ছবি ভিডিও মতামত
সর্বশেষ
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরে ১৬ লাখের বেশি প্রতিযোগী চাকরি জাতীয়করণসহ শিক্ষকদের আট দফা দাবি বিচারকের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ, চালকের বিভাগীয় মামলা স্থগিত শেখ হাসিনার ট্রাভেল পাস নিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সীতাকুণ্ডে আইআইইউসি শিক্ষার্থী নিহত, মহাসড়ক-রেললাইন অবরোধ নেপালে অবতরণের সময় দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ, নিহত ভারতীয় পর্যটক সরকারি হাসপাতালের পাশে ক্লিনিকের অনুমোদন ফ্যাসিস্ট আমলে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাকির নায়েককে ভারতে প্রত্যর্পণ করবে না মালয়েশিয়া নিরাপত্তা শঙ্কায় সৌদি আরবে এশিয়ান কাপ পিছিয়ে দিল এএফসি ইয়ামাল নয়, লামিনে ইয়ামালই পুরো নাম: জানালেন বাবা
সারা দেশ

সাতক্ষীরায় জলবায়ু বাস্তুচ্যুত ৭৫ শতাংশ পরিবার তীব্র খাদ্যসংকটে

প্রকাশ: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৪: ৩৩
সাতক্ষীরায় জলবায়ু বাস্তুচ্যুত ৭৫ শতাংশ পরিবার তীব্র খাদ্যসংকটে



বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক (খানি) ও পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (প্রাণ) যৌথ গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়। ২০২৬ সালের আগস্টজুড়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার ৩৫টি অনানুষ্ঠানিক বসতির ৩৫৮টি পরিবারের ১ হাজার ৩৪১ জন সদস্যের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে গবেষণাটি পরিচালিত হয়।


গবেষণায় বলা হয়েছে, সাতক্ষীরা পৌরসভার ৪৭টি বসতিতে আনুমানিক ৭ হাজার ৫৭৩টি জলবায়ু বাস্তুচ্যুত পরিবার বসবাস করছে। ২০২৪ সালের জুনের হিসাবের ভিত্তিতে এ সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্য, বর্তমানে বাস্তুচ্যুত পরিবারের সংখ্যা আরও বেশি।


জরিপে অংশ নেওয়া পরিবারের ৭৪ দশমিক ৯ শতাংশ তীব্র এবং ২৩ দশমিক ২ শতাংশ মাঝারি খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। খাদ্যনিরাপদ অবস্থায় থাকা কোনো পরিবার পাওয়া যায়নি। খাবার জোগাড় করতে গিয়ে ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবার উৎপাদনশীল সম্পদ বা প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী বিক্রি করেছে। আর ৯৫ দশমিক ২ শতাংশ পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যরা শিশুদের খাবারের ব্যবস্থা করতে নিজেরা কম খেয়েছেন।

আরও পড়ুন

সীতাকুণ্ডে আইআইইউসি শিক্ষার্থী নিহত, মহাসড়ক-রেললাইন অবরোধ ২৬ মিনিট আগে সীতাকুণ্ডে আইআইইউসি শিক্ষার্থী নিহত, মহাসড়ক-রেললাইন অবরোধ


খাদ্যসংকটের প্রধান কারণ হিসেবে ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবার অর্থসংকট এবং ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবার খাদ্যের উচ্চমূল্যের কথা জানিয়েছে। খাবারের পুষ্টিমানও উদ্বেগজনক। এসব পরিবারে সপ্তাহে গড়ে মাত্র ১ দশমিক ৯ দিন মাছ, মাংস বা ডিম খাওয়ার সুযোগ হয়েছে। দুধ খাওয়ার সুযোগ হয়েছে শূন্য দশমিক ৯ দিন এবং ফল শূন্য দশমিক ৬ দিন।


খাদ্যসংকটের পাশাপাশি নিরাপদ পানির অভাবও প্রকট। গবেষণায় দেখা গেছে, ৯৬ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবার অন্তত আংশিকভাবে লবণাক্ত ও আয়রনযুক্ত অগভীর নলকূপের পানির ওপর নির্ভরশীল। মাত্র ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, তাদের খাবার পানির উৎস সব সময় পাওয়া যায়। গত এক মাসে ৫০ শতাংশ পরিবারের অন্তত একজন সদস্য পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ আনুষ্ঠানিক চিকিৎসা পাননি।


বাসস্থানের নিরাপত্তাহীনতাও বড় সমস্যা। সরকারি জমিতে অনানুষ্ঠানিকভাবে বসবাসকারী ৫৯ শতাংশ পরিবার উচ্ছেদ বা উচ্ছেদের হুমকির মুখে রয়েছে। গত ১২ মাসে ৭৭ দশমিক ১ শতাংশ পরিবারের ঘরে পানি উঠেছে। গবেষকদের মতে, উচ্ছেদের আশঙ্কায় থাকা পরিবারগুলোর পক্ষে ঘরবাড়ি, স্যানিটেশন ও জীবিকার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়ে।


আরও পড়ুন

২৫০ শয্যার হাসপাতালে ১০০ শয্যার জনবল, ভোগান্তিতে রোগীরা ৪১ মিনিট আগে ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ১০০ শয্যার জনবল, ভোগান্তিতে রোগীরা

বাস্তুচ্যুতির সময় ৯২ দশমিক ৭ শতাংশ পরিবার গবাদিপশু বা হাঁস-মুরগি, ৬৩ দশমিক ৪ শতাংশ খাদ্য মজুত, ৪১ দশমিক ১ শতাংশ কৃষিজমি এবং ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ মাছ ধরার সরঞ্জাম হারিয়েছে। আগে কৃষিকাজ, মাছ ধরা ও পশুপালনের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই এখন দিনমজুরি, ভ্যান-রিকশা চালানো কিংবা গৃহকর্মে যুক্ত হয়েছেন।


বাস্তুচ্যুতির আগের তুলনায় ৪৬ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষের আয় কমেছে। আর ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, ঘরবাড়ি হারিয়ে নতুন এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার পর পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্য কমেছে।


সরকারি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রেও পিছিয়ে রয়েছেন এসব মানুষ। মাত্র ৭ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবার কোনো সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। গত ১২ মাসে ৭৯ দশমিক ১ শতাংশ পরিবার সরকারি বা বেসরকারি কোনো সহায়তা পায়নি। সরকারি আবাসন কর্মসূচিতে আবেদন করতে পেরেছে মাত্র ৩ দশমিক ১ শতাংশ পরিবার।


জাতীয় পরিচয়পত্র, স্থায়ী ঠিকানা ও ভোটার নিবন্ধনের জটিলতা এবং প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবকে সহায়তা পাওয়ার প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সহায়তা না পেলে কোথায় অভিযোগ জানাতে হবে, তা জানেন না ৯২ দশমিক ৭ শতাংশ পরিবার।


আরও পড়ুন

পটুয়াখালীতে ১৩ লাখ টাকার শাপলাপাতা মাছ ও জাটকা জব্দ ৪৪ মিনিট আগে পটুয়াখালীতে ১৩ লাখ টাকার শাপলাপাতা মাছ ও জাটকা জব্দ

গবেষণায় বাস্তুচ্যুতির আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি শিক্ষা ও সামাজিক জীবনেও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। ৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ বিদ্যালয়ের বাইরে। ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের মধ্যে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে মাত্র ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ। বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশু-কিশোরদের ৩০ শতাংশ শিশুশ্রমে যুক্ত।


গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাস্তুচ্যুতির ক্ষতি শুধু ঘরবাড়ি, জমি কিংবা সম্পদ হারানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ঠিকানা ও পরিচয় হারানো, সামাজিক বন্ধন ভেঙে যাওয়া, নতুন এলাকায় বৈষম্যের শিকার হওয়া, শিশুদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়া, বাল্যবিবাহ এবং দীর্ঘ অনিশ্চয়তা থেকে তৈরি মানসিক চাপও এর অংশ। এসব ক্ষতি অর্থের হিসাবে সহজে পরিমাপ করা যায় না।


আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ মূল্যায়নের বরাত দিয়ে গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে বাংলাদেশে দুর্যোগের কারণে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ছিলেন। তাঁদের প্রায় ৬৩ শতাংশ ২০২০ সালের এপ্রিলের আগেই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অর্থাৎ, অনেকের জন্য বাস্তুচ্যুতি সাময়িক সংকট নয়, বরং দীর্ঘস্থায়ী বাস্তবতা।


এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ‘এশিয়া-প্যাসিফিক ক্লাইমেট রিপোর্ট ২০২৬’-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, পানির সংকট ও কৃষি উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণ জলবায়ু অভিবাসীতে পরিণত হতে পারেন।

আরও পড়ুন

৮০ বস্তা ডিএপি সার জব্দ, ডিলারকে এক মাসের কারাদণ্ড ৪৫ মিনিট আগে ৮০ বস্তা ডিএপি সার জব্দ, ডিলারকে এক মাসের কারাদণ্ড


গবেষণায় বাংলাদেশের বিদ্যমান নীতিমালা ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে বড় ব্যবধানের কথাও বলা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জাতীয় কৌশলপত্র ২০২১-এ বাস্তুচ্যুত মানুষের সামাজিক ভাতা অব্যাহত রাখা, নতুন ঠিকানায় জাতীয় পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ব্যবস্থা, ভূমির নিরাপত্তা, জীবিকা সহায়তা এবং কাগজপত্রের অভাবে শিশুদের শিক্ষাবঞ্চিত না করার অঙ্গীকার রয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০২২-২০৪২, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ২০২৩-২০৫০ এবং বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনাতেও এসব বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।


তবে গবেষণার তথ্য বলছে, এসব অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন এখনো সীমিত। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ কম, ভূমির নিরাপত্তা নেই এবং বিপুলসংখ্যক শিশু শিক্ষার বাইরে রয়েছে।


আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনাতোলিয়ায় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সম্মেলনে বাংলাদেশের অবস্থানে জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার, খাদ্যনিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের বিষয়গুলো গুরুত্ব দেওয়ার সুপারিশ করেছে খানি ও প্রাণ।


আরও পড়ুন

পরকীয়া ফাঁসের ভয়ে দম্পতিকে হত্যা, নারী গ্রেপ্তার ৫৪ মিনিট আগে পরকীয়া ফাঁসের ভয়ে দম্পতিকে হত্যা, নারী গ্রেপ্তার

সংগঠন দুটি বলেছে, জলবায়ু বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য সরকারি খাসজমিতে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন, জরুরি খাদ্যসহায়তা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তি এবং নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পুনর্বাসন ছাড়া কোনো উচ্ছেদ না করা, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার নিবন্ধনের জন্য বসতিভিত্তিক ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্প আয়োজন এবং কাগজপত্রের অভাবে কোনো শিশুকে বিদ্যালয়ে ভর্তি থেকে বঞ্চিত না করার সুপারিশও করেছে তারা।


কপ৩১-এ ক্ষয়ক্ষতি ও বিনষ্টি মোকাবিলা তহবিলের অর্থায়নে বাংলাদেশের জাতীয় কৌশলপত্র বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জলবায়ু অভিযোজনের অর্থায়নে শহরের অনানুষ্ঠানিক বসতিতে থাকা বাস্তুচ্যুত মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি, পূর্বানুমানযোগ্য ও অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠন দুটি।


গবেষণায় বলা হয়েছে, দুর্যোগ শেষ হলেও বাস্তুচ্যুত মানুষের সংকট শেষ হয় না। ঘর হারানোর পর শুরু হয় খাদ্য, পানি, আবাসন, জীবিকা ও মর্যাদা রক্ষার দীর্ঘ লড়াই। তাই শুধু জরুরি ত্রাণ নয়, বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার ও জীবিকার টেকসই পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।


সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন খানি বাংলাদেশের সহসভাপতি রেজাউল করিম সিদ্দিক, ডিজাস্টার ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ গওহার নঈম ওয়ারা, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড পার্টিসিপেটরি রিসার্চের (সিইপিআর) নির্বাহী পরিচালক ও চেয়ারপারসন গৌরাঙ্গ নন্দী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও পিপিআরসির সিনিয়র ফেলো মোহাম্মদ আবদুল ওয়াজেদ, জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার ও উন্নয়ন ফোরামের আহ্বায়ক ফাতেমা বেগম, সাতক্ষীরার স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত এবং একশনএইড বাংলাদেশের ম্যানেজার অমিত রঞ্জন দে।

সারা দেশ থেকে আরও পড়ুন

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।

সারা দেশ নিয়ে আরও পড়ুন