ছবি ভিডিও মতামত
সর্বশেষ
ইরানের কেশম দ্বীপে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলা আশুলিয়ায় দুষ্কৃতিকারী,শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ রূপগঞ্জে পোশাক কারখানায় ডায়ার কম্প্রেসার বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪ ইসলামিক কুইজে অংশ নিলেই মিলতে পারে ফ্রি ওমরাহ প্যাকেজ শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি আন্দোলনে সহিংসতার উসকানি কারা দিচ্ছে? বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী ফ্যান ব্যবহারে ২ হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সম্ভাবনা সুনামগঞ্জে ভয়াবহ আগুনে ১৩ বসতঘর পুড়ে ছাই সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বাড়াতে আইনে পরিণত হচ্ছে অধ্যাদেশ আগারগাঁও মেট্রো স্টেশন ও সোবহানবাগে ককটেল বিস্ফোরণ গাজীপুরে তুরাগ নদে ডুবে পোশাকশ্রমিকের মৃ/ত্যু, ৩ ঘণ্টা পর মর/দেহ উদ্ধার
বাংলাদেশ

নভেম্বরের মধ্যে সব পাঠ্যবই সরবরাহের লক্ষ্য, প্রাথমিকের ছাপা ৯৩ শতাংশ

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০: ৩৮
নভেম্বরের মধ্যে সব পাঠ্যবই সরবরাহের লক্ষ্য, প্রাথমিকের ছাপা ৯৩ শতাংশ
সংগৃহীত

২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই তুলে দিতে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব বই উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) তথ্য অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের বই ছাপার কাজ এগিয়ে থাকলেও মাধ্যমিক স্তরে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বই মুদ্রণ বাকি রয়েছে।

এনসিটিবির ২৮ অক্টোবরের মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তর মিলিয়ে বই ছাপার অগ্রগতি প্রায় ৯৩ শতাংশ। অন্যদিকে ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিক স্তর মিলিয়ে ছাপা হয়েছে প্রায় ৫৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ বই। বিশেষ করে অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির বই মুদ্রণের ধীরগতিতে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এবার ১১৩টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান ৬২৩টি লটে বই ছাপানোর কাজ পেয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি স্তর মিলিয়ে মোট ৩০ কোটি ৭১ লাখ ৯৮ হাজার ১০১টি বই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বইও এ পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত।

আরও পড়ুন

আশুলিয়ায় দুষ্কৃতিকারী,শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ১০ মিনিট আগে আশুলিয়ায় দুষ্কৃতিকারী,শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

প্রাথমিকের বই ছাপায় অগ্রগতি বেশি

এনসিটিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক স্তরের ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০টি বইয়ের মধ্যে ৫৬ লাখ ২৮ হাজার ১৫৩টি ছাপা হয়েছে। এ স্তরে মুদ্রণ অগ্রগতি ৯৮ দশমিক ২১ শতাংশ।

প্রাথমিকের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৭ কোটি ৬০ লাখ ৯৭ হাজার ৯৬টি বই ছাপানোর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ছাপা হয়েছে ৬ কোটি ৬৬ লাখ ২৯ হাজার ১৭৩টি, যা লক্ষ্যমাত্রার ৮৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

ইবতেদায়ি স্তরে ৪ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৫৭৪টি বইয়ের মধ্যে ছাপা হয়েছে ২ কোটি ৬৭ লাখ ১০ হাজার ৭৮৪টি। এ স্তরে মুদ্রণ অগ্রগতি ৬৪ দশমিক ১৫ শতাংশ।

আরও পড়ুন

শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি আন্দোলনে সহিংসতার উসকানি কারা দিচ্ছে? ৯ ঘণ্টা আগে শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি আন্দোলনে সহিংসতার উসকানি কারা দিচ্ছে?

অন্যদিকে মাধ্যমিক স্তরের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১৭ কোটি ৯৫ লাখ ৪৩ হাজার ১৮টি বই ছাপানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে ছাপা হয়েছে ৯ কোটি ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৫৬টি বই, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৫১ দশমিক ১৮ শতাংশ।

৩২ প্রেসকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

নির্ধারিত সময়ে বই ছাপার কাজ শেষ করতে পিছিয়ে থাকা মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে এনসিটিবি। সংস্থাটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানিয়েছেন, কাজের গতি কম থাকায় ইতোমধ্যে ৩২টি প্রেসকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে এসব প্রতিষ্ঠানের কাজ বাতিল করে অন্য প্রেসের মাধ্যমে মুদ্রণ সম্পন্ন করা হতে পারে।

তিনি জানান, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের বই ছাপার কাজ ৯০ শতাংশের বেশি শেষ হয়েছে। তবে অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির বই ছাপার অগ্রগতি তুলনামূলক কম। কয়েকটি লটে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করায় কাজের গতি ব্যাহত হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী ফ্যান ব্যবহারে ২ হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সম্ভাবনা ৯ ঘণ্টা আগে বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী ফ্যান ব্যবহারে ২ হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সম্ভাবনা

বইয়ের মান ও মুদ্রণকাজের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে এনসিটিবি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ৫৩টি মনিটরিং দল কাজ করছে।

নিম্নমানের ফর্মা ও বই বাতিল

এনসিটিবির মনিটরিং প্রতিবেদনের বরাতে জানানো হয়েছে, মানদণ্ড পূরণ না করায় ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের ৯ লাখ ফর্মা এবং ১২ হাজার নিম্নমানের ছাপানো বই বাতিল করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বাড়াতে আইনে পরিণত হচ্ছে অধ্যাদেশ ৯ ঘণ্টা আগে সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বাড়াতে আইনে পরিণত হচ্ছে অধ্যাদেশ

এনসিটিবির চেয়ারম্যান বলেন, বইয়ের মানের প্রশ্নে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে শতভাগ মানসম্মত বই পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।

অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির বই নিয়ে উদ্বেগ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির বই ছাপার কাজ উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ৩ নভেম্বরের মধ্যে এ দুই শ্রেণির ৫০ শতাংশ বই উপজেলা পর্যায়ে সরবরাহ করার কথা। তবে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত কিছু লটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মতো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু জানান, নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুযায়ী বই ছাপা ও সরবরাহের কাজ চলছে। চলতি মাসের মধ্যে প্রাথমিক স্তরের বই মুদ্রণ ৯৮ থেকে ৯৯ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ৩০ নভেম্বরের মধ্যে মাধ্যমিক স্তরের ৯৫ শতাংশের বেশি বই সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন

আগারগাঁও মেট্রো স্টেশন ও সোবহানবাগে ককটেল বিস্ফোরণ ৯ ঘণ্টা আগে আগারগাঁও মেট্রো স্টেশন ও সোবহানবাগে ককটেল বিস্ফোরণ

তিনি আরও জানান, এবার বই গ্রহণের সময় জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সরাসরি বইয়ের মান যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বই গ্রহণের পর মানের বিচ্যুতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

নিম্নমানের বই সরবরাহে ছাড় নয়

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, উপজেলা পর্যায়ে নিম্নমানের কাগজে ছাপানো বই সরবরাহ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত বই সরবরাহে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারের লক্ষ্য, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব উপজেলায় মানসম্মত পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া, যাতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীরা নতুন বই হাতে পায়।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।

Bangladesh নিয়ে আরও পড়ুন