https://newsbdc.com/national/mw0fh85qw8
১৫ শিক্ষক, পরীক্ষার্থী ১৭; পাস করেছেন মাত্র একজন
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটির ফলাফলের এ চিত্র জানা যায়।
আরও পড়ুন
বিচারকের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ, চালকের বিভাগীয় মামলা স্থগিত ৬ মিনিট আগে
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ শিক্ষাবর্ষ থেকে কলেজটির প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। কলেজ পর্যায়ে ১৫ জন শিক্ষকসহ মোট ২২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ১৬ জনই অকৃতকার্য হয়েছেন। কেউ জিপিএ-৫ পাননি।
জীবননগন উপজেলার চারটি সাধারণ কলেজে এবার সম্মিলিত পাসের হার ৫২ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এসব কলেজে মোট ৮০৪ জন পরীক্ষার্থী নিবন্ধিত থাকলেও পরীক্ষায় অংশ নেন ৭৭৭ জন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৪০৯ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৮ জন। অন্যদিকে উপজেলার একমাত্র কারিগরি কলেজ জীবননগন টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র একজন। পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে মোট পাসের সংখ্যা ৪১০।
আরও পড়ুন
ওমরাহ পালনে ২২ সদস্যকে সৌদি আরব পাঠাচ্ছে আনসার-ভিডিপি ৩৯ মিনিট আগে
মাত্র ১৭ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে ১৫ জন শিক্ষক কর্মরত থাকার পরও এমন ফল কেন—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা এবং কলেজের একাডেমিক তদারকি যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
আরও পড়ুন
বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ ৪৪ মিনিট আগে
অভিভাবকদের প্রশ্ন, শিক্ষার্থীদের পেছনে পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকার পরও কেন এমন ফলাফল হলো? স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, বছরের পর বছর শিক্ষকদের নিয়মিত ক্লাস না নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি উদাসীনতার কারণে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান কমেছে।
একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সন্তানদের ভালো ফলাফলের আশায় কলেজে ভর্তি করাই। কিন্তু এত শিক্ষক থাকার পরও যদি শিক্ষার্থীরা পাস করতে না পারে, তাহলে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ কোথায়? কলেজ কর্তৃপক্ষের উচিত শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া। শুধু শিক্ষক থাকলেই হবে না, নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের প্রতি নজরদারিও নিশ্চিত করতে হবে।”
আরও পড়ুন
বে টার্মিনালে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী সিঙ্গাপুরের পিএসএ ৫১ মিনিট আগে
কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. ইমরুল কাদির বলেন, “এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় আমাদের কলেজের ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। বিষয়টি আমাদের জন্য হতাশাজনক। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত না থাকা, পড়াশোনায় অমনোযোগী হওয়া এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির ঘাটতি ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক সংকটও রয়েছে। উচ্চতর গণিত, ইংরেজি এবং তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষার্থীরা দুর্বল ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছি। আগামীতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, দুর্বল শিক্ষার্থীদের বিশেষ পাঠদান এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ফলাফল আর না হয়, সে বিষয়ে আমরা সচেষ্ট থাকব।”
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।