https://newsbdc.com/sara-desh/mw0fyphp3r
২৫০ শয্যার হাসপাতালে ১০০ শয্যার জনবল, ভোগান্তিতে রোগীরা
জেলার সাত উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন এ হাসপাতালে। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের দেখা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে অনেককে।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের অধিকাংশ চিকিৎসকের কক্ষ প্রায়ই তালাবদ্ধ থাকে। যাঁরা দায়িত্ব পালন করেন, অতিরিক্ত রোগীর চাপে তাঁরাও যথাযথ সময় দিতে পারেন না। দুপুরের মধ্যেই অনেক চিকিৎসক হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান বলেও অভিযোগ তাঁদের। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে অনেক রোগীকে।
আরও পড়ুন
সীতাকুণ্ডে আইআইইউসি শিক্ষার্থী নিহত, মহাসড়ক-রেললাইন অবরোধ ৫৩ মিনিট আগে
হাসপাতালের সরবরাহ তালিকায় ওষুধের নাম থাকলেও রোগীদের সেগুলো দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের আবতাফ আলী বলেন, ‘এর আগেও দুই দিন এসে টিকিট নিয়েও ডাক্তার দেখাতে পারিনি। আজও এসে ফিরে যাচ্ছি, ডাক্তার নেই। দুই দিনে প্রায় ২০০ টাকার বেশি খরচ হলো, কিন্তু ডাক্তার দেখাতে পারলাম না।’
আরও পড়ুন
পটুয়াখালীতে ১৩ লাখ টাকার শাপলাপাতা মাছ ও জাটকা জব্দ ১ ঘণ্টা আগে
সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুরের রেখা বেগম বলেন, ‘নিজে মেডিসিনের ডাক্তার ও ছেলেকে দাঁতের ডাক্তার দেখানোর জন্য এসেছিলাম। কিন্তু দুটি কক্ষই তালাবদ্ধ। লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটেও ফিরে যাচ্ছি। ডাক্তার তো পেলামই না, উল্টো সারাদিন হয়রানি হতে হলো।’
শুধু বহির্বিভাগ নয়, হাসপাতালের অন্তর্বিভাগেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রোগীদের। শয্যা না পেয়ে অনেককে বারান্দা ও সিঁড়ির নিচে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। হাম, ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্তদের একই জায়গায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রোগী ও স্বজনরা।
আরও পড়ুন
৮০ বস্তা ডিএপি সার জব্দ, ডিলারকে এক মাসের কারাদণ্ড ১ ঘণ্টা আগে
প্রয়োজনীয় ওষুধের অধিকাংশই বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের। হাসপাতালে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন
সাতক্ষীরায় জলবায়ু বাস্তুচ্যুত ৭৫ শতাংশ পরিবার তীব্র খাদ্যসংকটে ১ ঘণ্টা আগে
বোয়ালী এলাকার ভর্তি রোগী আলমউদ্দিন বলেন, ‘বেড না পেয়ে তিন দিন ধরে মেঝেতে শুয়ে কোনোরকমে চিকিৎসা নিচ্ছি। দিনে একবার ডাক্তার আসেন। তিনি যা লিখে দেন, তা দোকান থেকে কিনতে হয়। দুটি পরীক্ষা দিয়েছিলেন, সেগুলোও বাইরে থেকে করিয়েছি। সরকারি হাসপাতাল শুধু নামেই, এখানে চিকিৎসা ও সুবিধা কোনোটাই নেই।’
রোগীদের ভোগান্তির কথা স্বীকার করেছেন গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. আসিফ রহমান। তিনি বলেন, ১০০ শয্যার জনবল ও অবকাঠামো দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল পরিচালনা করতে হচ্ছে। এর ওপর ১০০ শয্যার অনুমোদিত জনবলের মধ্যেও চিকিৎসকসহ প্রায় অর্ধেক পদ শূন্য রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে। আশা করছি, সমস্যার সমাধান হবে।
আরও পড়ুন
পরকীয়া ফাঁসের ভয়ে দম্পতিকে হত্যা, নারী গ্রেপ্তার ১ ঘণ্টা আগে
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ১০০ শয্যার জনবল কাঠামো দিয়েই পরিচালিত হচ্ছে ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি। ১০০ শয্যার জনবল কাঠামো অনুযায়ী চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে মোট ২০৮টি পদ থাকার কথা। এর মধ্যে চোখ, ডেন্টাল, গাইনি, মেডিসিন, সার্জারি, চর্মরোগ বিভাগ ও মেডিকেল অফিসারসহ বিভিন্ন পদে ৪৮ জন চিকিৎসকসহ মোট ৭৮টি পদ শূন্য রয়েছে।
হাসপাতালটিতে প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৭০০ থেকে ৮০০ এবং অন্তর্বিভাগে প্রায় ৪০০ রোগী চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নেন। বিপুলসংখ্যক রোগীর বিপরীতে প্রয়োজনীয় জনবল, শয্যা ও চিকিৎসাসেবার ঘাটতি থাকায় প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীদের দুর্ভোগ।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।