https://newsbdc.com/sara-desh/mw0fi5ufmy
পরকীয়া ফাঁসের ভয়ে দম্পতিকে হত্যা, নারী গ্রেপ্তার
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যশোর জেলা পুলিশের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম।
আরও পড়ুন
সীতাকুণ্ডে আইআইইউসি শিক্ষার্থী নিহত, মহাসড়ক-রেললাইন অবরোধ ২৭ মিনিট আগে
এর আগে গত ৩১ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কেশবপুর উপজেলার ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের প্রভাত বিশ্বাসের ধানক্ষেতে সেচযন্ত্রের পানি পড়ার স্থানে একটি গর্ত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী ও এক পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে কেশবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে এবং পরে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করে।
নিহতরা হলেন আলেক নুর ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী মাজেদা বেগম। এ ঘটনায় তাঁদের মেয়ে সাবিনা খাতুন বাদী হয়ে কেশবপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
আরও পড়ুন
২৫০ শয্যার হাসপাতালে ১০০ শয্যার জনবল, ভোগান্তিতে রোগীরা ৪২ মিনিট আগে
পুলিশ জানায়, মামলা হওয়ার পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে কেশবপুর থানা পুলিশের একটি দল। গত ২ নভেম্বর হত্যায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে জেসমিন বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেসমিন ও নিহত মাজেদা বেগম নওয়াপাড়া আকিজ জুট মিলে কাজ করতেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার মিল বন্ধ থাকায় সকালে বাড়ির কাজ শেষ করে জেসমিন ও মাজেদা ঘাস কাটতে মাঠে যান। এ সময় মাজেদার স্বামী আলেক নুর ইসলামও মাঠে কাজ করছিলেন। মাঠে যাওয়ার পথে জেসমিনের সঙ্গে মোস্তফা নামে এক ব্যক্তির দেখা হয়। পুলিশের দাবি, মোস্তফার সঙ্গে জেসমিনের প্রায় চার থেকে পাঁচ মাস ধরে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল।
আরও পড়ুন
পটুয়াখালীতে ১৩ লাখ টাকার শাপলাপাতা মাছ ও জাটকা জব্দ ৪৫ মিনিট আগে
পুলিশ আরও জানায়, মাঠে জেসমিন ও মোস্তফাকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন মাজেদা। বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় নিজেদের সম্পর্ক গোপন রাখতে তাঁরা মাজেদা ও তাঁর স্বামী আলেককে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, পরে কৌশলে আলেক ও মাজেদাকে ঘেরের পাশে নিয়ে যান জেসমিন ও মোস্তফা। একপর্যায়ে তালতলা এলাকার বেড়ির কাছে পৌঁছালে মোস্তফা তাঁর হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আলেকের শরীর ও মাথায় আঘাত করেন। অন্যদিকে, মাজেদার ওড়না দিয়ে তাঁর গলায় ফাঁস দেন জেসমিন। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে কাঁচি দিয়ে মাজেদার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন
৮০ বস্তা ডিএপি সার জব্দ, ডিলারকে এক মাসের কারাদণ্ড ৪৬ মিনিট আগে
একপর্যায়ে তাঁদের দুজনের মরদেহ পুরোনো সেচযন্ত্রের গর্তে ফেলে রাখা হয়। পুলিশ জানায়, নিহত আলেক শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। আঘাতের পর গর্তে পড়ে যাওয়ায় তিনি আর সেখান থেকে উঠতে পারেননি।
পুলিশের দাবি, জেসমিন ও মোস্তফার সম্পর্ক প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই এ জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। পলাতক মোস্তফা কামালকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তিনি কেশবপুরের মাগুরখালি গ্রামের মৃত কিসমত সরদারের ছেলে।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।