https://newsbdc.com/international/mvg70yrzcw
সুদানে ড্রোন হামলায় ১৬০ জনের বেশি নিহত
সুদানে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় ১৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে এসব হামলায় সাধারণ মানুষ, বাস্তুচ্যুত পরিবার ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা হতাহত হয়েছেন। চিকিৎসাকর্মী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রাণহানির এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আরও পড়ুন
ইরানে নতুন করে হামলা না চালানোর আহ্বান আট দেশের ৩৯ মিনিট আগে
মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লয়ার্সের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম কর্দোফান রাজ্যের আল-দিবাব শহরের একটি পরিবহন কেন্দ্রে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি ঘটে। বাজার শেষে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন বহু মানুষ। ড্রোন হামলায় ঘটনাস্থলেই অন্তত ৮০ জন নিহত হন। আহত ৪৭ জনকে নিকটবর্তী আল-মুজলিয়াদ শহরে নেওয়া হলে সেখানে আরও ৩০ জনের মৃত্যু হয়।
এই হামলার জন্য সুদানের সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে আধা সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এবং মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লয়ার্স। তবে হামলার দায় ও ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি।
দেশটির নীল নদসংলগ্ন ব্লু নাইল রাজ্যেও ড্রোন হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সেখানে আরএসএফের পরিচালিত হামলায় ৪১ জন বাস্তুচ্যুত মানুষ নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘরে তিন দিনের খাবার-পানি রাখার পরামর্শ যুক্তরাজ্যের ১ ঘণ্টা আগে
এ ছাড়া দক্ষিণ দারফুরের নিয়ালা শহরে ড্রোন হামলায় আরএসএফের সাতজন কর্মকর্তাসহ ১৭ জন নিহত এবং ২৩ জন আহত হয়েছেন।
সুদানজুড়ে অব্যাহত ড্রোন হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক এসব হামলার নিন্দা জানিয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
আরও পড়ুন
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বেড়েছে, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অক্টোবর ২ ঘণ্টা আগে
২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানের সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালোর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এরপর থেকে সংঘাত ক্রমেই বিস্তৃত হয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি দেশটির অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্য সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ৫৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। সংঘাতের কারণে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বিপুলসংখ্যক মানুষের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া এবং খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকট সুদানকে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখে ফেলেছে।
এ পরিস্থিতিতে সুদানে অস্ত্র সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক উদ্যোগও জোরদার করার আলোচনা চলছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের প্রস্তাব তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে চীন ও রাশিয়া এ প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
রিয়াদ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, সতর্কতা জারি ২ ঘণ্টা আগে
সাধারণ মানুষের বসতিপূর্ণ এলাকা ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলার ঝুঁকি বাড়তে থাকায় সুদানে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।