https://newsbdc.com/sara-desh/mw0kdu9a1g
যৌন হয়রানির প্রতিবাদে ১০ শিক্ষার্থীকে ক্লাসের বাইরে রাখার অভিযোগ, বিক্ষোভ
ক্লাসে অংশ নেওয়ার সুযোগ না দেওয়া এবং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ পাঁচ দফা দাবিতে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
আরও পড়ুন
সুন্দরবনে শিকারিদের ফাঁদে দুই হরিণ, জীবিত উদ্ধার ১ ঘণ্টা আগে
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রীদের সঙ্গে কুরুচিপূর্ণ আচরণ, সংবেদনশীল অঙ্গ নিয়ে মন্তব্য এবং ধর্ষণের হুমকি দিয়ে আসছিল। সম্প্রতি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কয়েক ছাত্রীর আপত্তিকর ছবি তৈরি করে ছড়িয়ে দেয় সে। এসব বিষয়ে বিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তাসনিম মুনিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিনের ছেলে। গত অক্টোবরের শুরুতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানালে অভিযুক্তের বাবা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন সহকারী প্রক্টর বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।
আরও পড়ুন
‘ইশ্, প্রধানমন্ত্রী যদি প্রতি মাসে একবার খুলনায় আসতেন’ ১ ঘণ্টা আগে
এরপর ৮ অক্টোবর পরীক্ষা চলাকালে প্রতিবাদী ১০ শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তাঁদের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
তাঁদের দাবি, এরপর থেকে প্রায় ২৫ দিন স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। প্রতিবাদ অব্যাহত রাখলে টিসি দেওয়া এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
সীতাকুণ্ডে আইআইইউসি শিক্ষার্থী নিহত, মহাসড়ক-রেললাইন অবরোধ ২ ঘণ্টা আগে
মঙ্গলবার সকালে এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভের চেষ্টা করলে কর্তৃপক্ষ তাঁদের শ্রেণিকক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তালা ভেঙে বেরিয়ে এসে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। এ সময় ‘হয়রানিমুক্ত স্কুল চাই’ এবং ‘ওর বাবা ডিন হলে আমাদের কি বাবা রিকশাওয়ালা?’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
আরও পড়ুন
২৫০ শয্যার হাসপাতালে ১০০ শয্যার জনবল, ভোগান্তিতে রোগীরা ৩ ঘণ্টা আগে
শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের হয়রানি বন্ধ করা, পাঠদান থেকে বঞ্চিত ১০ শিক্ষার্থীকে অবিলম্বে ক্লাসে ফিরিয়ে নেওয়া এবং প্রভাবমুক্ত স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন।
এদিকে ঘটনা তদন্তে বিদ্যালয় প্রশাসন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে দুই সহকারী প্রক্টরকে নিয়ে কমিটি গঠন করেছে, তাঁদের নিয়েও অনাস্থা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, ওই দুই সহকারী প্রক্টরই বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের একজন অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর প্রতিবেশী। এ ছাড়া তদন্তের নামে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া এবং ভুক্তভোগীদের পরিবারকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেছেন তাঁরা।
আরও পড়ুন
পটুয়াখালীতে ১৩ লাখ টাকার শাপলাপাতা মাছ ও জাটকা জব্দ ৩ ঘণ্টা আগে
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে ওই শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুম থেকে বাইরে রাখা হয়েছে। তবে তদন্ত কমিটি নিয়ে শিক্ষার্থীদের অনাস্থার বিষয়টি আমি জেনেছি। আজকেই উপাচার্যের কাছে গিয়ে এ বিষয়ে পুনরায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’
ভুক্তভোগীদের পরিবারকে চাপ প্রয়োগের অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, বিষয়টি তদন্ত কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হবে। কাউকে হয়রানি করা হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।