https://newsbdc.com/international/mw0fqf93gs
মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর কি ‘লেম ডাক’ হয়ে পড়বেন ট্রাম্প?
নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করা, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করা কিংবা ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য তদন্তের পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার মতো বিষয় সামনে আসতে পারে। এসব পদক্ষেপ মার্কিন সরকারের কার্যক্রমে নতুন অচলাবস্থা তৈরি করতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ ট্রাম্পকে ‘লেম ডাক’ প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিবেচনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ‘লেম ডাক’ বলতে এমন প্রেসিডেন্ট বা নেতাকে বোঝায়, যাঁর মেয়াদ শেষের দিকে থাকায় রাজনৈতিক প্রভাব ও কর্তৃত্ব আগের তুলনায় কমে আসে। তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হলে ট্রাম্প আরও কঠোর ও প্রতিশোধপরায়ণ অবস্থান নিতে পারেন।
জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক পিটার লজ এএফপিকে বলেন, ‘ট্রাম্প নীরব থাকবেন, এটা আমি বিশ্বাস করি না। অন্তত তাঁর রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন কোনো নমুনা নেই। তিনি কখনো বলেননি যে, হেরে গেছেন। বরং যখনই কোণঠাসা হয়েছেন, তখনই আরও জোরে চিৎকার ও লড়াই করেছেন।’
ভেটো ও প্রতিশোধের রাজনীতি
আরও পড়ুন
নেপালে অবতরণের সময় দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ, নিহত ভারতীয় পর্যটক ২৮ মিনিট আগে
ট্রাম্প নিজেকে বরাবরই লড়াকু হিসেবে তুলে ধরেছেন। ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে তিনি একইভাবে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সম্প্রতি নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা (রিপাবলিকান পার্টি) জিততে না পারলে ডেমোক্র্যাটদের যেকোনো আইন প্রণয়নের উদ্যোগে আমি ভেটো দেব।’ হোয়াইট হাউসও জানিয়েছে, ডেমোক্র্যাটরা কোনো তদন্ত বা অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করলে তার জবাব দিতে তারা প্রস্তুত।
টাইম সাময়িকীকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা সম্ভবত আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে, আমিও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’ তাঁর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য তদন্তের পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তদন্তকারীদের বিরুদ্ধেও বিচার বিভাগকে দিয়ে অনুসন্ধান চালানোর উদ্যোগ নিতে পারেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফলাফল মেনে নিতে চাননি ট্রাম্প। তিনি ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছিলেন, যা পরবর্তী সময়ে ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়। এবার মধ্যবর্তী নির্বাচনেও তাঁর হস্তক্ষেপের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ। বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোর ভোট গণনা চ্যালেঞ্জ করা কিংবা ফল অনুমোদনের প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার চেষ্টা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন
জাকির নায়েককে ভারতে প্রত্যর্পণ করবে না মালয়েশিয়া ৩৫ মিনিট আগে
ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য প্রভাব
পররাষ্ট্রনীতি এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল অবস্থানে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্টেরও ব্যাপক ক্ষমতা থাকে। ফলে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু করতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের রায়ান হাস এএফপিকে বলেন, ‘ট্রাম্প তাঁর যুদ্ধবাজ উত্তরাধিকার চাইবেন, এটা আমি মনে করি না। তিনি চান, তাঁর মেয়াদ শেষে যুক্তরাষ্ট্র আরও শক্তিশালী হোক।’
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথকে ট্রাম্প বরখাস্ত করতে পারেন—এমন জল্পনাও রয়েছে। যুদ্ধের দায় নিতে অনাগ্রহী প্রেসিডেন্ট এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে প্রতিবেদনে সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
ইউক্রেন, রাশিয়া ও বাণিজ্যনীতি
আরও পড়ুন
কৃষ্ণসাগরে জাহাজে হামলা, ন্যাটোর নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ ৪৪ মিনিট আগে
ট্রাম্প নিজেকে শান্তিচুক্তি সম্পাদনে দক্ষ ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরতে পছন্দ করেন। রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে তিনি ইউক্রেনের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে পারেন। এ বিষয়ে আগামী সপ্তাহে নতুন করে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
একই সময়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারেন ট্রাম্প। এই দুই নেতাকে তিনি বিশ্বশক্তির সমকক্ষ হিসেবে বিবেচনা করেন। চলতি মাসের শেষ দিকে চীনে একটি সম্মেলনে তিন নেতার সম্ভাব্য বৈঠক হতে পারে।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের রায়ান হাসের মতে, ন্যাটো ও পশ্চিমা মিত্রদের কয়েকটি দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা কমানোর প্রক্রিয়াও অব্যাহত থাকতে পারে। এমনকি এ প্রক্রিয়ার গতি আরও বাড়তে পারে।
তবে বাণিজ্যনীতির ক্ষেত্রে ট্রাম্প সক্রিয় থাকবেন বলে মনে করেন হাস। কানাডার প্রতি তাঁর সাম্প্রতিক বৈরী মনোভাবেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন
ইসরায়েলি পর্যটকদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল থাইল্যান্ড ৫৩ মিনিট আগে
২০২৮ সালেও আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে চান?
ট্রাম্প সব সময় নিজেকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে পছন্দ করেন। ফলে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের দিকে রাজনৈতিক মনোযোগ চলে যাক, সেটি তিনি সহজে মেনে নেবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নাকি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে সমর্থন করবেন, সে বিষয়ে ট্রাম্প এখনো স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ নেই। ট্রাম্পও এই নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর বিষয়ে ইঙ্গিত দেওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন।
তবে ‘গ্রেট আমেরিকান প্রেসিডেন্টস: দ্য টুয়েলভ হু ট্রান্সফর্মড দ্য নেশন’ বইয়ের লেখক ও আমেরিকান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অ্যালান লিচম্যান মনে করেন, ট্রাম্প ভবিষ্যতেও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী থাকতে চাইবেন।
আরও পড়ুন
গাড়ির ডিকিতে ৩৮০ লিটার জমজমের পানি, জরিমানা ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা ১ ঘণ্টা আগে
তিনি বলেন, ‘কিংমেকার হয়ে ট্রাম্প নিশ্চিতভাবেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে চাইবেন।’
নিজের স্মৃতিচিহ্ন রেখে যাওয়ার পরিকল্পনা
অন্য প্রেসিডেন্টদের মতো ট্রাম্পও মেয়াদের শেষ দিকে নিজের স্থাপত্য ও উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে ওয়াশিংটনে স্থায়ী স্মৃতিচিহ্ন রেখে যাওয়ার বিষয়ে মনোযোগী হতে পারেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেওয়া শেষ ভাষণে তিনি নীতিগত বিষয় নিয়ে খুব বেশি কথা বলেননি। বরং লিংকন মেমোরিয়ালের রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কার এবং ওয়াশিংটনকে আরও সুন্দর করে তোলার বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন।
ওয়াশিংটনে নিজের উপস্থিতির স্থায়ী ছাপ রেখে যাওয়ার আগ্রহের কথা প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর আশঙ্কা, অন্যরা তাঁর হয়ে এসব কাজ করবে না। সোমবার রিফ্লেক্টিং পুলে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘ওয়াশিংটনের জন্য আমাদের অনেক ভালো পরিকল্পনা আছে।’
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।