https://newsbdc.com/national/mvgc7ilbdu
সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকায় ৫ হাজার ৮৩০টি পুলিশের গাড়ি কেনার উদ্যোগ
পুলিশের অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়াতে ৬ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ হাজার ৮৩০টি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের ৬৩৯টি প্রশাসনিক থানা, ৭৩টি হাইওয়ে থানা ও ২৪টি রেলওয়ে থানাসহ মোট ৭৩৬ থানার কার্যক্রম গতিশীল করতে এসব যানবাহন কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাধারণ টহলযানের পাশাপাশি রায়ট কন্ট্রোল ভেহিক্যাল, অল টেরেইন ভেহিক্যাল (এটিভি), স্পিডবোট ও অন্যান্য বিশেষায়িত যানবাহন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সূত্রের বরাতে কালবেলা জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অপারেশনাল যানবাহন ক্রয়’ এবং ‘বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষায়িত যানবাহন ক্রয়’ নামে দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠক ১ ঘণ্টা আগে
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম প্রকল্পে ৪ হাজার ৮২৯টি অপারেশনাল যানবাহন কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩২৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা। দ্বিতীয় প্রকল্পে ১ হাজার ১টি বিশেষায়িত যানবাহন কেনার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ২ হাজার ২৮০ কোটি ১৪ লাখ টাকা।
পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা কালবেলাকে জানান, প্রকল্প দুটির প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মাধ্যমে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য প্রকল্প দুটি উপস্থাপনের কথা রয়েছে। অনুমোদন পেলে ২০২৯ সালের মধ্যে প্রকল্প দুটির বাস্তবায়ন শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন
৬৪ লাখের বেশি এনআইডি সংশোধন আবেদন নিষ্পত্তি করেছে ইসি ১ ঘণ্টা আগে
থানায় যানবাহনের সংকট
প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের ৬৩৯টি প্রশাসনিক থানায় মোট ১ হাজার ২৩৭টি যানবাহন রয়েছে। ফলে থানাপ্রতি গড়ে দুটি গাড়িও নেই। অথচ প্রস্তাব অনুযায়ী, একটি থানায় নিয়মিত টহল ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে সাধারণত অন্তত চার থেকে পাঁচটি পিকআপ বা টহলযান প্রয়োজন হতে পারে।
বর্তমানে পুলিশের বিদ্যমান যানবাহনের প্রায় ৬৪ শতাংশের বয়স ১০ বছরের বেশি। গাড়ির স্বল্পতা ও পুরোনো যানবাহনের কারণে একসঙ্গে একাধিক এলাকায় টহল, অভিযান পরিচালনা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে প্রকল্প প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা ২ ঘণ্টা আগে
প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় নির্বাচন, বড় জনসমাগম কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে একযোগে বিভিন্ন থানায় অতিরিক্ত যানবাহনের প্রয়োজন হয়। পর্যাপ্ত গাড়ি না থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসেবা কার্যক্রমে বিলম্ব হতে পারে।
কেনা হবে বিশেষায়িত যানবাহনও
বিশেষায়িত যানবাহন কেনার প্রকল্পে রায়ট কন্ট্রোল ভেহিক্যাল, অল টেরেইন ভেহিক্যাল, মোবাইল কমান্ড সেন্টার ও ক্রাইম সিন ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব যানবাহন জনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, দুর্গম এলাকায় অভিযান, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন
দেশের ৭০ পৌরসভায় ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প নিচ্ছে সরকার ২ ঘণ্টা আগে
এ ছাড়া নদীপথে টহল, অপরাধী গ্রেপ্তার, জাটকা নিধন প্রতিরোধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদ্ধার ও সহায়তা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদারে স্পিডবোট ও কান্ট্রি বোট কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন ধরে যানবাহন সংকটের কারণে পুলিশের বিভিন্ন কার্যক্রমে সমস্যা হচ্ছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের ৪৫৫টি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া এবং আরও ১ হাজার ৭৪টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এ সংকট আরও বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন
ভারত-পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে ক্ষুধা জয়ের অনন্য লড়াইয়ে বাংলাদেশ ২ ঘণ্টা আগে
প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ
প্রকল্প দুটির সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে গত ১৫ অক্টোবর পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে। কমিটি সঠিক ব্যয় প্রাক্কলন, সরকারি ক্রয়বিধি অনুসরণ এবং যানবাহনের পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি পুলিশের অনুমোদিত যানবাহনের তালিকার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় আনার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প দুটি এখনো একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন ও পরবর্তী ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই যানবাহন কেনা ও সরবরাহের বিষয়ে চূড়ান্ত অগ্রগতি জানা যাবে।
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।