https://newsbdc.com/international/mw0jpjkjaj
পাকিস্তানে এলপিজির দামে আগুন, খাবার কমিয়ে রিকশা চালাচ্ছেন চালকেরা
এখন সারাদিন কাজ করেও আগের আয়ের অর্ধেকের বেশি ঘরে তুলতে পারছেন না ৩৩ বছর বয়সী রশিদ। সংসারের খরচ সামলাতে কমাতে হয়েছে খাবারের পরিমাণও। তার পরিবার এখন দিনে মাত্র দুই বেলা খাবার খায়।
আরও পড়ুন
শান্তি আলোচনার আগে জেলেনস্কির বার্লিন সফর, পাশে দাঁড়াচ্ছে জার্মানি ৪৮ মিনিট আগে
রশিদ পাকিস্তানের হাজারো রিকশাচালকের একজন, যাঁরা যানবাহন চালাতে এলপিজি ব্যবহার করেন। সাধারণত সিলিন্ডারে বিক্রি হওয়া এই গ্যাস রান্না ও ঘর গরম করার কাজে ব্যবহৃত হয়। আওয়ামি রিকশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মজিদ ঘৌরি এলপিজিকে ‘গরিবের জ্বালানি’ বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি জানান, তাঁদের সংগঠনের সদস্যদের প্রায় ৪৩ হাজার অটোরিকশা ও ৮ হাজারের মতো ‘চিংকি’ রয়েছে। চিংকি হলো মোটরসাইকেলচালিত তিন চাকার যান, যা নির্দিষ্ট রুটে যাত্রী পরিবহন করে। এসব যানবাহনের প্রায় ৭০ শতাংশ এলপিজিতে চলে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, গত ১৭ অক্টোবর থেকে পাকিস্তানে এলপিজির দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ওই দিন ইরান সীমান্তের দুটি পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্যাস আমদানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা শুরুর পর এটিই দেশটির সর্বশেষ জ্বালানি সংকট।
আরও পড়ুন
বাংলাদেশ সময় কখন শুরু মার্কিন ভোট, ফল জানা যাবে কবে? ৪৯ মিনিট আগে
পাকিস্তান এলপিজি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্ত বন্ধ হওয়ার আগে প্রতিদিন ইরান থেকে প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি করত পাকিস্তান। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সীমান্ত বন্ধের কয়েক দিনের মধ্যেই ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৬ শতাংশ বেড়ে ৭ হাজার পাকিস্তানি রুপিতে পৌঁছেছে। অর্থাৎ খোলা বাজারে প্রতি কেজি এলপিজির দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৮৩ রুপি।
ইরানের সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তান সরকার সীমান্ত বন্ধের সিদ্ধান্তের পেছনে নিরাপত্তা ও চোরাচালানের বিষয়টি উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর জন্য কারিগরি সমস্যাকে দায়ী করেছে। পরে ইরানের রাষ্ট্রদূত জানান, এলপিজি রপ্তানিসহ কোনো ক্ষেত্রেই ইরান নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। বরং পাকিস্তানের আমদানি-সংক্রান্ত নথিপত্রে পরিবর্তন আনার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আরও পড়ুন
চুক্তি না হলে ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে’ হামলার হুমকি ট্রাম্পের ৫৭ মিনিট আগে
এলপিজির দাম বাড়ায় রশিদ আলীর দৈনিক আয় কমে সর্বোচ্চ ৩ ডলারে নেমেছে। প্রতিদিন রিকশা ভাড়া বাবদ তাঁকে দিতে হয় ৬০০ রুপি। এর বাইরে দিনে চার থেকে পাঁচবার গ্যাস কিনতে হয়। প্রতিবার গ্যাস নিতে খরচ হয় ৩০০ থেকে ৪০০ রুপি। এসব খরচের পাশাপাশি প্রতি মাসে ১১ হাজার রুপি বাড়িভাড়া দিতে হয় তাঁকে। দুই ছোট সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্বও তাঁর কাঁধে।
রশিদ বলেন, ‘আগে এলপিজির দাম কম থাকলে মোটামুটি ভালো আয় করতে পারতাম। এখন ৭০০ থেকে ৮০০ রুপি দিয়ে কি আর সংসার চালানো সম্ভব?’
আরও পড়ুন
নেপালে অবতরণের সময় দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ, নিহত ভারতীয় পর্যটক ২ ঘণ্টা আগে
জ্বালানির দাম বাড়লেও যাত্রীরা আগের ভাড়াই দিতে চান। ফলে বাড়তি খরচের চাপ চালকদের ওপর আরও বেড়েছে। রশিদের ভাষায়, ‘যে দূরত্বের জন্য ২০০ বা ২৫০ রুপি ভাড়া নেওয়া উচিত, যাত্রীরা সেখানে ৮০, ১০০ কিংবা ১৫০ রুপি দিতে চান।’
যাত্রী মোহাম্মদ রমজান জানান, শহরের ভেতরে যাতায়াতের জন্য এক চালক তাঁর কাছে ৫০০ রুপি ভাড়া চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি এর অর্ধেক দিতে চেয়েছিলেন। চালক রাজি না হওয়ায় তিনি সেখান থেকে চলে যান।
এদিকে পাকিস্তানে গত অক্টোবরে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৯ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছেছে। জ্বালানি ও গমের দাম বাড়ার বিষয়টি উল্লেখ করে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত সপ্তাহে সুদের হার বাড়িয়ে ১২ শতাংশ করেছে।
আরও পড়ুন
জাকির নায়েককে ভারতে প্রত্যর্পণ করবে না মালয়েশিয়া ২ ঘণ্টা আগে
গত ৩ এপ্রিল পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম রেকর্ড ৪৫৮ রুপি প্রতি লিটারে পৌঁছায়। যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় দাম এখনো প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।
দুপুরে বাড়ি ফিরে রশিদ জানান, তাঁর দুই ছেলের দুপুরের খাবার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সংসারের টানাপোড়েনে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই রাতেই আবার রিকশা নিয়ে বের হবেন তিনি। গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে কিছু বাড়তি আয়ের আশা করছেন। তাঁর প্রত্যাশা, অন্তত রাতে বাড়ি ফেরার সময় দুই সন্তানের জন্য কিছু খাবার কিনে নিতে পারবেন।
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।