https://newsbdc.com/sara-desh/mvz2tgpj4g
শ্রমিক আন্দোলনে নাশকতার অভিযোগে নিষিদ্ধ আ.লীগের ২৮ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, নাশকতার চেষ্টা এবং পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠনের ২৮ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও আশপাশের এলাকা থেকে নাশকতার পরিকল্পনা এবং সংঘর্ষের সময় ১১ জনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগ। অন্যদিকে, সহিংসতা চালিয়ে মিছিল বের করার প্রস্তুতির সময় বাকি ১৭ জনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগ।
ডিবির হাতে গ্রেপ্তার ১১ জন
ডিবির হাতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মিরপুরের রূপনগর আওয়ামী লীগের সদস্য ও লোক সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করা মো. কামাল গাজী, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার মো. ওলিউল্লাহ অনিক, মুন্সীগঞ্জের আলিফ হোসেন ইমন, গাইবান্ধার আরিফ আকন্দ, কক্সবাজারের ঈদগা থানার জায়েদ করিম রিয়াজ ও মোয়াজ্জেম শাহরিয়া (নিয়াজ), সাভারের আশুলিয়ার জুবায়েদ ইসলাম জিসান, পঞ্চগড়ের মো. নাহিদ হাসান, মাদারীপুরের মো. মাহিম মোল্লা এবং মিরপুর কাজীপাড়ার আরিফ।
আরও পড়ুন
রূপগঞ্জে পোশাক কারখানায় ডায়ার কম্প্রেসার বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪ ৫ ঘণ্টা আগে
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সক্রিয় নেতাকর্মী। তারা মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়ে শ্রমিকদের আন্দোলনে অংশগ্রহণ এবং নাশকতা ও অগ্নিসংযোগে ইন্ধন দিচ্ছিলেন।
রোববার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিবির মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খান এবং ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) আবু নাসের রিকাবদার।
ডিবির উপকমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার ও গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন জেলার তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী রয়েছেন। তাদের মোবাইল ফোনে বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তারা মাঠপর্যায়ে আন্দোলনে উপস্থিত থেকে এসব গ্রুপে ছবি ও ভিডিও পাঠাচ্ছিলেন। তাদের কাছ থেকে আর্থিক লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্যও পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন
সুনামগঞ্জে ভয়াবহ আগুনে ১৩ বসতঘর পুড়ে ছাই ৫ ঘণ্টা আগে
নাশকতার সমন্বয়কের বিষয়ে পুলিশের দাবি
প্রাথমিক তদন্তের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকার পল্লবী ও রূপনগর (ঢাকা-১৬ আসন) এলাকার পলাতক সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার ভাগনে আলিফ মোল্লা এবং রূপনগর এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মী শুভ নাশকতার মূল ‘সমন্বয়ক’ হিসেবে কাজ করছেন। তারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দলীয় কর্মীদের সংগঠিত করে মিরপুরে নিয়ে এসেছেন বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববারের সহিংসতায় শতাধিক রাজনৈতিক নেতাকর্মী সাধারণ শ্রমিকদের সঙ্গে মিশে উপস্থিত ছিলেন। তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মিরপুর থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ১৭ জনের মধ্যে রাকিব ও আরিফ নামের দুজনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, তারা মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের পাশে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত। তাদের মোবাইল ফোনে গাড়িতে আগুন দেওয়ার ছবি, ভিডিওসহ বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন
গাজীপুরে তুরাগ নদে ডুবে পোশাকশ্রমিকের মৃ/ত্যু, ৩ ঘণ্টা পর মর/দেহ উদ্ধার ৫ ঘণ্টা আগে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রলীগ নেতার পোস্ট
আন্দোলন ঘিরে নতুন করে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ছাত্রলীগ নেতার পোস্ট সামনে এসেছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজিবুল ইসলাম রোববার ফেসবুকে আন্দোলনসংক্রান্ত একাধিক ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। দুপুর ২টা ১৭ মিনিটে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, আওয়ামী লীগ কারও ওপর ভর করে নয়, জনগণের শক্তি নিয়ে ক্ষমতায় আসার কর্মসূচি দেবে।
আরও পড়ুন
তিন চাকার যান বন্ধের দাবিতে বরিশালের ৬ রুটে বাস চলাচল বন্ধ ১২ ঘণ্টা আগে
এর আগে তিনি শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে আন্দোলনের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেন। এসব পোস্টকে কেন্দ্র করে আন্দোলনে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
পুলিশের অবস্থান ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
রোববার বেলা ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে থাকা পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় টিয়ার গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মেট্রোরেলের পল্লবী, মিরপুর-১১ ও মিরপুর-১০ নম্বর স্টেশনে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।
আরও পড়ুন
মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সতর্ক পুলিশ, যান চলাচল স্বাভাবিক ১৪ ঘণ্টা আগে
দুপুরে সংঘর্ষের পর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি শ্রমিকদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এরপরও তারা সড়ক ছাড়ছিলেন না।
তিনি বলেন, পুলিশের কাছে মনে হয়েছে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চক্র যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে।
মহিদুল ইসলাম আরও বলেন, পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের নিয়ে সড়ক পরিষ্কার করা হয়েছে। জনভোগান্তি কমাতে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করা হয়। এ সময় সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে, তবে কোনো লাঠিচার্জ করা হয়নি। সাধারণ কাউকে আটক করা হয়নি এবং পুলিশের কোনো সদস্য আহত হননি বলে জানান তিনি।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।