপযোগী করতে অতিরিক্ত সার ও অন্যান্য উপকরণের প্রয়োজন হতে পারে, যা কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়ায়।
এর আগে ২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’ জাতীয় সংসদে পাস হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া আবাদযোগ্য জমির উপরিভাগের মাটি কাটলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
আরও পড়ুন
মেট্রো স্টেশনে বিমানবন্দরের মতো নিরাপত্তা, বসছে স্ক্যানার ২ ঘণ্টা আগে
দেশে কৃষিজমির পরিমাণ সীমিত হলেও জনসংখ্যা ও খাদ্যের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। তাই বিদ্যমান জমির উৎপাদনক্ষমতা ধরে রাখা জরুরি। একবার উপরিভাগের উর্বর মাটি সরিয়ে নিলে জমির স্বাভাবিক উর্বরতা ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। এ কারণে ইট তৈরির মতো কাজে কৃষিজমির টপসয়েল ব্যবহার কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, খাল খনন, বৈধ ইটভাটার তালিকা প্রণয়ন, উদ্বৃত্ত মাটির ব্যবস্থাপনা এবং ব্লক ইটের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে এর পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।