https://newsbdc.com/education/mw0hbuzmay
চাকরি জাতীয়করণসহ শিক্ষকদের আট দফা দাবি
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান সংসদ সদস্য মো. সেলিম ভূঁইয়া বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দিচ্ছেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। অথচ চাকরির নিরাপত্তা, আর্থিক নিশ্চয়তা ও সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে তাঁরা নানা বৈষম্যের শিকার। শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও শিক্ষকদের ভাগ্য পরিবর্তনে চাকরি জাতীয়করণের বিকল্প নেই।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আট দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
আরও পড়ুন
এক দিনের শাটডাউন শেষে চুয়েটে ক্লাসে ফিরলেন শিক্ষার্থীরা ১ ঘণ্টা আগে
প্রথম দাবিতে দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের কথা বলা হয়। লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, দেশের প্রায় ৯৭ শতাংশ শিক্ষার দায়িত্ব পালন করছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা চাকরির নিরাপত্তা, আর্থিক নিশ্চয়তা ও সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতার মুখে রয়েছেন।
জাতীয়করণের সম্ভাব্য আর্থিক হিসাবও তুলে ধরেছে সংগঠনটি। তাদের হিসাব অনুযায়ী, বেতন-ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, বাড়িভাড়া, দুটি উৎসব ভাতা ও বৈশাখী ভাতাসহ জাতীয়করণে বছরে মোট ব্যয় হতে পারে প্রায় ২৬ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের বেতন, সেশন চার্জ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পদ থেকে আয়, সঞ্চিত অর্থের সুদ ও রিজার্ভ ফান্ড থেকে বছরে প্রায় ৮ হাজার ৪০০ কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
আরও পড়ুন
এইচএসসিতে শূন্য পাস ২৯৩ প্রতিষ্ঠান, এমপিও বাতিলের চিন্তা সরকারের ৫ ঘণ্টা আগে
সংগঠনটির উপস্থাপিত হিসাব অনুযায়ী, বিদ্যমান সরকারি ব্যয় ও সম্ভাব্য আয় সমন্বয় করলে জাতীয়করণে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াতে পারে বছরে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। এই অতিরিক্ত ব্যয়ের মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ করে শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মনে করে সংগঠনটি।
দ্বিতীয় দাবিতে দ্রুত নবম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শিক্ষক-কর্মচারীদের ৫০ শতাংশ বেতন প্রদানের মাধ্যমে জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময়ে বেতন স্কেল পরিবর্তন হলেও সব পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মচারী সমানভাবে সুবিধা পাননি বলে দাবি সংগঠনটির।
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এ জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রায় ৬৭৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
আরও পড়ুন
শিক্ষার আধুনিকায়নে এআই ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর তাগিদ শিক্ষামন্ত্রীর ২২ ঘণ্টা আগে
তৃতীয় দাবিতে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের দ্রুত এমপিওভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, অনেক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করছেন। এতে তাঁরা আর্থিক ও সামাজিকভাবে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। শিক্ষক সমাজের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
চতুর্থ দাবিতে বদলিপ্রত্যাশী শিক্ষকদের দ্রুত বদলির ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, হাজার হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকাকে নিজ উপজেলা, জেলা কিংবা বিভাগের বাইরে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করে শিক্ষকতা করতে হচ্ছে। এতে তাঁরা পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবনেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
শিক্ষকদের বদলির জন্য চালু করা সফটওয়্যারেও ত্রুটি রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। সফটওয়্যারের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হলেও কোনো অজ্ঞাত কারণে আবেদনকারীদের বদলির আদেশ দেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি তাদের। এ কারণে সফটওয়্যারের ত্রুটি দূর করে আবেদন নিষ্পত্তি এবং দ্রুত বদলির আদেশ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন
জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের বাজেট পাসে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব: হুইপ অপু ২২ ঘণ্টা আগে
পঞ্চম দাবিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ উৎসব ভাতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা পান। সংগঠনটির মতে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে এই অর্থ দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে যথাযথভাবে ঈদ উদযাপন করা কঠিন। তাই তাঁদের শতভাগ উৎসব ভাতা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
ষষ্ঠ দাবিতে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বাড়িভাড়া প্রদানের আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ বাড়িভাড়া পান। সংগঠনটির দাবি, বর্তমান বাজারদরে এই অর্থ দিয়ে বসবাসের উপযোগী বাড়ি ভাড়া পাওয়া কঠিন। কর্মস্থলে বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে গিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে।
আরও পড়ুন
বিশ্ববিদ্যালয় হবে গবেষণা ও মুক্তচিন্তার কেন্দ্র: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২ নভেম্বর ২০২৬
সপ্তম দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরের বয়সসীমা ৬০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬৫ বছর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির মতে, মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবসরের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের কর্মজীবনের মেয়াদ বাড়ানো প্রয়োজন। এতে তাঁদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা প্রদানে কাজে লাগানো যাবে।
অষ্টম দাবিতে প্রথম থেকে দ্বাদশ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সনদধারীদের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছে। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিগত সরকারের সময়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অনেক সনদধারী বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। তাঁদের অনেকে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন। নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী এসব সনদধারীকে নিয়োগের আশ্বাস দিয়েছিলেন উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।